থাকব না ক বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগত্টাকে।
বাংলা
হিমন এডওয়ার্ড গমেজ
শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী’জ হাই স্কুল, ঢাকা
সংকল্প
প্রিয় শিক্ষার্থীরা আজ সংকল্প কবিতা থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা আলোচনা করা হলো
থাকব না ক বদ্ধ ঘরে
দেখব এবার জগত্টাকে।
আলোচ্য অংশটুকু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সংকল্প কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
উল্লিখিত অংশে কবি সুনিপুন ভাবে কিশোর যে ঘরে বসে থাকতে চায় না। সে বিশ্ব জগেক ঘুরে দেখতে চায়।
অসীম বিশ্বকে জানার অদম্য কৌতুহল রয়েছে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের। কিশোরের মনেও রয়েছে এ একই ইচ্ছা। বিশ্বের সব কিছুকে জানতে চায় যে কোন কিছুর বিনিময়ে। কিশোর ভেদ করতে চায় অসীম আকাশের অজানা রহস্যকে। সে অনুসন্ধান করতে চায় অসীমে, অতলে, অন্তরীক্ষে। সবকিছু জানার ও দেখার জন্য কিশোরের মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। তাই সে পৃথিবীকে ঘুরে ঘুরে দেখবেই।
বিশ্বজগত্ সর্ম্পকে কিশোরের জানার তীব্র বাসনা থেকেই সে ঘর ত্যাগ করতে চায়। এর জন্য নিজের জীবনকে মৃত্যুর মুখোমুখি পিছপা হবে না।
বিশ্বজগত্ দেখব আমি
আপন হাতের মুঠোয় পুরে
আলোচ্য অংশটুকু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সংকল্প কবিতা থেকে চয়ন করা হয়েছে।
উক্ত অংশে কবি এখানে বিশ্বজগেক খুব কাছে থেকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
অসীম বিশ্বকে জানার অদম্য কৌতুহল রয়েছে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের। কিশোরের মনেও রয়েছে এ একই ইচ্ছা। কিশোর জগতের সকল রহস্য জানতে চায়। তাই সে ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকতে রাজি নয়। কিশোর বুঝতে চায় কেন মানুষ ছুটছে সাগরে, মহাকাশে, পাতালে। বীরেরা কেন অনায়াসে জীবন দেয় তা সে বুঝতে চায়। সে জানতে চায় সাগরের অতল রহস্য, অসীম আকাশের। আপন হাতের মুঠোয় ধরে কোনো জিনিসকে যেমন খুব কাছ থেকে দেখা যায়, কিশোরও তেমনি বিশ্বজগেক নিজের হাতের মুঠোয় পুরে দেখতে চেয়েছে।
কিশোর পুরো মহাবিশ্বকে জানার মধ্য দিয়ে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসতে চেয়েছে।
কিসের নেশায় কেমন করে
মরছে যে বীর লাখে লাখে
কিসের আশায় করছে তারা
বরণ মরণ যন্ত্রণাকে।
আলোচ্য অংশটুকু বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সংকল্প কবিতা থেকে চয়ন করা হয়েছে।
উল্লিখিত অংশটুকুতে কবি চমত্কার ভাবে লাখো দুঃসাহসী বীরেরা কেন মরণ- যন্ত্রণাকে বরণ করছে তার উল্লেখ করেছেন।
অসীম বিশ্বকে জানার অদম্য কৌতুহল রয়েছে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের। কিশোরের মনেও রয়েছে এ একই ইচ্ছা। বিশ্বের সব কিছুকে জানতে চায় যে কোন কিছুর বিনিময়ে। কিশোর ভেদ করতে চায় অসীম আকাশের অজানা রহস্যকে। সে অনুসন্ধান করতে চায় অসীমে, অতলে, অন্তরীক্ষে। পৃথিবীর দুঃসাহসী মানুষেরা কী করে অসাধ্যকে সাধন করছে, লাখো লাখো বীরেরা মৃত্যু ও ভয় না করে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ছে সেসব রহস্য সে জানতে চায়। কিশোর জানতে চায় কিসের নেশায় এবং কেমন করেই বা মৃত্যুকে বরণ করছে তারা।
পৃথিবীকে ভালোবেসে মানুষের কল্যাণের জন্য বীরেরা মৃত্যুকে বরণ করে নেয়। কিশোরের কাছে এটি আর্শ্চযজনক মনে হয়েছে বলেই সে তা জানতে আগ্রহী হয়েছে।
