নেমানজা ভিদিচের গোল আর অসাধারণ রক্ষণ শৈলীতে প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে রুখে দেয়ার পর আজ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শেষ আটের দ্বিতীয় লেগে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মৌসুমের প্রায় পুরোটা সময় অপ্রতিরোধ্যভাবে কাটালেও গত কয়েক ম্যাচে হঠাত্ করেই যেন একটু ছন্দহারা লাগছে বায়ার্নকে। আজ রাতে সেই সুযোগটাই নিতে চাচ্ছে ইউনাইটেড। আর ইংলিশ জায়ান্টদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে রবিন ফন পার্সির অনুপস্থিতিতে দলের মূল ভরসা ওয়েইন রুনির চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার বিষয়টি।
বুন্দেসলিগার ২৪তম রাউন্ড শেষে বায়ার্নের গোলসংখ্যা ছিল ৭২। অর্থাত্ ম্যাচ প্রতি তিন গোল! শীতকালীন ছুটির পর প্রথম বারটি লিগ ম্যাচে এই সংখ্যাটা ছিল ৪০! আর যে কোন প্রতিযোগিতা মিলে সর্বশেষ দশ ম্যাচে দলটি প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ৩১ বার! সাত ম্যাচ হাতে রেখেই বুন্দেসলিগার শিরোপা নিশ্চিত করা ব্যাভারিয়ানরা কি দুর্দান্ত ফর্মে ছিল সেটা বোঝাতে বোধহয় এই তথ্যগুলোই যথেষ্ট। ছিল বলতে হচ্ছে এ কারণে যে, গত কয়েক ম্যাচ ধরেই যেন নিজেদের ছায়া হয়ে আছে দলটি। ঘরের মাঠে গত মাসের শেষ দিকে হফেনহেইমের সাথে ৩-৩ গোলে ড্র করার পর ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটেডের সাথে ঐ ড্র। আর পয়েন্ট খোয়ানোর এই ধারাবাহিকতায় লিগে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে হেরেই বসে দলটি। পয়েন্ট টেবিলের মাঝামাঝি থাকা অগসবার্গের মাঠে তারা হেরে যায় ১-০ গোলে।
লিগে গত ১৮ ম্যাচে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নদের এটা ছিল প্রথম পরাজয়। বুন্দেসলিগায় টানা দুই বছরের শিরোপাধারী দলটি সেখানে সর্বশেষ হেরেছিল ২০১২’র অক্টোবরে। আর এই হারের ফলে যে কোন প্রতিযোগিতা মিলে বায়ার্নের ৫৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ছেদ পড়ে। যদিও এই ম্যাচে পেপ গার্দিওলা দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রাখেন।
অন্যদিকে, বায়ার্নের মুখোমুখি হবার আগে ঠিক বিপরীত অবস্থায় ছিল ইউনাইটেড। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হারে তারা। প্রতিপক্ষকে নয় গোল দেয়ার পাশাপাশি হজমও করতে হয়েছে সাতটি গোল। ফলে ইউরোপিয়ান শিরোপাধারীদের বিরুদ্ধে গত এক তারিখ রাতের পারফরম্যান্সকে ডেভিড ময়েসের অধীনে দলের সেরা পারফরম্যান্স বলে রায় দেয় ইংলিশ গণমাধ্যম। এরপর নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে রেড ডেভিলরা উড়িয়ে দিয়েছে ৪-০ গোলে। রুনিসহ ঐ ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেডের মূল একাদশের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। এই ম্যাচে পাওয়া আত্মবিশ্বাস নিঃসন্দেহে আরো বেড়ে গেছে রুনির দলের ফেরার কারণে। রুনির পাশাপাশি নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সর্বশেষ লিগ ম্যাচে খেলতে না পারা প্যাট্রিক এভরা, অ্যাশলে ইয়ং ও জনি ইভান্সও করেছেন অনুশীলন। রেড ডেভিলদের অফিসিয়াল টুইটার পেজে বলা হয়, ‘ওয়েইন রুনি, এভরা, ইয়ং ও ইভান্স আমাদের জার্মানি ভ্রমণকে সামনে রেখে অনুশীলনে যোগ দিয়েছে।’
ইউনাইটেড যেখানে দলের সেরা অস্ত্রদের ফিরে পাচ্ছে সেখানে বায়ার্ন কোচকে শুনতে হচ্ছে একের পর এক দুঃসংবাদ। প্রথম লেগে লাল কার্ড পাওয়ায় দ্বিতীয় লেগে নামতে পারছেন না মিডফিল্ডার বাস্তিয়ান শোয়েন স্টেইগার। চোটাক্রান্ত খেলোয়াড়দের তালিকায় আছেন জাভি মার্টিনেজ, থিয়েগো আলকানতারা ও জার্দান শাকিরিও। ফলে আক্রমণ-রক্ষণে খুব বেশি বিকল্প থাকছে না গার্দিওলার হাতে। সেটা মেনে নিচ্ছেন সাবেক বার্সেলোনা কোচও, ‘আমাদের প্রথম একাদশের মাত্র ১৪ জন খেলোয়াড় আছেন। সুতরাং, আমার হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। আমরা নিজেদের মাঠে খেলছি বলে হয়তো কিছুটা সুবিধা পাবো। কিন্তু, ইংলিশ দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলাটা সবসময়ই কঠিন। কারণ, তারা রক্ষণের পাশাপাশি কাউন্টার অ্যাটাকেও দুর্দান্ত। এই কাজটা তারা খুব ভালভাবেই করতে পারে।’
বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা গার্দিওলা আরো বলেন, ‘এই ম্যাচের (প্রথম লেগ) আগে সবাই শুধু বায়ার্নকে নিয়েই কথা বলতো। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছে ইউনাইটেডেরও ক্ষমতা আছে মিউনিখে জয় পাবার।’
নিজেদের মাঠে বরাবরের মতো আক্রমণাত্মক এক বায়ার্নকেই সবাই দেখবে জানিয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা যদি জিতি তাহলে আমরাই যাচ্ছি। আর যদি হারি তাহলে আমরা ছিটকে পড়ছি। ম্যাচে হয়তো ছোট ছোট কিছু বিষয় ভূমিকা রাখবে।’
