তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২৩
তারুণ্যের শক্তি জাগ্রত থাকলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ আমরা সব সময় বলে থাকি, ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত। কিন্তু একটু সচেতন হলেই ভবিষ্যতকে নিশ্চিত করা যায়। আর এ জন্য আমাদের প্রথমে বর্তমান নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানকালটি যার যত বেশি নিশ্চিত, সে ভবিষ্যতের জন্য তত বেশি প্রস্তুত। আমরা যদি আমাদের এই সময়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে পারি, তবে ভবিষ্যত্ আমাদের কাছে তুলনামূলকভাবে অধিক স্পষ্ট হবে। বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক নৈরাজ্য রুখতে হলে তারুণ্যের দীপ্তি ছড়াতে হবে। তরুণরাই পারে আমাদের ভবিষ্যতকে আলোর পথ দেখাতে। তারুণ্যের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোনো কিছুই ভয়ের হতে পারে না। তাই তারুণ্যের উজ্জ্বল সত্তা বিকশিত করে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নকে সহজ ও স্বাভাবিক করার মতো মহান দায়িত্ব নিতে হবে। আজকের তরুণ প্রজন্মই এখন দেশের একমাত্র ভরসা। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে, মতামত প্রদানে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করে যেতে হবে। মো.জাকির হোসেন মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ, লেভেল-০১ শাহজালাল হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বেকারত্ব দূর করার মাধ্যমেই তারুণ্য শক্তি প্রজ্বলন করা সম্ভব স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হওয়ার পরেও আজ আমাদের তরুণদের মাঝে হতাশা নামক এক কাল ছায়া ছেয়ে গেছে । এর প্রধান কারণ হলো বেকারত্ব। বিখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বেকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন (আইএলও) তথ্যমতে, বর্তমান বাংলাদেশের বেকারের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। বেকারের এধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৫ সালে মোট বেকারের সংখ্যা ছয় কোটিতে দাঁড়াবে। আর এ বেকার সমস্যার কারণে যখন ডিগ্রিধারী তরুণেরা কোন কর্মসংস্থান করতে পারছে না, তখনই তারা অন্ধকার জগতে পা বাড়াচ্ছে। হচ্ছে মাদকাসক্ত আর করছে নানা রকম অপকর্ম। তাই আজ তারা হচ্ছে সমাজের কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত। তাই তরুণ নামের সেই উদ্যম বস্তুটি আজ হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। অন্ধকারে খুঁজে পাচ্ছে না তাদের হারানো সেই তারুণ্য। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, এই সম্পদগুলোর সদ্ব্যবহার করে আমাদের বেকার সমস্যার সমাধান করার জন্য সরকারকে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত সকল স্তরের মানুষকে মাদক সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই আমাদের দেশের তরুণরা আমাদের বোঝা না হয়ে আমাদের সম্পদে পরিণত হবে। নূর আলম ইতিহাস বিভাগ (২য় বর্ষ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ সমাজ আজ বড়ই হতাশাগ্রস্ত পুরানকে ভেঙ্গে চুরে নতুন কিছু করাই তরুণদের ধর্ম। তারুণ্য স্থবির নয়। সর্বদা চঞ্চল। তারা পরাজয় মানতে নারাজ। তরুণদের মেধা ও উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে এ দেশকে বিশ্বের সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু এ তরুণ সমাজ যখন বিপথে পা বাড়ায়, জাতির জন্য তখন তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। আমাদের তরুণ সমাজ আজ বিপথে পা বাড়িয়েছে। বেকারত্ব নামক অভিশাপে ভুগছে। একটা কিছু তো করতে হবে এমন মনোভাব নিয়ে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার, ভর্তি দুর্নীতি, মিছিল, মিটিং, ভাংচুর, প্রতারণা এমন সব কর্মকাণ্ড করছে। শুধু তাই নয়, তারা নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন-হেরোইন, প্যাথেড্রিন, সিডাক্সিন, মরফিন, কোকেন, হাশিস, ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, ভাং, আফিম প্রভৃতিতে আসক্ত হচ্ছে। নেশার টাকা সংগ্রহ করতে তারা চুরি, ছিনতাই, হাইজাক, লুণ্ঠন ইত্যাদি করতে দ্বিধা করছে না। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজ আজ বড়ই হতাশাগ্রস্ত। নূর সালাম খান অনার্স (শেষ বর্ষ) বাংলা বিভাগ সরকারী তিতুমীর কলেজ, ঢাকা। সত্যি তরুণ সমাজ আজ হতাশ কারণও রয়েছে অনেক বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজ নানা কারণে হতাশ। অপসংস্কৃতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গুণগত শিক্ষার অভাব ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক সেশন জট আজ তরুণ সমাজকে হতাশা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রের কথা বলতে গেলে গুণগত শিক্ষার অভাব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সেশন জটকে মনে পড়ে যায়। শিক্ষার্থীরা যখন আমাদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিগৃহিত সেশনজটকে অতিক্রম করে ভালো কোন ফলাফল লাভ করে ঠিক তখনই বেকারত্ব বা ভালো চাকরি না পাওয়া তরুণ সমাজকে আরও হতাশায় ভোগতে হয়। আর যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা বলি তাহলে বলতেই হবে তরুণ সমাজকে আজ রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ব্যবহার করছে। সুশীল সমাজের কাছে আবেদন তরুণদের নিয়ে একটু ভাবুন, তাদেরকে সঠিক কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। যারা এক সময় দেশের চূড়ান্ত বিজয় এনে দিয়েছেন তাদেরকে আপনারা সকলে মিলে রক্ষা করুন। সিকদার আনিছুর রহমান সরকারি বি. এম. কলেজ, বরিশাল বি এ অনার্স(ইংরেজী), এম এ অধ্যয়নরত বরিশাল সদর, বরিশাল

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন