তরুণ সমাজ হতাশ
নয়, তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাল নেই
যাদের হাতে দেশের ভবিষ্যত্, যারা দেশ বা জাতির কান্ডারী সেই তরুণ সমাজ আজ হুমকির মুখে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্র সমাজকে আলোকিত করে। কিন্তু এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নোংরা রাজনীতি ঢুকে পড়েছে এবং তা রীতিমত দংশন করে চলছে। শিক্ষার্থীদের হাতে বই কলম এর পরিবর্তে পিস্তল, বোমা, চাপাতি, লাঠি শোভনীয় অলংকারে পরিণত হয়ে পড়েছে। যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের ছাত্র, নেতা-কর্মীরা প্রতিশোধ-এর লড়াইকে কেন্দ্র করে শুরু করে ক্ষমতার অপব্যবহার।
দেশ জাতিকে রক্ষা করতে হলে যত তারাতারি সম্ভব প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিধান নিশ্চিত করতে হবে, নোংরা রাজনীতি নিষিদ্ধ করে সুস্থধারার রাজনীতি চালু করতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাপ মুক্ত করে সুশিক্ষার পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সকল প্রকার অপকর্মকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়বে এবং সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না।
মো. জাহিদ হোসেন
গণিত বিভাগ (এম.এস)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
তরুণ সমাজকে দলীয় রাজনীতি এমনভাবে গ্রাস করছে যে
হতাশ না হয়ে পারছি না
আজ তরুণ সমাজকে দলীয়রাজনীতি এমনভাবে গ্রাস করছে যে, সেখান থেকে বের হতে পারছে না। কিছু কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি যেন তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বর্তমান তরুণ সমাজকে ক্ষমতা নামক এক অপকর্মে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যে শিক্ষা দিয়ে তরুণ সমাজ দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে, দেশের অর্থনীতি উন্নত করবে সেই শিক্ষাঙ্গনে ছেয়ে গেছে সন্ত্রাস। যে সংস্কৃতি দিয়ে আমরা আমাদের দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবো সেই সংস্কৃতিতে আজ যেন দেখা যায় কালো মেঘের হাতছানি । যা হতাশ করে দিয়েছে আমাদের তরুণ সমাজকে, আমাদের তারুণ্যকে । তাই তরুণ সমাজকে উদ্দীপ্ত করতে কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জাতি-ধর্ম-কালকে অতিক্রম করিতে পারিয়াছে যাঁহাদের যৌবন, তাঁহারাই আজ মহামানব, মহাত্মা, মহাবীর । আমাদের পৃথিবী আমরা মনের মতো করিয়া গড়িয়া লইব। ইহাই হউক তরুণের সাধনা’ ।
ইমদাদুল হক সোহাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা (১ম বর্ষ)।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায়
হতাশাগ্রস্ত তরুণ
সমাজ
আমাদের বর্তমান তরুণ সমাজ দিন দিন হতাশাগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। এই হতাশার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। তাই আমরা যদি আমাদের তরুণ সমাজকে হতাশার পথ থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে চাই সবার আগে আমাদের কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমান তরুণ সমাজের হতাশার প্রথম কারণ হল শিক্ষা জীবনে সেশন জট। ফলশ্রুতিতে তারা সময়মত পড়াশুনা শেষ করে চাকরি জগতে প্রবেশ করতে পারছে না। তাছাড়াও, চাকরি জগতে মামা-চাচাদের প্রভাবের কারণে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা মেধা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পায় না। ফলে তারা বেকার জীবন- যাপন করে। এবং এই বেকারত্ব তাদেরকে বিভিন্ন খারাপ কাজের দিকে ঠেলে দেয়। কেউ কেউ আবার হতাশাগ্রস্ত জীবনে মাদকদ্রব্যের দিকে ঝুঁকে যায়, আবার কেউ কেউ হতাশাময় জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তরুণ সমাজকে হতাশার পথ থেকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের সবার।
নুজহাত সরকার শিপি
১মবর্ষ ২য় সেমিস্টার
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
নীতি-নির্ধারকদের
দৃষ্টি আকর্ষণ চাই
তরুণদের দিকে
আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একতৃতীয়াংশ হলো তরুণ। যার অধিকাংশই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজের শিক্ষার্থী। এই তরুণরা দেশের সকল ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তরুণরা তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বিষয়ে মোটেও হতাশ নয়। বরং তারা তারুণ্যের দাবিতে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী। সব তরুণেরই স্বপ্ন থাকে স্বদেশ প্রেম, স্বাধীনতার চেতনা, সাম্য ও ন্যায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্বে আসতে অথবা রাষ্ট্রের অন্য কোন কাঠামোতে থেকে রাষ্ট্রের সেবা করতে। কিন্তু কত জন দক্ষ ও মেধাবী তরুণ আমাদের দেশের সেই নেতৃত্বে বা রাষ্ট্রের জন্য তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে সেবার সেই কাঠামোতে আসছে। তাই এখনই দেখার প্রয়োজন বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারক বা রাষ্ট্রের কাঠামোতে যাদের অবস্থান (বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি) তাদের দৃষ্টি ফেরানো তরুণদের দিকে।
শ্রাবণ মাহমুদ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ (৪র্থ বর্ষ)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সাভার, ঢাকা ।
