ডিসিসির নাগরিক সেবা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৭
ঢাকা সিটি করপোরেশনের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় অংশে সাধারণ নাগরিকদের নানা দুর্ভোগ বাড়িয়া চলিয়াছে। তাহারা জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা হইতে বঞ্চিত হইতেছেন কিংবা এসব সেবা গ্রহণ করিতে গিয়া হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হইতেছেন। গতকাল ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, দুই সিটি করপোরেশনে কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় এইসব সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করিতেছে। রাজধানীর ৯২টি ওয়ার্ডের এইসব সেবা এখন দুই সিটি করপোরেশনের ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় হইতে দেওয়া হইতেছে। এখানে দায়িত্ব পালন করিতেছেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু এই কার্যালয়গুলির অবস্থান সম্পর্কে অনেকেই অবহিত নন। এই ব্যাপারে সরকারি প্রচার-প্রচারণারও অভাব রহিয়াছে। অন্যদিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়সমূহ এখন কার্যত ওয়ার্ড সচিবের কার্যালয়ে পরিণত হইয়াছে। সচিবরা জনসেবার মনোভাব নিয়া ও সুচারুরূপে এইসব দায়িত্ব পালন করিতে পারিতেছেন না বলিয়া অভিযোগ উঠিতেছে। তাহাদের সময়মত অফিসে পাওয়া যায় না। আবার অনেকে এই অফিসগুলির ঠিকানাও জানেন না। ইহাছাড়া রাস্তাঘাট, ড্রেন, রাস্তার লাইটের ব্যবস্থাসহ এলাকার বিভিন্ন জরুরি উন্নয়ন কার্যক্রমও এখন ব্যাহত হইতেছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগরবাসীকে যে সমস্যা অধিক হারে ভোগাইতেছে তাহার নাম সনদ বাণিজ্য। অধিকাংশ এলাকায় এখন গড়িয়া উঠিয়াছে অসাধু চক্র। তাহাদের দৌরাত্ম্যের কারণে কোন কোন সনদের জন্য এক হাজার টাকাও খরচ করিতে হইতেছে। অথচ তাহা নামমাত্র ফি-এর বিনিময়ে সরবরাহ করিবার কথা। ঢাকা সিটি করপোরেশন হইতে নাগরিকদের যেসব সনদ গ্রহণ করিতে হয় তাহা হইল- নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ, চারিত্রিক সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশান সনদ, বৈধব্য সনদ, আয়ের সনদ, আবাসন পরিবর্তন বা স্থানান্তর সনদ, ভূমিহীন সনদপত্র, প্রতিবন্ধী বা বয়স্ক ভাতার সনদপত্র ইত্যাদি। এইসব সনদ পাইতে আর যাহাতে ভোগান্তির শিকার না হইতে হয় এমন সুব্যবস্থা থাকা দরকার। ইহাছাড়া ঢাকা মহানগরীর অলি-গলির অধিকাংশ সড়কের অবস্থা নাজুক। সড়কগুলি নিয়মিত সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু সেদিকে কাহারও ভ্রূক্ষেপ নাই। অনেক সড়কে নাই বাতি। রাত্রিবেলা সেখানে প্রায়শ ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়া থাকে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নজর দিতে হইবে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন গত দুই বত্সর যাবত্ ঝুলিয়া আছে। ইহার অন্যতম কারণ সীমানা নিয়া বিরোধ ও জটিলতা । তবে এই অনিশ্চয়তার পশ্চাতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতাও কম দায়ী নহে। উন্নত নাগরিক সেবা দেওয়ার কথা বলিয়া ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুইভাগে বিভক্ত করা হইয়াছে। কিন্তু নাগরিক সেবা প্রদানে কোন গুণগত পরিবর্তন এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হইতেছে না। মেয়র ও কাউন্সিলরদের পরিবর্তে যেসব সরকারি কর্মকর্তা এখন দায়িত্ব পালন করিতেছেন, তাহারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্ব পালন করিতেছেন। উন্নয়নমূলক কাজে তেমন মনোনিবেশ করিতে পারিতেছেন না। তাহাছাড়া তাহাদের ঘনঘন বদলির কারণেও করপোরেশনের অনেক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হইতেছে। যাহা হউক, নির্বাচন কী কারণে আয়োজন করা যাইতেছে না তাহা আমাদের মুখ্যবিষয় নহে। আমাদের বক্তব্য হইল, যেভাবেই হউক ঢাকা মহানগরবাসীর প্রয়োজনীয় ও জরুরি সেবা প্রদানে অবহেলা প্রদর্শন করা যাইবে না। প্রয়োজনে এই ব্যাপারে অ্যাডহক কমিটি গঠন করিয়া হইলেও কাজ চালাইয়া যাইতে হইবে। নাগরিকদের কোন সেবা হইতে বঞ্চিত করা মোটেও ন্যায়সংগত হইবে না। আবার স্থানীয় সরকারকে অকার্যকর রাখিয়াও দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হইবে না। আমরা জনসম্পৃক্ত এই জরুরি বিষয়টির ব্যাপারে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন