দিবস

অটিস্টিক শিশুর পিতা-মাতার কাছে প্রতিটি দিনই সচেতনতার

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৪
অটিস্টিক শিশুর পিতা-মাতার কাছে প্রতিটি দিনই যেন সচেতনতার দিন বা দিবস। তাদের জন্য ২ এপ্রিল বিশেষ কোন তাত্পর্য বহন করে কি! তবে কখনও একদিন করবে, যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রায় সকল সচেতন ব্যক্তি দায়িত্বশীল হয়ে এগিয়ে আসবে ওদের পাশে, উপলব্ধির ছায়া ছড়াবে বিভিন্নভাবে। আজ সেই বিশেষ দিন ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ সারা বিশ্বে একই সাথে পালিত হচ্ছে এই দিনটি। এটি সপ্তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিস্টিক মানুষগুলো চলনে বলনে একটু আলাদা, কোথাও বিশেষ ভিন্নতা থাকে। অটিজম কোন অসুখ নয়। ওদের মস্তিষ্কের কোথাও একটু আলাদা করে বানিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। সে আমাদের মত গুছিয়ে, বুঝিয়ে কথা বলতে পারে না। তার অর্থ এই নয় যে, সে আমাদের কথা বোঝে না। বলার আগেই সে হয়ত আমাদের বুঝতে পারে, আমরা হয়ত তা বুঝি না। আমি বেশ ক’টি অটিস্টিক শিশুকে দেখেছি যারা যে কোন সালের যে কোন তারিখের দিন অর্থাত্ কি বার ছিল বা হবে বলে দিতে পারে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। আপনি অনেক চেষ্টা করে দেখুন তো পারেন কিনা? এমন কি দু’চার মাস সামনের বা পিছনের কোন দিনের? অটিজম শিশুরা কম কথা বলে, সবার মাঝে থেকেও সে যেন নিজের মধ্যে থাকে। সব কথার উত্তর সে দেয় না বা দিতে চায় না আবার আমাদের মত গুছিয়ে উত্তর দিতে পারেও না। একাকীত্ব পছন্দ করে। সব কিছুতে তার মেনে নেওয়া রুটিন মেনে চলতে চায়। ওদের সুনির্দিষ্ট পছন্দ থাকে। হতে পারে সেটা কোন নির্দিষ্ট খেলনা, খেলা, মিউজিক; আর খাবারের বেলায় তো আছেই। এদের একটি শিশুকে দেখেছি, সে খেলনা কিবোর্ড দিয়ে গানের ও ছড়া গানের মিউজিক বাজাচ্ছে। কারো কাছ থেকে সে শেখেনি কোন দিন। বলুনতো ঐ শিশুটিকে সামাজিক প্রতিষ্ঠা দেয়ার মত কোন প্রতিষ্ঠান কি আমরা দিতে পারব? কে দায়িত্ব নেবে তার? আগেই বলেছি, অটিজম কোন রোগ নয় বা মানসিক ব্যাধি নয়। মস্তিষ্কের গঠনমূলক সমস্যা। এতটাই সূক্ষ্ম যে, কোথায় কেমন সমস্যা যা এখনও সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি। আমরা যেমন এক সাথে দু’তিনটি কাজের সমন্বয় ঘটাতে পারি, ওরা পারে না। ওরা সিঙ্গেল ট্র্যাকের হয়ে থাকে। অর্থাত্ এক সময়ে একটি কাজ করবে এবং অত্যন্ত মনোনিবেশ থাকবে সে কাজে। আবার, এদের মধ্যে একটি প্রকার আছে—অত্যন্ত চঞ্চল, অস্থির ও কম মনোযোগী। এদের সাথে স্বাভাবিক আচরণ দেখিয়ে একটু সময় নিয়ে গুছিয়ে-বুঝিয়ে অনেক কিছু করানো সম্ভব। একা একা নিজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে বলে ওদেরকে সবার কাছ থেকে আলাদা করে রাখলে আরও ক্ষতি হবে ওদের। অনেক বাবা-মা ওদেরকে সবার মধ্যে নিয়ে যেতে বা পরিচয় করিয়ে দিতে লজ্জা বোধ করেন। তাতে আপনার সন্তানের আরও ক্ষতি হলো। ওকে সামাজিক নিয়মাবলীর সাথে আরও পরিচয় করিয়ে দিতে হবে প্রতিনিয়ত। এই অটিজম সচেতনতা দিবসে আমরা সব অভিভাবক, শিক্ষক একটা মননশীল কাজ করতে পারি। আমরা আমাদের প্রতিটি স্বাভাবিক শিশুকে গৃহে এবং স্কুলে/ক্লাসে অটিজম সম্পর্কে জানাতে পারি। প্রতিটি মাও জানবেন এবং জানাবেন আপনার স্বাভাবিক শিশুটিকে যেন সে অটিস্টিক শিশুটির সাথে স্বাভাবিক আচরণ করে, বরং অন্য সব স্বাভাবিক শিশুর চেয়ে একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে মিশে। কখনও যেন ওকে আলাদা প্রমাণ করে ভর্ত্সনা না করে। এই ছোট্ট সচেতনতাটুকু আমাদের শিশুদের অর্থাত্ ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে যাবে, দেশ এগুবে। আপনার অটিস্টিক শিশুকে বেশি বেশি সময় দিন। একই শব্দ অনেক অর্থ বহন করে এমন শব্দ ব্যবহারে ওদের সাথে সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন, গুছিয়ে ভাষার মাধ্যমে নিজকে প্রকাশ করা এদের জন্য কঠিন। ব্যবহারিক ভাষা এদের জন্য সহজ এবং সহজে সেগুলো গ্রহণ করে। মনে রাখবেন, এদের মধ্য থেকেই এসেছে বিশিষ্ট মনীষীগণ-আলবার্ট আইনেস্টাইন, আইজ্যাক নিউটন, মোজার্ট, চার্লস ডারউইন, হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্ডারসন ও মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর মত আরও অনেক।  লেখক :চিকিত্সক ও কবি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন