খেলা শেষ হওয়ার পরই মোহামেডান ফুটবলাররা ড্রেসিং রুম ছেড়ে ক্লাবে চলে গেলেন। পাশেই ড্রেসিং রুমের সামনে অ্যাথলেটিক ট্র্যাকের উপর লাইন ধরে বসে রইলেন আবাহনীর ফুটবলাররা। খেলা শেষ হওয়ার এক ঘন্টা কেটে গেলেও কেউ বের হতে পারছিলেন না। তার আগেই আবাহনীর ইরানী কোচ আলী আকবরকে পুলিশী পাহারায় সাংবাদিকদের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথ করে দেয়া হলেও ভয়ে আটকা পড়ে রইলেন খেলোয়াড়রা। আবাহনী খেলোয়াড়রা মূলত ভিআইপি গেটের সামনে কিছু দর্শক ক্ষোভ প্রকাশ করার কারণে বের হতে পারছিলেন না। খেলোয়াড়দের বহনকারী গাড়ির উপরও হামলা হয়েছে। ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিত দাশ রূপু নিজে নিরাপদ স্থানে সরে গেলেন। স্থানীয় ফুটবলে অনেক দিন এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। ফুটবল মাঠে এই দুই দলের লড়াইয়ে এক দল হেরে গেলে মাঠ থেকে বের হওয়া ছিল কঠিন ব্যাপার। কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মোহামেডানের কাছে ১-০ গোলে হেরে আবাহনীর ফুটবলাররা প্রায় এক ঘন্টারও বেশি আটকা পড়ে থাকলেন।
মোহামেডান ও আবাহনীর মধ্যকার মধুমতি ব্যাংক স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি ছিল অলিখিত ফাইনাল। সেই লড়াইয়ে হেরে গেলো আবাহনী। গোল করেছেন মোহামেডান অধিনায়ক এমিলি। ফাইনালে ফেনীর সকার ক্লাবের প্রতিপক্ষ মোহামেডান। সুপার কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহামেডান। এরপর ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালেই উঠতে পারেনি। আবাহনীর বিরুদ্ধে মোহামেডানের লড়াই একদিকে ছিল ফাইনালে উঠার। আরেক দিকে ছিল অনেক দিন দলটির বিরুদ্ধে ম্যাচ না জেতার আক্ষেপ। কাল দুটোই পূরণ হয়েছে মোহামেডানের। আবাহনীকে বিদায় করে দিয়ে ফাইনালের টিকিট নিয়ে গেছে মোহামেডান। অনেক দিন পর দলটি জিতেছে আবাহনীর বিরুদ্ধে। ২০১২ সালে পেশাদার লিগের দ্বিতীয় পর্বে মোহামেডান ২-০ গোলে হারিয়েছিল আবাহনীকে।
কাল সেমিফাইনালে আবাহনীর একটা ভুলই সর্বনাশ করে দিয়েছে। অধিনায়ক মো. সুজনের ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে। ম্যাচের ৩২ মিনিটে মোহামেডানের হেমন্ত আবাহনীর অধিনায়ক সুজনকে কাটিয়ে গোল লাইনের প্রান্ত থেকে ব্যাকপাস করেন। বারকিনো ফাসোর ফুটবলার জঙ্গো উসেনি বলটা সরাসরি শট করলে সেটা মাটিতে পড়ে যাওয়ার আগে স্ট্রাইকার এমিলির মাথা ছুঁয়ে আবাহনীর জালে জড়িয়ে যায় ১-০। রেফারি এমিলির নামেই গোল লিখেছেন। গোল নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছেন বারকিনো ফাসোর ফুটবলার জঙ্গো উসেনি। তিনি দাবি করেন গোল তার পা থেকে হয়েছে। আর কোচদের নির্বাচনে গোল করার কারণে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন এমিলি। এ খেলাটিতে আবাহনী গোল করার মতো সুযোগ পেয়েছিল। একটা গোলের ভুল ছাড়া পুরো ম্যাচে ভালো খেলা আবাহনী পরে আর তা শোধ করতে পারেনি। শেখ জামালের বিরুদ্ধে দুই গোল পাওয়া আবাহনীর সুয়ারেস কাল জ্বলে উঠতে পারলেন না। মোহামেডানের জাহিদ ছিলেন সুপার ফ্লপ। আর ফাঁক তালে গোল পেয়ে খেলার নায়ক বনে গেলেন মোহামেডানের এমিলি।
গোল করেও মোহামেডান খেলেছে নেতিবাচক ফুটবল। রক্ষণভাগের খেলা খেলেছে। আবাহনীর আক্রমণের চাপ নিয়েছে। তাতে যে কোনো মুহূর্তে মোহামেডান ভেঙ্গে পড়তে পারতো। কিন্তু মোহামেডানের ভাগ্য ভালো ছিলো। আবাহনীর আক্রমণভাগের ইব্রাহিম, মরিসন এবং তাদের পর্তুগীজ ফুটবলার সুয়ারেশ ছিলেন সুপার ফ্লপ। প্রাণতোষ, শাহেদ, জামাল হোসেন, বদলি মাঠে নামা আরমান আজীজ, মোহামেডানের দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারেননি। আর তাতেই ক্ষেপেছেন আবাহনীর দর্শক।
সময়ের সাথে সাথে মোহামেডান তাদের আক্রমণভাগ থেকে খেলোয়াড় তুলে নিয়ে রক্ষণভাগ সামাল দিয়েছেন। ৯০ মিনিটের পর আরো পাঁচ মিনিট খেলা হলো। কিন্তু আবাহনী ৬৩ মিনিটেও গোলটি শোধ করতে পারেনি। ফলে বিদায় নিতে হলো টুর্নামেন্ট থেকে। ম্যাচটা শেষ করে মোহামেডান উল্লাস করলো। ফাইনালে উঠার আনন্দে ঝাঁপিয়ে পড়ল খেলোয়াড়রা।
মোহামেডান ঃ
মামুন খান, বাইবেক, নাহিদুল, অরূপ বৈদ্য, উবোম হেনরী, জাহিদ (সোহাগ), হেমন্ত (মানিক), সবুজ (তপু বর্মন), ড্যামিয়েন, জঙ্গো উসেনি এবং এমিলি।
আবাহনী ঃ
সোহেল, সুজন, ওয়ালী ফয়সাল, মিশু, প্রাণতোষ (রনি), শাহেদ, সামাদ ইউসুফ, জামাল (আরমান আজিজ), আউডু ইব্রাহিম (তৌহিদুল আলম), লিয়োনিলডো সুয়ারেশ, ওসে মরিসন।
রেফারি ঃ আজাদ রহমান।
