টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনে সাফল্য

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫১
পুরুষ ও মহিলা টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যথাক্রমে পঞ্চম এবং চতুর্থ আসরের পরিসমাপ্তি হইয়াছে কয়েকদিন আগে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বৃহত্তম এই আয়োজনের সাফল্যে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভূয়সী প্রশংসা করিয়াছে। খেলা শুরু হইবার কয়েক মাস আগেও এই আয়োজন লইয়া বেশ শঙ্কা তৈরি হইয়াছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিস্থিতি যে অস্থিতিশীলতায় নিপতিত হইয়াছিল তাহাতে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টগণসহ ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বাংলাদেশে এই আসর আদৌ সম্ভব কিনা সেই প্রশ্ন উঠিয়াছিল। কিন্তু আয়োজনে প্রত্যাশিত সাফল্যের মাধ্যমে এদেশের মানুষ প্রমাণ করিয়া দিয়াছে যে, তাহারা যেকোন পরিস্থিতিতে একতাবদ্ধ হইয়া দেশের মর্যাদা উচ্চে তুলিয়া ধরিতে সক্ষম। বৈশ্বিক খেলাধুলার প্রথম কোন আসরের একক আয়োজক হিসাবে বাংলাদেশের সফলতাকে বিশ্লেষণ করিলে দেখা যাইবে বাংলাদেশ তাহার সামর্থ্যের সবটুকুই নিয়োজিত করিয়াছিল এই ক্রিকেটানুষ্ঠানে। তিলোত্তমা ঢাকা শহর সাজানো হইয়াছিল বর্ণিল আলোকে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরের ভেন্যু নিকটবর্তী এলাকাগুলিতে নেওয়া হইয়াছিল বিশেষ নিরাপত্তার কারণে যেইখানে জনগণেরও সহযোগিতা ছিল সত্যিই উল্লেখ করিবার মত। বিদেশ হইতে আগত দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বিশেষ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়াছে যাহা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ইহাছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই সময় কোন কর্মসূচি দেয় নাই যাহা আমাদের রাজনৈতিক চর্চা ও সংস্কৃতিতে নূতন এক মাত্রা যোগ করিয়াছে বটে। খেলার মাঠে বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড় বিশেষ কোন নৈপুণ্য প্রদর্শন করিলে তাহাকে অভিনন্দিত করিতে ভুল হয় নাই বাংলাদেশের দর্শকদের, ক্রিকেটীয় সংস্কৃতির অর্থ তো ইহাই। খেলা চলাকালীন কোথাও কোন বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষের ঘটনা গণমাধ্যমগুলির খবরে ছিল না বলিলেই চলে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ গত কয়েকটি সিরিজে ভাল পারফরমেন্স করিতে পারে নাই। ইহাতে এদেশের ক্রিকেটপ্রেমিগণ যারপরনাই মর্মাহত হইয়াছেন। কিন্তু পরাজয়ের পরও মাঠে দর্শকের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। ইহাতে সহজেই অনুমেয় যে, বাংলাদেশের মানুষ নিজ দলের জয় না দেখিলেও ‘ক্রিকেটের জয়ে’ বিমোহিত হইয়াছে। আয়োজক হিসাবে বাংলাদেশ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করিল, তাহা অনন্য। ভবিষ্যতে খেলাধুলার যেকোন অনুষ্ঠান আয়োজনে বাংলাদেশ স্বাগতিক দেশ নির্বাচিত ও বড় অংশীদার হইবার যোগ্যতা অর্জন করিল। বাংলাদেশের সুনাম আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে এখন সর্বজন সুবিদিত। কাজেই নিজ দলের ক্রীড়া নৈপুণ্যে সাময়িক সঙ্কটাবস্থা বিরাজ করিলেও দেশের অর্জন হইয়াছে পর্বতপ্রমাণ। মনে রাখা দরকার, স্বাগতিক দেশ হিসাবে খেলোয়াড়দের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত চাপ ও প্রত্যাশার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় নাই। এইক্ষেত্রে ইহা এইবার বড় অনুষঙ্গ হিসাবে কাজ করিয়াছে বলিয়া আমাদের অভিমত। কিন্তু খেলাধুলায় নানা প্রতিকূলতার উপস্থিতি সত্ত্বেও স্বাভাবিকভাবে খেলিয়া যাওয়া যেমন খেলোয়াড়ের দায়িত্ব তেমনি জয়-পরাজয় যাহাই আসুক, তাহাও মানিয়া লওয়া সকলের কর্তব্য। সামনের খেলাগুলিতে পূর্ব ত্রুটিগুলির যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ লইতে হইবে এখনই। ব্যাপকভিত্তিক টিমওয়ার্ক, খেলোয়াড়দের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি এবং শৃঙ্খলা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ এখন অধিক জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। নিয়মিত ঘরোয়া লীগের আয়োজনসহ স্কুল পর্যায় হইতে ক্রিকেটার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করিতে হইবে। ইহাছাড়া কোনরূপ স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক বিবেচনা ব্যতিরেকে খেলোয়াড় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের আবশ্যকীয় কর্তব্য। কেননা খেলোয়াড়দের ক্রীড়া নৈপুণ্যের সহিত দেশের মর্যাদা জড়িত। শত ঝঞ্ঝার মাঝেও একটি জয় এই দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের মনে উল্লাস-আনন্দের খোরাক যোগাইয়া থাকে। এই দেশে ক্রিকেট আর নিছক খেলা নহে, ইহা এখন বাংলাদেশের জাতীয় গর্বরূপে প্রতীয়মান, নাগরিক দুঃখ-কষ্ট ভুলিবার উপলক্ষ। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে গভীরভাবে অনুধাবন করিতে হইবে। পরিশেষে বাংলাদেশের ক্রিকেট অগ্রগতি লাভ করুক, ইহাই একান্ত প্রত্যাশিত।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন