তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৯
আজকের যুব সমাজ আগামী দিনে জাতির কর্ণধার বাংলাদেশের যুব সমাজ আজকে অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে এরাই একদিন জাতির নেতৃত্ব দেবে। অপকর্ম আর অপসংস্কৃতির বেড়াজালে তারা আবদ্ধ। যুব সমাজ উন্নত চরিত্র গঠনে ব্যর্থ হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কোন্দলে অনেক মেধাবী ছাত্রকে প্রাণ দিতে হচ্ছে। গোটা জাতি তাদেরকে নিয়ে হতাশাগ্রস্ত। তবে আশাও কম নয়। যুব সমাজকে তাদের দায়িত্বের প্রতি এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় বিচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের দায়িত্বও কম নয়। অভিভাবকদেরকে তাদের সন্তানের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। সর্বোপরি যুব সমাজকে একথা মনে রাখতে হবে যে, “যুব সমাজ জাতির আশার আলো”। জাহিদুল ইসলাম তারেক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১ম বর্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০০০০০০ রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে তরুণ সমাজ হতাশ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এ দেশের তরুণ সমাজে দিন দিন শিক্ষার হার বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণদের অন্য দেশের তরুণদের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় তরুণ সমাজ অবহেলিত, নির্যাতিত এবং অধিকার বঞ্চিত। কারণ অন্য দেশের তরুণদের যেমনিভাবে তাদের শিক্ষার মান বিজ্ঞানসম্মত এবং উন্নত তেমনিভাবে তাদের কর্মস্থলও বিজ্ঞানসম্মত ও উন্নত। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় শিক্ষিত তরুণ সমাজই সবচেয়ে বেশি হতাশাগ্রস্ত। কারণ নেই তাদের বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান, নেই কর্মস্থল, নেই ন্যায্য অধিকার। যার কারণে তরুণ সমাজ আজ বিভিন্ন অপসংস্কৃতি, নোংরা রাজনীতি, বই, খাতা-কলমের বদলে থাকে তাদের হাতে অস্ত্র। নাজিম উদ্দিন বিএসএস অনার্স, ৩য় বর্ষ সমাজ বিজ্ঞান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর। ০০০০০০০০০০০০০ তরুণ সমাজ হতাশ নয় তবে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী হতেও পারছে না বাংলাদেশ মূলত একটি অনগ্রসর দেশ। স্বভাবতই এদেশের মানুষ দুর্নীতিপরায়ণ। কিন্তু বর্তমানে এদেশের তরুণ সমাজ জাগ্রত। তারা সমাজের বিভিন্ন অসংগতি দূর করার জন্য সোচ্চার। এতদসত্ত্বেও এদেশের কিছু কিছু রাজনীতিবিদ আমাদের এই চলার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। যেহেতু সমাজ চালিকার চাবিকাঠি। তাদের হাতে তাই আমরা মাঝে মাঝে হতাশ হই। বর্তমান শিক্ষিত তরুণ সমাজ পারে এই অন্ধকার দূর করতে। তাই কাউকে দোষারপ না করে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে আমাদের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে অবদান রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা করা। মো. জাহিদ হাসান সজিব, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং (লেভেল-১ সেমিষ্টার-১), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০০০০০ তরুণ সমাজ হতাশ নয়, তারা স্বপ্ন ও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায় তরুণেরা প্রতিটি সমাজ ও দেশের কলি। যার ফুটন্ত সুভাষে সুভাষিত হয় গোটা সমাজ ও দেশ। সেই তরুণ সমাজ আজ প্রযুক্তির অপব্যবহার, অচেতন হালধারী মাঝির তরীতে উঠে হতাশ। বর্তমান আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় তরুণ সমাজ কিছুটা এগিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত সুস্থ বিনোদন ব্যবস্থার অভাব ও মেধা মূল্যায়নে রাজনৈতিক কালো হস্তক্ষেপে তরুণ সমাজ দিগবিদিক। তরুণ সমাজের এই হতাশার মূলোত্পাটন করে প্রবীণ সমাজ এর প্রতিকার না করলে তারুণ্যে ভরা তরুণ সমাজে এই হতাশা আগামীর সমাজ ও দেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তরুণ সমাজ সুন্দর স্বপ্ন ও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। মো. আব্দুল্লাহ আল তাকদীর রসায়ন বিভাগ, ২য় বর্ষ সরকারি বি.এম. কলেজ বরিশাল। ০০০০০০০০০০০০০ হতাশার কালো সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি আমরা তারুণ্যের ভাষা বুঝি না। তরুণ চায় তারুণ্যের রঙ্গে রাঙ্গাতে পৃথিবীকে, কেননা পৃথিবী তার দিকে অবাক তাকিয়ে রয়। আর সেই তারুণ্যের ভাষা না বুঝার কারণেই আমাদের নীতি-নির্ধারণী মহলেও বার বার ব্যর্থতার মহড়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। তরুণ চায় “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে, সোনার বাংলার সোনার ছেলেদের ইতিহাসের সোনালি পাতায় অম্লান করে রাখতে। তরুণ চায় তারুণ্যের দাবিকে চেতনায় প্রস্ফুটিত করতে। তরুণ চায় পানির অভাবে কাষ্ঠ হয়ে যাওয়া কৃষকের মুখে গোলা ভরা ধানের তৃপ্ত হাসি। তরুণ চায় শিক্ষিত বেকারত্বের অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে। তরুণ চায় সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির পথকে আরো সুগম করতে। অতএব, তারুণ্যের এ দাবিগুলোর সার্থক বাস্তবায়ন করতে পারলে তরুণের বুকফাটা আর্তনাদ ও হতাশার সেই কালো সাগর থেকে তীরে আসার সাধ কিঞ্চিত হলেও মিটবে বৈকি। মো. আবুল খায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি (সংস্কৃত) বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন