উচ্ছ্বসিত, মুগ্ধ অর্জুনা রানাতুঙ্গা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২২:১৩
সংসদ সদস্য, সাবেক পর্যটন মন্ত্রী, সাবেক ক্রিকেট বোর্ড প্রধান, শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে নামকরা ক্রিকেট পরিবারের সবচেয়ে নামকরা সাবেক ক্রিকেটার, শ্রীলঙ্কার সোনালী দিনের রূপকার, আধুনিক ধুম-ধাড়াক্কা ক্রিকেটের বিরলতম সমালোচক; চাইলে তার নামের আগে পরে এরকম গন্ডা গন্ডা বিশেষণ বসিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু এগুলোর কোনোটাই অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে চেনাতে পারবে না। অর্জুনা রানাতুঙ্গার প্রধান পরিচয়—তিনি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন! হ্যাঁ, অর্জুনা রানাতুঙ্গার হাত ধরেই দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল। ১৯৯৬ সালে এই মানুষটির নেতৃত্বেই অরবিন্দ ডি সিলভা, সনথ জয়াসুরিয়ারা বিশ্বকে প্রথম জানান দিতে পেরেছিলেন, শ্রীলঙ্কাও পারে। সেই শ্রীলঙ্কা তারপর থেকে বহুবারের চেষ্টায় আরেকবার যখন একটা বৈশ্বিক ট্রফি স্পর্শ করেছে, তখন রানাতুঙ্গা একেবারে ভাবলেশহীন বসে থাকবে, এটা কল্পনা করা যায় না। যদিও এই টি-টোয়েন্টি খেলাটিরই ঘোরতর সমর্থক তিনি; তারপরও তারই উত্তরসুরীরা যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে, তখন রানাতুঙ্গা আপ্লুত না হয়ে পারেন না। স্পোর্টস ইনসাইডকে দেয়া সাক্ষাত্কারে এই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক বলেছেন, তিনি আপ্লুত; মালিঙ্গাদের কীর্তি তাকে খুবই ছুঁয়ে গেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা যেভাবে একটা দল হয়ে খেলে এই ট্রফিটা জিতেছে, সেটাই বেশি মুগ্ধ করেছে চিরকালের বিপ্লবী ভাবমূর্তির এই মানুষটিকে। রানাতুঙ্গা বলছেন, সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনের মতো গ্রেটদের পাশে নতুনরা যেভাবে পারফরম করেছেন, তাতে তিনি মুগ্ধ। যার জন্য তিনি এই টুর্নামেন্টে একক কোনো ক্রিকেটারকে নায়ক বলতেও রাজি নন, ‘আপনি যদি টুর্নামেন্টে ওদের পারফরম্যান্সের দিকে ফিরে তাকান, দেখতে পাবেন তরুণ খেলোয়াড়রা দারুণ অবদান রেখেছে। হ্যাঁ, সাঙ্গাকারা, মাহেলা, এমনকি লাসিথ মালিঙ্গার প্রশংসা তো করতেই হবে। কিন্তু আমি অনুভব করেছি, প্রত্যেক খেলোয়াড় ভালো অবদান রেখেছে। সাধারণত কী হয়? এরকম টুর্নামেন্টে আমরা এক-দুজন নায়ক পাই। কিন্তু এখানে আমি দেখলাম, সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়ররা খুব ভালো পারফরম করেছে। এটা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য খুব ভালো লক্ষণ।’ এই পারফরম করা করেছে, সেটাও চিহ্নিত করতে দ্বিধা করলেন না ইদানিক শ্বেতশুভ্র চুলের অধিকারী এই বিশালদেহী ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব, সিনিয়ররা তো আছেই। এর বাইরে কুলাসেকেরা, সচিত্রা সেনানায়েকে, কুশল পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথের কথা বলবো আমি। সচিত্রা তো পুরো টুর্নামেন্ট দারুণ বল করেছে। কুলাসেকেরা সময়ে সময়ে খুব বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রঙ্গনা যদিও পুরো টুর্নামেন্ট খেলেনি; কিন্তু দলে আসার পর থেকে যেমন উইকেট নিয়েছে, তেমন রান আটকেছে। কুশল সবচেয়ে ভালো কাজ যেটা করেছে সাঙ্গাকারা, দিলশান ও মাহেলার ওপর থেকে চাপ কমিয়ে ফেলেছে। ওকে দেখে আমার সনথের (জয়াসুরিয়া) কথা মনে পড়ছিল; সনথ ঠিক এই কাজটা করতো। কখনো কখনো দেখলে আপনার মনে হবে, বাজে শট খেলছে; কিন্তু ওদের স্টাইলই এমন।’ আসলে এমন ভালো সময়ে সবকিছুই ভালো মনে হয়। রানাতুঙ্গাও তাই প্রতিষ্ঠান বিরোধী, টি-টোয়েন্টি বিরোধী মনোভাব পাশে রেখে এই সময়টাতে শুধুই প্রশংসার ডালি মেলে বসলেন। বিশেষ করে অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালের প্রসঙ্গে তো প্রশংসায় পঞ্চমুখ এই লঙ্কান গ্রেট। চান্দিমাল যেভাবে দলের স্বার্থে একাদশেরই বাইরে চলে গেছেন, একে তিনি একটা উদাহরণ বলছেন, ‘ও ভালো ফর্মে না থেকেও কিন্তু শ্রীলঙ্কাকে এক নম্বর দল করার পথে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমি মনে করি, অধিনায়ককে বাইরে বসিয়ে রাখার অধিকার কারো নেই। দলের স্বার্থে, উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখতে চান্দিমাল নিজে যে এই আত্মত্যাগ করেছে, তার প্রশংসা করার ভাষা নেই আমার। আসছে দিনের ক্রিকেটারদের জন্য এটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে।’ সবশেষে স্বাভাবিকভাবেই সাঙ্গাকারা ও মাহেলার কথা উঠেছিল। রানাতুঙ্গার দলের পর আর যে দু’জন লিজেন্ড শ্রীলঙ্কা পেয়েছে, সেই দু’জনকে নিয়েই এখন চলছে খুব বিতর্ক। তাদের টি-টোয়েন্টি অবসর নিয়ে চলছে কথার লড়াই। রানাতুঙ্গা এখানে সাঙ্গা-মাহেলার পক্ষই নিলেন, ‘আসলে ক্রিকেটাররাই সবচেয়ে ভালো বোঝে যে, কখন অবসর নিতে হবে। আর ওরা তো গ্রেট ক্রিকেটার, ওরা অনেক ভালো বোঝে এটা। আগে তো আমরা দেখেছি, টি-টোয়েন্টি মূলত তরুণরাই খেলে। ফলে আমি মনে করি, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’