রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে নাজমুল শেখ নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ব্যবসায়ীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, যাত্রাবাড়ি থানার এএসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ জন পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই নাজমুলকে পিটিয়েছে।
নাজমুলের ছোট ভাই তৌহিদ শেখ বলেন, সায়েদাবাদ নতুন রাস্তার ২৩/২ নম্বরে এসকে স্টিল মিল নামে তাদের একটি ব্যবসা চালু করছেন। সে জন্য তারা সোমবার রাতে প্রতিষ্ঠান গোছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত সোয়া ১২টায় যাত্রাবাড়ি থানার এএসআই সাইফুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল টিম আসে। এ সময় তারা রাতে দোকান খুলে রাখার কারণ জানতে চায়। এক পর্যায়ে এএসআই সাইফুল নাজমুলের চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে দোকানের বাইরে নিয়ে চড়-থাপ্পড় ও উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।
তৌহিদ আরও বলেন, বড় ভাই (নাজমুল) গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। দোকানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সারাদিন খাওয়া হয়নি। পুলিশকে অনেক অনুরোধ করা হলেও তারা শুনেনি। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে তাদের ছোট দুই ভাইও পুলিশের মারধরের শিকার হন। টেনে হিঁচড়ে চার ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। পুলিশের গাড়িতে নাজমুল অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ধলপুরের কাছে পুলিশ তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেয় ব্যবসায়ীরা।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মুশতাক আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় ওয়ারীর অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জড়িত ৫ পুলিশ সদস্যকে তাত্ক্ষণিকভাবে ক্লোজ (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
