তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪০
তরুণ সমাজকে যদি অবাস্তব ইতিহাস শিখতে বলা হয় তখন তো তারা হতাশ হতেই পারে আমাদের মহান স্বাধীনতা আসে ১৯৭১ সালে। এর প্রায় ৪৪ বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজ এক কঠিন প্রান্তে এসে হতাশ হয়ে পড়েছে। এর কারণ হলো বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের তরুণ সমাজ এত দিন জানত এদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্ু্ত বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৪৪ বছর পর দাবি জানালেন যে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নাকি জিয়াউর রহমান। আমার মনে হয় তার কথা একদম বানোয়াট। এ দেশের তরুণ সমাজকে যদি এসব অবাস্তব কোন ইতিহাস শিখতে বলা হয় তখন তো তারা হতাশ হতেই পারে। এদেশের তরুণ সমাজ আবার কোন দিন যে আরও বড় রকমের হতাশায় পড়তে পারে তার কোন গ্যারান্টি নাই। আর তাহলে কোন দিন আবার তরুণরা শুনতে পাড়বে যে এদেশের প্রথম প্রধান মন্ত্রীও ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এরকম বানোয়াট কোন খবর শুনলে হতাশ হওয়ার কথাই। তাই এদেশের ইতিহাস টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের এসব গুজব রটানো থেকে বিরত থাকতে হবে তাহলে আমাদের ইতিহাস রক্ষা করা সম্ভব। বাংলাদেশে তরুণরা এখন আর অশিক্ষিত বা পাগল নয় যে, যা তা-ই শিখবে। এদেশের তরুণরা এখন ইতিহাস সম্পর্কে তাদের স্বচ্ছ ধারণা আছে। তাই এখন আর এলোমেলো ইতিহাস বলে লাভ নেই। তাহলে কি করে জিয়া পরিবার দাবি ও গুজব রটান যে, প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এ দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান আছেন এবং সারাজীবন থাকবে। একটি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হয়ে কি করে এসব কথা বলে থাকেন। আমার মনে হয় তিনি একথা বলে পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েছেন। জিয়া পরিবার হতাশ হলেও কি হবে এদেশের তরুণরা তো আর হতাশ হতে পারে না। মো. লিটন মিয়া ব্যবস্থাপনা বিভাগ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ, ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ তরুণ সমাজ হতাশ নয় যদি দেশে শান্তি বিরাজ করে কে চায় দেশে সুদিন ফিরে না আসুক? একটু পিছু ফিরে দেখি ২০১৩ সাল নাগাদ মহাপ্রলয়, ধংসযজ্ঞ, রাজনৈতিক অন্ধকারের অমানিশা, হিংসা, বিদ্বেষ, পৈশাচিক আচরণ, ভাংচুর, হরতাল খুনসহ নানামুখী কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমরা হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীনতা ভোগ করতে। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে অভাব থেকে মুক্তি। একটি দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সে দেশটা সার্বিক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক অন্ত: কলহের কালো থাবায় GDP প্রবৃদ্ধি, GNP, রপ্তানি বিনিয়োগ, আয়, সঞ্চয় সবই নিম্নমুখী ছিল। তাতে তরুণ সমাজ হতাশ হবে না তো বৈকী? আর এই হতাশার গ্লানি থেকে বেড়িয়ে আসার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সে নীতিগুলো- ১। আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন তৈল, গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য ও বাজারজাত করণ। ২। অবকাঠামোর পরিবর্তন যেমন, রাস্তা ঘাট, স্কুুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণ সমাজের হতাশা লাঘবসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা বেগবান করা দু:সাধ্য নয়। মো. মোহাইমিনুল ইসলাম অর্থনীতি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের আলোর পথ দেখাতে হবে হ্যাঁ, তরুণ সমাজ আজ হতাশ। আধুনিক বিশ্বের ডিজিটাল যুগের যাত্রী হলো তরুণ সমাজ। তরুণরাই একটি দেশের কর্ণধার। আমাদের এই দেশকে স্বাধীন করার পেছনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তরুণদের। কিন্তু আজ তরুণদের মাঝে নেই কোন গুরুত্ব কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণরা মাদকাসক্ত হয়ে দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। নেশা তাদেরকে গ্রাস করে ফেলেছে। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি পুড়ুয়া গ্রাম-গঞ্জের বেশির ভাগ তরুণরা নেশায় আক্রান্ত হয়ে গেছে। নেশার টাকার জন্য তারা বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে। কলেজ ক্যাম্পাসগুলোর মধ্যে সন্ধ্যার পরে বাহির হতে পারে না সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম যৌবনের গান প্রবন্ধের মধ্যে তরুণদেরকে নিয়ে যে জয় গান গেয়েছেন তা আজ ধ্বংস করে দিয়েছে মাদকাসক্ত। তাদেরকে এই মরণ রাস্তা থেকে বাঁচাতে হবে, দেখাতে হবে আলোর পথ। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দল, নির্বিশেষে সকলের প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা গড়তে পারি হতাশ মুক্ত তরুণ সমাজ এবং একটি সুন্দর সোনার বাংলাদেশ। মো. আব্দুস সালাম রসায়ন বিভাগ, প্রথম বর্ষ নেত্রকোনা সরকারি কলেজ। আমাদের দেশের কৃষকরা বাঁচলেই আমরা ভাল থাকবো বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের প্রায় ৭০% লোক কৃষির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কৃষির উন্নতি অবনতির উপর নির্ভর করে এদেশের অর্থনীতির উত্থান পতন। কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পেতে কাজে উত্সাহ বাড়বে এবং কাজের মান বাড়বে। এ দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রধান ভূমিকা রাখে তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পেও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন হয় শ্রমিকদের মনোযোগ সহকারে কাজ করা। আমাদের রাজনীতিবিদদের একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন। আর তা হল কৃষক শ্রমিক বাঁচলে জাতি তথা গোটা দেশ বাঁচবে। তাই এদের বাঁচাতে সকলকে দলমত নির্বিশেষে এগিয়ে আসতে হবে। আমার মতো হাজারো তরুণরা তাই ভাবছে বলে ধারণা। মো. রুবেল আশওয়ান বিবিএ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন