তরুণ সমাজের জন্য
নতুন অনুপ্রেরণার
প্রয়োজন
একজন তরুণের কাছ থেকে আমরা আশাকরি সে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু এখন তার বিপরীতটাই ঘটছে। এজন্য বর্তমান সমাজই দায়ী। আগে একটা শিশু জন্মের পর যেভাবে লালন-পালন করা হতো, এখন তাতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে শিশুদের মাঠে খেলতে দেয়া হতো। এতে একদিকে তাদের শরীর-স্বাস্থ্য ভাল থাকতো অন্যদিকে জ্ঞানও প্রসারিত হতো। কিন্তু এখন একটা শিশু বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তার হাতে তুলে দেয়া হয় মোবাইল, কম্পিউটার। এগুলোর ইতিবাচক দিক গ্রহণ না করে তারা নেতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করে। এতে সাইবার ক্রাইমের দিকে তারা অগ্রসর হয়। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার চেয়ে তারা মারামারি, হানাহানিতে বেশি আকৃষ্ট হয়। কেউ কেউ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তাই বলা যায় তরুণ সমাজ কিছুটা হতাশ।
সঞ্জিত মন্ডল
থিয়েটার এ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
===
স্বপ্নের বাস্তব
রূপদাতা তরুণ
তরুণ সমাজ ছাড়া দেশ ও জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা খুবই আশাহত। এক্ষেত্রে কিছু কিছু তরুণের নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ। স্বার্থের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া এসব তরুণ হতাশার জলে পাল ওড়াচ্ছে। কিন্তু পা পিছনে পড়ে যাওয়া এসব গুটি কয়েক তরুণের ছাপিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের আগামীর ভবিষ্যত্, আগামী স্বপ্নের রূপকার অসংখ্য তরুণ। তারা হতাশ নয় বরং হতাশা নামক যন্ত্রণাকে কাটিয়ে নতুন স্বপ্নে বিভোর রয়েছে।
ফারজানা তাসমিন
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, স্নাতক, প্রথম বর্ষ
সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল।
===
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি
তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার
চিন্তাকে হতাশ করে
আজ তরুণ সমাজ যেখানে আলোর সন্ধানে ছুটবে, দেশকে করে তুলবে সমৃদ্ধশালী সেখানে তারা প্রতিটি পদে পদে কুশিক্ষা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। যে শিক্ষার মাধ্যমে তারা ব্যক্তিকে আদর্শে পরিণত করবে, সেখানে তারা আজ রাজনীতি, রক্তপাত, দুর্নীতি অবহেলা দেখছে। কয়েক বছর ধরে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, পরীক্ষার রেজাল্টে পাশের পরিমাণ সংখ্যায় বৃদ্ধি যেন একটা প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। গুণগত মানের শিক্ষার দেখা নেই। আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রদানে বিগত সরকারগুলো থেকেই এরা ব্যর্থ হয়ে আছে। এরা নিজেরাই অশিক্ষায়-কুশিক্ষায় ভরা। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণে দেশের প্রতিটি মানুষই আতঙ্কে জীবন কাটায় এবং হতাশায় ভুগছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশকে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো খুবই কষ্টসাধ্য হবে এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।
মো. মাইনুল ইসলাম সিকদার
স্নাতক, দ্বিতীয় বর্ষ
কবি নজরুল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা।
====
সরকারের আন্তরিকতায়
তরুণরা হতাশামুক্ত
হতে পারে
আজকের তরুণ যেখানে জ্ঞান আরোহণ, বিদ্যা অর্জন করবে সেই পরিবেশটি এখন দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে তরুণরা এখন হতাশা, উদ্বিগ্ন। গত কয়েকমাস আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের প্রত্যেকটি বিদ্যাপীঠ সেশনজটে পড়েছে। রেহাই পায়নি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও। স্নাতক, স্নাতকোত্তর পাস করা তরুণরা চাকরি নিশ্চিত করতে পারে না। এমন কি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। নিয়োগ-বাণিজ্যসহ অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তরুণরা চাকরি বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। তাই তরুণদের হতাশামুক্ত করতে সরকারের আন্তরিকতার প্রয়োজন।
মিনহাজ ভূঞা
শিক্ষার্থী, শেষ বর্ষ, ফার্মেসী বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
====
তরুণরা হতাশ
হলে তো দেশই
হতাশ হবে
বাংলাদেশ তথা যে কোন দেশের নিবেদিতপ্রাণ তরুণ সমাজ। দেশের যে কোন উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অপরিমেয়। দেশের দুর্দিনে একমাত্র তরুণরাই ভরসা হিসেবে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক তরুণ খারাপ পথে পা বাড়িয়েছে। আমাদের তরুণ সমাজ চাইলে এদেশকে অনেক সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাবাদী লোক তরুণদের দিয়ে খারাপ কাজ বা দেশদ্রোহী কাজে লিপ্ত করছে। আমাদের বর্তমান সরকার তরুণদের অনেক উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। তবে শুধু হাতে নিলে হবে না এর সার্বিক বাস্তবায়ন জরুরি। দেশে যদি বেকারত্ব বা মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয় তবে তারা অনেক উন্নয়নে অবদান রাখবে। এজন্য উভয় রাজনৈতিক দলকে এদের সঠিক পথে চলার প্রেরণা দিতে হবে। একজন তরুণ হিসেবে আমারও স্বপ্ন আছে স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচা। আমরা আরো একটা যুদ্ধে নামতে পারি সেটা হল দেশ গড়ার যুদ্ধ।
আকাশ আহমেদ জারসা
সমাজ বিজ্ঞান, অনার্স -৩২১০
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুষ্টিয়া।
