আওয়ামী লীগ তারেক রহমানের ফাঁদেই পা দিচ্ছে

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫২
তারেক রহমানের ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে। চিলে কান নিয়েছে বলে কেউ চিত্কার করার সঙ্গে সঙ্গে পথিক নিজের কানে আগে হাত না দিয়ে যেমন চিলের পিছু পিছু ছুটেছে, তেমনি তারেক রহমান লন্ডনে বসে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর সেই ইতিহাস সম্পর্কে একটার পর একটা অসত্য তথ্য তুলে ধরছেন, আর আওয়ামী লীগ সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য লুফে নিয়ে তাকে একটি বিতর্কে পরিণত করে তারেক রহমানের ইচ্ছা পূর্ণ করছেন। অর্থাত্ তারেক রহমান বিদেশে বসে রাজনৈতিক হতাশায় ভুগতে ভুগতে বেপরোয়াভাবে কিছু অসত্য কথা বলে আওয়ামী লীগকে বাকযুদ্ধে নামিয়ে নিজে আবার গুরুত্ব পেতে চান। আওয়ামী লীগ তার পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন। তারেক রহমান তাতে খুশি ও উত্সাহিত হয়েছেন। “জিয়াউর রহমান দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন” এই অসত্য উক্তিটি করার পর আওয়ামী লীগ মহলে তাত্ক্ষণিক বিরাট প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি উত্সাহিত হয়ে তার দলের গোঁধরা একটি “সুশীল সমাজের” আরেকটি সমাবেশ ডেকে ঘোষণা করেছেন, “শেখ মুজিব বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।” আওয়ামী লীগের মধ্যে তার প্রথম অসত্য ভাষণের প্রতিক্রিয়া দেখে তার দ্বিতীয় সুশীল সমাবেশে তারেক রহমান আরো উত্সাহিত হয়ে বলেছেন, “আপনারা দেখেছেন আওয়ামী লীগ কিভাবে রিএ্যাক্ট করেছে। আপনারা যারা যুক্তরাজ্যে আছেন তারা গণতন্ত্রের সাথে পরিচিত। সুতরাং আপনারা বিচার করতে পারেন আওয়ামী লীগের আচরণ গণতান্ত্রিক কিনা? তারা আমাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। আমরা দেখলাম তারা গণতান্ত্রিক উপায়ে রিএ্যাক্ট করেনি। এটাই প্রমাণ করে আমরা যা বলেছিলাম তা সঠিক।” লন্ডনে একটি দ্বিতীয় সমাবেশ ডেকে তারেক রহমানের পক্ষে দ্বিতীয় আরেকটি ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো এবং প্রথম তথ্য বিকৃতি নিয়ে উল্লাস প্রকাশ সম্ভব হতো না, যদি আওয়ামী লীগ দল ও সরকার এই বক্তব্যকে এতোটা গুরুত্ব না দিতো। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার পর থেকে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতি, এমনকি তার দলের রাজনীতিতেও একেবারে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছেন। গুরুত্ব হারিয়েছেন। এই গুরুত্ব উদ্ধার করার জন্য তিনি এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। যা খুশি বলে নিজের অস্তিত্ব ও গুরুত্ব রক্ষা করতে চাইছেন। তার এসব কথা শুনে দেশের মানুষ হাসবে, তা জেনেও তিনি হাজার হাজার পাউন্ড খরচ করে (যখন তার মা বাড়ি ভাড়া দেওয়া নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন) লন্ডনে “সুশীল সমাবেশ” ঘটাচ্ছেন। কারণ, তার আশা আওয়ামী লীগ সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিয়ে এই পাতা ফাঁদে পা দেবে। মিথ্যাচারটিকে বিতর্ক করে তুলবে এবং এই বিতর্কের নায়ক হিসেবে তারেক রহমান আবার আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠবেন। আর কোনো রাজনৈতিক ইস্যু হাতে থাকলে তারেক রহমান এতো বড় মিথ্যাকে ইতিহাসের সত্য সাজিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিতে মাঠে নামার সাহস দেখাতেন না। কিংবা তার মা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকেও এই বিতর্কে জড়াতেন না। গত ৭ এপ্রিল লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারের একটি হলে তারেক রহমান যা বলেছেন, তা প্রলাপোক্তি ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু এসব কথা বলা ছাড়া তার কাছে আর কোনো রাজনৈতিক পুঁজি নেই। সমুদ্রে নিমজ্জমান ব্যক্তি যেমন তৃণকুটা চেপে ধরেও বাঁচতে চায়, তেমনি তারেক রহমান তার রাজনৈতিক সলিল সমাধি অনিবার্য জেনে ডাহা মিথ্যাকে আশ্রয় করেও বাঁচতে চান। আর কোনো ব্যাপারে নয়, বঙ্গবন্ধুকে আঘাত করা হলেই আওয়ামী লীগ সবচাইতে দ্রুত রিএ্যাক্ট করবে একথাটি জেনেই তিনি সরকারি দলের দুর্বল স্থানটিতেই আঘাত করেছেন। এবং আওয়ামী লীগকে এই কুতর্কে জড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এখানেই তার সুশীল বা সুধী সমাবেশের সাফল্য। রাজনৈতিক হতাশা থেকে মানুষ প্রলাপ বকে, এমনকি মিথ্যার আশ্রয়ও নেয়। তারেক রহমানের গভীর রাজনৈতিক হতাশার কারণ আছে। দেশে এক এগারোর রাজত্বকালে তাকে হাওয়া ভবনের মতো বিশাল সম্পদ ও সন্ত্রাসের দুর্গ, রাজনৈতিক আধিপত্য ও সবকিছু ফেলে ‘আর রাজনীতি করবেন না’ বলে মুচলেকা দিয়ে চিকিত্সার নামে ব্রিটেনে চলে আসতে হয়। তার বিরুদ্ধে আনীত গুরুতর দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মামলাগুলো মোকাবিলা করার ভয়ে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। চিকিত্সার নামে বছরের পর বছর বিদেশে কাটাতে হচ্ছে। এখানে বসে চক্রান্তের পর চক্রান্তের জাল তিনি বুনেছেন। কোনোটাই সফল হয়নি। নির্বাচন বর্জনের ফন্দিটিও ছিল তারই। তার আশা ছিল ১৯ দলীয় জোটের নামে বিএনপি ও জামায়াত সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে পারবে। তিনি দেশে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তাতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাচন শেষে বৃহত্তর আন্দোলন দ্বারা সরকারের পতন ঘটানোর পরিকল্পনা তারই। কিন্তু সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নামবে সে ভরসা তার নেই। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ মহলের কাছ থেকে জেনেছি, আরো ৫ বছর ক্ষমতা ও দেশের বাইরে থাকতে হলে তারেক রহমান ও তার মায়ের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও নেতৃত্ব যে আর থাকবে না এ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত। তাই ন্যায়-অন্যায় যে কোনোভাবে এই অস্তিত্ব ও নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তারেক রহমান এখন দিশেহারা। প্রয়োজনে জাতির পিতাকে কেন, নিজের পিতা জিয়াউর রহমানকেও বিতর্কিত করতে তার মনে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কিংবা বিবেক-পীড়া নেই। তাই শোনা যায়, তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বাঙালি জামায়াত সমর্থক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির সাহায্যে একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক তৈরি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এই মনগড়া অসত্য প্রচারের অভিযানে নেমেছেন। টাকা ছড়ালে কী না হয়। হিটলার তার মেইনক্যাম্প (তার রাজনৈতিক মতবাদের বই) প্রচারের জন্য দেশের সেরা কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে ভাড়া করেছিলেন। একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবীকে কতো সস্তায় কেনা যায় তার উদাহরণ তো আমাদের দেশেও রয়েছে। বর্তমানে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল জামায়াতপন্থি বুদ্ধিজীবীকে তো তেমন টাকা দেওয়ারও দরকার নেই। তারা জামায়াতী রাজনীতির স্বার্থে নিজ থেকেই তারেকের থিঙ্কট্যাঙ্কে যোগ দিয়ে তাকে বঙ্গবন্ধু-বিরোধী প্রচারণায় (তা অসত্য জেনেও) প্ররোচনা জোগাবেন তাতে আর বিস্ময়ের কি আছে? তারেক রহমানের দ্বিতীয় সুধী সমাবেশে যাদের নামের তালিকা দেখেছি, তা দেখে মনে মনে হেসেছি। ড. হাসনাত এম. হোসাইন, কার্ডিফের কে এমএ মালেক, সাংবাদিক নামধারী কে.এম. তাহের (এক সময় নাম ছিল তাহের সিঙ্গাপনি) প্রমুখ বহুকাল ধরে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক “সুধী” বলে পরিচিত এবং শিয়াল যেমন কুমীরকে তার তিনটি বাচ্চার একটিকেই বার বার দেখিয়ে তিন বাচ্চা দেখাচ্ছে বলে বুঝিয়েছিল, এই সুধীদেরও তেমনি বিএনপি বার বার তাদের সমাবেশে, বেতার ও টিভি টক শো’তে হাজির করে বিলেতের মানুষকে বোঝাতে চান তাদেরও একটি সুশীল অথবা সুধী সমাজ আছে। এই সুধী সমাবেশ ঘটানোর জন্য যে হলটি ভাড়া নেয়া হয়েছিল, তার ভাড়ার অর্থ নিয়েও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। হল ভাড়া করার নির্ধারিত সময় নিয়ে গোলমালের জন্য তারেক রহমান তার বক্তৃতাও শেষ করতে পারেননি। তাড়াহুড়া করে বিব্রত মুখে শ্রোতাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে বক্তব্য শেষ করতে হয় বলে লন্ডনের বাংলা কাগজে খবর বেরিয়েছে। এমন একটি সমাবেশ এবং তাতে তারেক রহমানের অসত্য বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের এতো হৈ চৈ করার কোনো প্রয়োজন ছিল বা আছে বলে আমার মনে হয় না। ঢাকার মিডিয়াগুলোতেও এতো হৈ চৈ অশোভন। আওয়ামী লীগের কোনো মাঝারি গোছের নেতা তারেক রহমানের অসত্য ও অসংলগ্ন বক্তব্যগুলোর দিকে তরুণ প্রজন্মের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেই যথেষ্ট হতো, যাতে তারা বিভ্রান্ত না হয়। পুরনো প্রজন্মের মানুষের ইতিহাসের সত্য জানা। তারেক রহমান শত প্রচারণা চালিয়েও তাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না। তারেক রহমানকে তার কেমব্রিজ থিঙ্কট্যাঙ্ক যতো অসত্য থিয়োরিই শেখাক, তা খণ্ডন করার জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থক, সাধারণ কলামিস্ট ও সাংবাদিকেরাই যথেষ্ট। কারণ, সত্যের ঢাক আপনি বাজে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ তারেক রহমানের অসত্য প্রচারণাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে তারই গুরুত্ব বাড়িয়েছেন এবং তার ইচ্ছা পূরণের ফাঁদে পা দিয়েছেন। তারেক যেসব মিথ্যাচার করছেন তা কি জবাব দেয়ার যোগ্য? বঙ্গবন্ধু নাকি পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন! জর্জ ওয়াশিংটন যখন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন, তখন তার পরিচয় ছিল ব্রিটিশ সাবজেক্ট। কিন্তু তার কোনো গুরুত্ব ছিল না। জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে স্বাধীন মার্কিন সরকার প্রতিষ্ঠার পর মার্কিন নাগরিকদের স্বতন্ত্র নাগরিক পরিচয় এবং আরো পরে পাসপোর্ট তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফেরেন, তখন কি বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল? তিনি এবং ড. কামাল হোসেন দেশে ফেরার সময় পাকিস্তানের পাসপোর্ট বহন করেছেন এমন খবরটি কে তারেক রহমানকে জানাল? বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করার সময় হানাদার বাহিনী তাদের পাসপোর্টও জব্দ করেছিল কি? করেনি। পাকিস্তানের এক অংশ থেকে অন্য অংশে নিয়ে যেতে পাসপোর্ট লাগে না। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও পাসপোর্ট ছিল না? তাহলে তিনি কিভাবে ব্রিটেন ও ভারত হয়ে দেশে ফিরলেন? বিশেষ ব্যবস্থায় ফিরেছিলেন। সহযোগিতা করেছিল ব্রিটেনের হীথ সরকার। এসব না জেনেশুনে নানাজনের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান নিজের অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন এবং লোক হাসাচ্ছেন। ড. কামাল হোসেন কি লিখেছেন তিনি কী ধরনের পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে ফিরেছেন অথবা দীর্ঘ দশ মাস পশ্চিম পাকিস্তানে থাকার সময় তার কাজকর্ম কী ছিল? তার কোনো বিবরণ দেশে ফিরে তিনি কাউকে জানিয়েছেন? ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেন একথা কি সত্য? মুজিবনগরের ঘোষণায় সংবিধান প্রণয়ন পর্যন্ত তার রাষ্ট্রপতি থাকার কথা থাকলেও সেই ঘোষণা প্রদানকারীদের ইচ্ছায় ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবশত রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া কি অবৈধ? তারেক রহমানকে এই তথ্য কে শেখাল? শেখ মুজিবের অনুসরণে পাকিস্তানের তত্কালীন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক শাসক জুলফিকার আলী ভুট্টো নতুন নির্বাচিত সরকার না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি থাকবেন এই বিধান থাকা সত্ত্বেও কি রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেননি? তা কি অবৈধ হয়েছিল? সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি মাত্র নজির, পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল পদে থাকাকালে খাজা নাজিমুদ্দীন ওই পদে ইস্তফা না দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেছিলেন। ফলে তার প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ কেউ কেউ অবৈধ বলেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের গণপরিষদ পরে তাকে বৈধতা দেয়। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সকলের ইচ্ছায় রাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণ করেছিলেন। এখানে অবৈধতার প্রশ্ন আসে কিভাবে? নিজের বিদ্যাবুদ্ধি না থাকলেই ভাড়া করা থিঙ্কট্যাঙ্কের কুবুদ্ধি দ্বারা তারেক রহমানের এভাবে প্রভাবিত হওয়া সম্ভব। তারেক রহমানের এই অসত্য প্রচারণার জবাব হচ্ছে, তাকে বা জিয়াউর রহমানকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাল্টা গালি দেয়া নয়, বরং বিদেশে বসে তিনি যেসব রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক বক্তব্য রাখছেন, কার্যকলাপ চালাচ্ছেন তা বন্ধ করা এবং দেশে তার বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মামলা আছে তার বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য সরকারের উচিত তাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা এবং সেজন্য ব্রিটিশ সরকারের উপর চাপ দেয়া। তা না করে তার নিত্য উদ্ভাবিত অসত্য প্রচারণার জবাব দিয়ে কোনো লাভ নেই। তাতে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানো হবে মাত্র। আমার ভবিষ্যত্ সম্পর্কে কিছু বলার ক্ষমতা ও শক্তি নেই। কিন্তু একটি কথা আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্বস্ত করার জন্য বলতে পারি। অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পারবে কিনা বা বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে আমি কিছু বলতে পারি না। কিন্তু আমার সাংবাদিক অভিজ্ঞতা বলে, বাংলাদেশে তারেক রহমানের ক্ষমতায় আসা বা রাজনীতিতে টিকে থাকা অসম্ভব ব্যাপার। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ধরনের একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের কখনো যোগ হবে না। [লন্ডন ১২ এপ্রিল, শনিবার, ২০১৪]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন