ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
বর্তমানের তরুণরা সত্যিই হতাশ
বর্তমানের তরুণ সমাজ হতাশাগ্রস্ত। এর জন্য যদিও অনেক বিষয় দায়ী, তবে আমার মনে হয় তরুণ সমাজের হতাশার বীজ তাদের বাল্যকালেই বপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার সময় দেখি ছোট ছোট ছেলেরা রিকশা চালাচ্ছে, বাস বা লেগুনায় হেল্পার হিসেবে থাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা, অনেকে আবার চা বিক্রি করছে যখন তাদের থাকার কথা স্কুলে। আমাদের আশেপাশে তাকালে এরকম অনেক উদাহরণই দেয়া যাবে। যার শিশুকালই কাটে শিক্ষাবিহীন এবং শিশুশ্রমের মাধ্যমে, তার তারুণ্যে হতাশা ছাড়া আর কোন পথ থাকারও কথা নয়। এসব সমস্যা, সমস্যা সৃষ্টির মূল থেকে সমাধান করতে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।
মো. ফরহাদ হোসেন
১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০
হতাশা নয়, দেখতে হবে আগামীর স্বপ্ন গড়তে হবে স্বদেশ
কবি বলেছেন- “আপন হূদয় সাগরে ডুব দিয়ে তুমি আত্মসমাহিত হও এবং জীবনের সার্থকতা লাভ কর/ তুমি আমার যদি না হবে না হও, নিজের তো হও। নিজেকে কেন নিজের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত করো”। মানুষ ও সমাজ যেন একই মুদ্রার দু’টি পিঠ। মানুষ ব্যতীত সমাজ আর সমাজ ব্যতীত মানুষ দু’টিই অকল্পনীয়। আর যে কোন সমাজের প্রাণশক্তি হল তরুণ যুবক। তারুণ্যের মাঝে রয়েছে উদ্যম আর মনের শক্তি যা তাকে নিয়ে যেতে পারে অধিক উচ্চতায় যদি সে উপলব্ধি করতে পারে। সমাজের অস্থিরতা আর বিরূপ পরিবেশ মনে ফেলতে পারে হতাশার ছাপ। এই ছাপকে সুন্দরের পরশে রাঙিয়ে তোলার দায়িত্ব যে তরুণদেরকেই নিতে হবে। হতাশা নয়, দেখতে হবে আগামীর স্বপ্ন, গড়তে হবে সোনার স্বদেশ সবাইকে।
মো. রাশেদুজ্জামান
কৃষি অনুষদ, লেভেল-৪, সেমিস্টার-১
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
০০০০০০০০০০
যদি তরুণদের যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে তরুণরা আর হতাশ হবে না
যে কোন দেশের উন্নয়নের জন্য সে দেশের তরুণ সমাজ অসামান্য অবদান রাখতে পারে। যদি সেই তরুণদের বুকে থাকে সাহস, নয় কোনও হতাশা। অথচ বাংলাদেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ লোক হতাশায় ভুগছে তার মধ্যে সিংহভাগই হচ্ছে তরুণ বেকার। ফলে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এদেশের তরুণ সমাজের বুকে কি পরিমাণ সাহস আছে তা বাঙালি কোনোদিন ভুলেনি, ভুলতে পারে না। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামে এদেশের তরুণ সমাজের অবদান অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই। কিন্তু সেই তরুণ সমাজের মনে আজ হতাশা। কারণ সঠিক সময়ে তারা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছে না। যার ফলে তারা নিজেদেরকে দেশ ও পরিবারের বোঝা মনে করছে। যদি এই তরুণদের যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে তরুণদের এই হতাশা একসময় আশায় পরিণত হবে বলে মনে হয়।
মো. শাকিল হোসেন
শিক্ষার্থী ও শিক্ষানবিশ সাংবাদিক
ভেটেরিনারি অনুষদ (লেভেল-১ সেমিস্টার-১)
আশরাফুল হক হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০
তরুণ সমাজ আজ হতাশ নয়
তরুণ সমাজ আজকে প্রকৃত অর্থেই হতাশ। তাইতো একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কয়েকটি প্রস্তাব রাখলাম। তরুণ সমাজকে হতাশামুক্ত রাখতে হলে বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জট দূর করতে হবে কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জটের কারণে লাখ-লাখ মেধাবী তরুণ-তরুণী হতাশ হয়ে পথ হারিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে গহীন সমুদ্রের পথে্। তরুণ সমাজকে হতাশামুক্ত করতে হলে সকল সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে কারণ বছরের পর বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন না-হওয়ার কারণে বেরিয়ে আসছে না জাঁদরেল কোন ত্যাগী ছাত্রনেতা আর এজন্য জাতি হয়ে পড়ছে প্রকৃত নেতৃত্বশূন্য এবং তরুণ সমাজ হতাশায় ডুবে হারিয়ে যাচ্ছে অজানা ঠিকানায়।
তারেক রহমান
স্নাতক সম্মান (বাংলা)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ।
০০০০০০০০০০
সুস্থ তরুণরাও আজ হতাশ
সাম্প্রতিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অসুস্থ তরুণদের কাছে স্বপ্নের ভবিষ্যত্ বলি দিতে হলো দুই তরুণের। সুস্থ তরুণেরা আজ বড় অসহায়। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট সর্বত্রই তারা হয়রানির শিকার। শিক্ষাজীবন শেষ করে মেধা অনুযায়ী যথোপযুক্ত কর্মক্ষেত্রে যেয়ে দেশ ও সমাজকে কিছু দেয়ার স্বাভাবিক পদ্ধতিও আজ খুব কম। ভাল চাকরি পেতে হলে তাকে অসুস্থদের লালনকারী মহলের কাছে ধরনা দিতে হচ্ছে। অসুস্থতার ভিড়ে সুস্থ মানসিকতা নিয়ে দেশ ও জাতির সেবা করার মত কর্মক্ষেত্র সুস্থ তরুণরা পাচ্ছে না। সুতারং আজকে সুস্থ তরুণরা মারাত্মকভাবে হতাশ।
মেহেদী হাসান মাছুদ
B.T.I.S (সম্মান)
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
