আজ সাকিবের আইপিএল-যাত্রা

আর বিতর্কে জড়াতে চান না

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৮
একটার পর একটা বিতর্কে একবার খুব অসহ্য হয়ে পড়েছিলেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার মারিও বালোতেল্লি। তাকে সবাই ইচ্ছা করে বিতর্কিত করছে, এমন ধারণা থেকে জার্সি নিচে একটা টি-শার্টে বড় বড় করে লিখে নিয়েছিলেন—হোয়াই অলওয়েস মি! সাকিব আল হাসান বলছেন না যে, তাকে ইচ্ছে করে বিতর্কের শিকার বানানো হচ্ছে। তবে দিব্যি বোঝা যায় এই একটা পর একটা বিতর্কে জড়াতে জড়াতে তিনিও খুব জেরবার অবস্থায় আছেন। নিজেই স্বীকার করে নিলেন, অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই বিতর্কে জড়াতে তারও আর ভালো লাগে না। অন্তত ভক্তদের কাছে এবার প্রতীজ্ঞা করে বললেন, এখন থেকে অন্তত খুব সতর্ক জীবন কাটানোর চেষ্টা করবেন; যাতে নতুন বিতর্ক এসে আবার ঘিরে না ঘরে তাকে! অবশ্য মাঠের বাইরের এসব বিতর্ক, কথাবার্তা কিছুই খুব বেশি স্পর্শ করার সুযোগ পাচ্ছে না সাকিবকে। বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতে আজ সকালেই দুবাই ছুটছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে যোগ দিতে। যাচ্ছেন বটে আইপিএলে খেলতে; কিন্তু সাকিবকে এখনও ভাবতে হচ্ছে, কথা বলতে হচ্ছে বাংলাদেশ নিয়েই। আর সেই ভাবতে গিয়ে সাকিব বহুবার বলা কথাটাই বললেন, আসলে টি-টোয়েন্টির ম্যাচ বদলে দেয়া পারফরমারই নেই বাংলাদেশের। গতকাল স্থানীয় একটি ওয়েবসাইটকে দেয়া সাক্ষাত্কারে সাকিব বলছেন, প্রথমত বাংলাদেশের সমস্যা হল, ম্যাচ জেতানোর মতো বোলার বা ব্যাটসম্যান নেই, যারা একারাই খেলা বদলে দিতে পারে, ‘টি-টোয়েন্টিতে জিততে হলে দুই-তিনটা বিশ্বমানের বোলার দরকার। এই জায়গাটাতে আমাদের অনেক ঘাটতি আছে। অনেক সময় ১৫০-১৬০ করেও আমরা হেরে যাই, যা অন্যান্য দলের ক্ষেত্রে হয় না। একই সঙ্গে আমাদের ছয় বা সাত নম্বরে এমন ব্যাটসম্যান দরকার যারা দুই-এক ওভারে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। টপ অর্ডার আর মিডলঅর্ডারে এমন ব্যাটসম্যান দরকার, যে কিনা এসেই মারতে পারে।’ এমন নয় যে, শুধু সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই চুপ থাকছেন সাকিব। এটা থেকে উত্তরণের উপায়টাও মোটামুটি বুঝতে পারছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। রাতারাতি স্যামি, ম্যাক্সওয়েল বা ইমরান তাহিরের মতো খেলোয়াড় পাওয়া যাবে না। তবে এই দলে যারা আছেন, তাদেরই সেরাটা বের করে আনলে আরো ভালো করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন সাকিব। আর সেটা করতে গেলে অনেক ম্যাচ খেলাতেই সমাধান দেখছেন তিনি, ‘আমার কাছে মনে হয়, এই জায়গায় উন্নতি করতে হলে দল হিসেবে আমাদের নিয়মিত আরো বেশি ম্যাচ খেলা উচিত। গত দশ বছরে আমরা অনেকগুলো ওয়ানডে ম্যাচ খেলছি বলেই ওয়ানডেতে কিন্তু আমরা মোটামুটি একটা অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি।’ ওয়ানডেতে সাফল্য পেলেও টি-টোয়েন্টিতে এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার আরেকটা কারণ সাকিব ধরতে পেরেছেন। আসলে ওয়ানডেতে যে ‘টিম এফোর্ট’ দেয়া যায়, ওভার স্বল্পতার কারণেই টি-টোয়েন্টিতে সেটা সম্ভব হয় না। আর এখানেই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আরো জরুরী বলে দেখছেন সাবেক এই অধিনায়ক, ‘আমরা যখন জিতি, মূলত দলীয় চেষ্টাতেই জিতি। তাতে সবারই অবদান থাকে। এই জন্যই আমারা ওয়ানডে ভালো খেলি। সেখান সবার অবদান রাখার সুযোগটা বেশি থাকে। সেদিক থেকে টি-টোয়েন্টিতে এটা অনেক কম হয়।’ এই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সটা ব্যাটে, বলে পেতে গেলে ওই স্বল্প ওভারে সেরা খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ সুযোগই দিতে হবে। ফলে সাকিবের মতো ইনফর্ম খেলোয়াড় টপ অর্ডারে, প্রথম তিনের মধ্যে ব্যাট করবেন; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই সাকিবের তিন নম্বরে খেলাটা নিয়েও টুর্নামেন্টে অনেকবার মত বদলেছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে সাকিব বলছিলেন, ‘এটা কোচ আর অধিনায়ককে জিজ্ঞেস করলেই ভালো হয়। চিন্তাটা তাদের মাথা থেকেই আসছে। ওরা এসে আমাকে বলছে, আমি যদি চারে থাকি, দলের ভারসাম্যটা ভালো হবে। আমি বলছি, কোনো সমস্যা নেই। দলের জন্য যে কোনো জায়গায় খেলতে পারি। এ কারণেই আমি চার নম্বরে খেলছি। তবে টি-টোয়েন্টিতে আমি টপ অর্ডারে খেলাটাই পছন্দ করি।’ বিডি নিউজকে দেয়া এই সাক্ষাত্কারে শেষদিকে সেই বিতর্কের প্রশ্ন এসেছে। সম্প্রতি একটি স্থানীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাত্কারের সুবাদে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও বড় বিতর্কে জড়ালেন সাকিব। নিজেই বলছেন, এটা ভালো লাগে না তার, ‘আমিও চাই না যে, কোনোভাবে বিতর্কে জড়াই। হয়তো এরপর থেকে আরো বেশি সতর্ক থাকা লাগবে। আমি কখনো বিতর্কিত হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করি নাই। ভক্তদের ব্যাপারটা আমার মনে থাকবে, অবশ্যই চেষ্টা করবো আর বিতর্কে না জড়াতে।’ সাকিব সেই চেষ্টা করলে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরাই সবচেয়ে খুশী হবেন।