বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪২
দেশে বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন টিআইবি’র (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে করের ন্যায্যতা বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন। ‘কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতার বিকল্প নেই, জনগণের উন্নয়নে কর সুশাসন চাই’ শীর্ষক এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান। অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর এটি সঞ্চালন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা করের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা আনার লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর বাড়ানোর উপর জোর দেন। তারা বলেন, দেশের মোট রাজস্বের ৬৫ শতাংশ আসে পরোক্ষ কর (শুল্ক ও ভ্যাট) আর ৩৫ শতাংশ আসে প্রত্যক্ষ কর খাত থেকে। ন্যায্যতার সাধারণ নীতি অনুযায়ী, বেশি আয় হলে বেশি কর দেয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে গরীবদের পকেট থেকে রাজস্বের সিংহভাগ নেয়া হচ্ছে। জাতীয় বাজেটে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্পদের উপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেন পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি মনে করেন, সম্পদের উপর কর আরোপ করা হলে মানুষের অতিরিক্ত পরিমাণ সম্পদ ধরে রাখার প্রবণতা কমে আসবে। এর ফলে জমির দাম যৌক্তিক উপায়ে কমে আসার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে ২ কোটি টাকার বেশি সম্পদধারীদের উপর দুই ধাপে সারচার্জ (করের উপর যথাক্রমে ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ হারে কর) আরোপ রয়েছে। এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের পর তা পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত আলোচনার জন্য সময় খুবই কম থাকে। এছাড়া আলোচনাও দুর্বল মানের। এছাড়া বছর শেষে দেখানো হয়, উন্নয়ন বাজেট (এডিপি) ৮০ শতাংশ বা ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এটি আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা জানার সুযোগ নেই। এছাড়া বাজেট প্রণয়ন নিয়ে অতি গোপনীয়তারও সমালোচনা করেন তিনি। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন রেজাউল করীম চৌধুরী, কে এম এনামুল হক, সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান’র (সুপ্র) প্রতিনিধি এলিসন সুব্রত, অধ্যাপক আতাউর রহমান, কলামিস্ট এম এস সিদ্দিকী, মহসিন আলী প্রমুখ।