বাংলাদেশের তরুণ
সমাজ হতাশ নয়
বরং আশাবাদী
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তরুণ সমাজ এ দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি। উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়নের পথে সবসময়ই কিছু না কিছু বাধা থাকে। দারিদ্র্য, দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এ দেশের সদা বিরাজমান সমস্যা। এ সমস্যাগুলো মাঝে মাঝে কিছু তরুণকে হতাশ ও পথভ্রষ্ট করে সত্য। তবে অধিকাংশ তরুণই পথভ্রষ্ট, হতাশবাদী নয় বরং চরম আশাবাদী ও প্রাণচাঞ্চল্যের অধিকারী।
তবে কিছু তরুণ আছে যারা সাময়িকভাবে সামাজিক অসঙ্গতি, মানসিক চাপ, বেকারত্বের ও দুষ্ট রাজনীতির ফাঁদে পড়ে নিজেদেরকে পথভ্রষ্টের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। কিন্তু একটু সহানুভূতি, সহযোগিতা, সহমর্মিতা পেলে তারা আবার সঠিক পথে ফিরে আসতে পারে। ‘সত্ সঙ্গ স্বর্গবাস’ বলে একটি কথা প্রচলিত আছে আমাদের উদ্যমী তরুণদের সংস্পর্শে এলে তারা সঠিকপথে ফিরে আসবে। রাষ্ট্রের দায়িত্বও এখানে কম নয় রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে সোচ্চার হলে দেশে উদ্যমী তরুণদের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমন কমবে পথভ্রষ্ট তরুণদের সংখ্যা। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে অনন্ত সম্ভাবনার দিকে। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের তরুণরা সবসময়ই উদ্যমী ও আশাবাদী।
সঞ্জয় হালদার
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, চতুর্থ বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতি
ভাল থাকলেই তরুণরাও ভাল থাকবে
একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ে ফেলতে হরতালই যথেষ্ট। হরতাল, অবরোধ, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড অর্থনীতির সচল চাকাকে অচল করে দিতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও একটি ্উন্নয়নশীল দেশ। তেমনিভাবে বাংলাদেশেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অনেক বাধা এসেছে। যখনই দেশ এগিয়ে যাওয়ার পথ অতিক্রম করে তখনই দেশ বাধাগ্রস্ত হয়। আমি বলব দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করতে প্রথম শর্ত হরতাল অবরোধ বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত- প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা এবং তৃতীয়ত- দেশের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সবগুলো রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা। এ তিনটি বিষয় মেনে চললেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে এবং তখনই বলা যাবে - ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।
মো. ফয়সাল আহমদ ভুঁইয়া
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
২য় বর্ষ, ১ম সেমিস্টার,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
হতাশা তারুণ্যের
ব্যাধিস্বরূপ
তরুণ সমাজই রাষ্ট্র বা সমাজের কর্ণধার। তরুণদের উদ্যম মেধার ফলেই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনা করা সম্ভব। সুস্থ ও পরিপূর্ণ মানুষকে অসুস্থ করার জন্য যেমন রোগ, ব্যাধি আক্রমণ করে থাকে। তেমনি তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার জন্য রয়েছে হতাশা। আমাদের দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থা ও বেকার সমস্যা তরুণ সমাজকে কলুষিত করে ফেলেছে। কিছু কিছু তরুণ এরূপ অবস্থার ফলে হতাশায় ভুগছে এবং কিছু কিছু তরুণ তাদের জীবনের লক্ষ্যের দিকে ছুটছে। জীবন চলার পথে বাধার সৃষ্টি হতে পারে তাই বলে জীবন থেমে থাকতে পারে না। জীবনকে সঠিকপথে পরিচালনার জন্য হতাশার পরিবর্তে কর্মমুখী হওয়া উচিত।
মাজহারুল ইসলাম
বি.এ (২য় বর্ষ), টঙ্গী সরকারি কলেজ
ঢাকা, গাজীপুর।
তরুণরা কখনো হতাশ
ছিল না, তারা হতাশ
হতে পারে না
আমাদের দেশে তরুণরা তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন পায় না। তাদেরকে কিছু কালো অদৃশ্য শক্তি ব্যবহার করছে তাদের খেলার পুতুল হিসাবে। আর তরুণরাও এই শক্তির সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে নিজের মনের অগোচরে। তারপরেও হাল ছাড়ছে না তাদের তারুণ্যের সকল আশার। তাদের মনে রয়েছে সবসময় দেশের উন্নয়ন। দেশের নীতি নির্ধারকরা তাদের সঠিক মূল্যায়ন ও সুযোগ-সুবিধা করে দিলেই তাদের সকল মেধার প্রকাশ করতে পারতো। তাইতো “তরুণরা কখনো হতাশ ছিল না, তারা হতাশ হতে পারে না”। তাদের সবসময় জাগ্রত দেশ মাতৃকার কল্যাণ সাধনে। তারা অন্ধকার থেকে আলোর আশার উদ্ভব করবেই।
মাহবুবুর রহমান
লোক প্রশাসন বিভাগ (২য় বর্ষ)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করে
সমঝোতার মাধ্যমে চললে
তরুণরা হতাশ হবে না
হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে দেশের মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে দেশে একদিকে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, হত্যা, মারামারি, ছিনতাই, গুম বেড়েই চলছে। যার কারণে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং দেশের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, দেশের মানুষ এখন নির্বাচন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। উভয় দলের মনে রাখতে হবে যে, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই সোনার বাংলাদেশ পেয়েছি যাকে হত্যা করার সাহস কাউকে দেয়া হয়নি। তাই আসুন দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং শহীদদের স্বার্থে হিংসা নয়, বিদ্বেষও নয়, উভয় দলের সমঝোতার মাধ্যমে চললেই তরুণরা হতাশা হবে না।
মো. গোলাম ইয়াছিন
এম এ (ফাইনাল), ইতিহাস বিভাগ
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
