হিলসব্রো ট্রাজেডির পঁচিশ বছর পূর্তি আজ অ্যানফিল্ডকে নি:সন্দেহে এক আবেগের আঙ্গিনায় পরিণত করবে। একই সাথে হয়তো ঠিক করে দেবে প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী শিরোপাধারির নামও। স্বজন হারানোর পঁচিশ বছরের পুঞ্জীভূত শোককে শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সেই ম্যাচে লিভারপুল মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটির। অন্যদিকে, আবেগকে পাশে সরিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল লিভারপুলের সঙ্গে ব্যবধানটা কমিয়ে আনাই হবে সিটির লক্ষ্য।
পঁচিশ বছর আগে গ্রীষ্মের এমনই এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনেই রচিত হয়েছিল ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাবিধুর দিনগুলোর একটি। নটিংহ্যাম্পশায়ারের বিরুদ্ধে লিভারপুলের এফএ কাপের সেমিফাইনাল দেখতে হাজারো দর্শক ভিড় জমিয়েছিলেন শেফিল্ড ওয়েডনেসডের হিলসব্রো স্টেডিয়ামে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান ৯৬ জন লিভারপুল সমর্থক। ১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল ঘটা এই ঘটনার পঁচিশ বছর পূর্তি সিটির বিরুদ্ধে এই ম্যাচকে দান করেছে আলাদা বিশেষত্ব। তবে এর বাইরে ম্যাচটির ফুটবলীয় গুরুত্বও মোটেই কম নয়। কারণ, পয়েন্ট টেবিল বলছে এই ম্যাচই ঠিক করে দেবে লিগ শিরোপার গতিপথ।
৩৮ রাউন্ডের লিগে ৩৩ ম্যাচ শেষে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে লিভারপুল। অন্যদিকে, তাদের চাইতে দুই ম্যাচ কম খেলে চার পয়েন্ট কম নিয়ে সিটির অবস্থান তৃতীয় স্থানে। আর ৭২ পয়েন্ট নিয়ে তাদের মাঝখানের জায়গাটি চেলসির। আজ যদি লিভারপুল জিতে যায়, সেক্ষেত্রে সিটির চাইতে পরিষ্কার সাত পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে যাবে তারা। সেক্ষেত্রে, সিটি মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলো জিতলেও লিভারপুলকে পেছনে ফেলা কঠিনই হয়ে যাবে তাদের জন্য। যদিও, এ মাসের শেষ দিকে চেলসির সঙ্গে ঘরের মাঠে আরেকটি বড় ম্যাচে লড়তে হবে তাদের।
তবে, চেলসির বিরুদ্ধে লিভারপুলের পয়েন্ট হারানোর দিকে তাকিয়ে না থেকে সিটি চাইবে আজই লিভারপুলের সঙ্গে তাদের ব্যবধান কমিয়ে আনতে। হিলসব্রো ট্রাজেডিতে হারানো ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব না থাকলেও সেই আবেগকে এক পাশে রেখেই সিটি আজ মাঠে নামবে বলে জানিয়েছেন ম্যানুয়েল পেলিগ্রিনি। সফরকারি কোচ বলেন, ‘কোন সন্দেহ নেই দারুণ আবেগপূর্ণ একটা রাতই হতে যাচ্ছে এটা। তাই, যে দল মানসিকভাবে যতটা ধীরস্থির থাকতে পারবে তারাই ম্যাচে এগিয়ে যাবে।’
বড় ম্যাচগুলোতে মানসিক শক্তিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দেয় জানিয়ে সাবেক মালাগা কোচ বলেন, ‘এই ম্যাচের মতো বড় ম্যাচগুলোতে উদ্দীপনার কোন অভাব থাকে না। এক্ষেত্রে, পার্থক্য গড়ে দেয় উত্তেজনাকে লাগাম পরিয়ে রাখার বিষয়টি। সবার জন্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ।’ গুরুত্বপূর্ণ ভাবলেও এই ম্যাচকে শিরোপা নির্ধারণী হিসাবে মানতে নারাজ পেলিগ্রিনি। আজ প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না পেলেও সিটির শিরোপা স্বপ্ন মলিন হয়ে যাবে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটা এমন কোন ম্যাচ নয় যেটা শিরোপার গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে। তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যারা জিতবে তাদের জন্য বিষয়টি হবে খুবই তাত্পর্যপূর্ণ। দু’দলই জানে শিরোপা জিততে তাদের মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোর সবগুলোই জিততে হবে।’
এদিকে, মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে পেলিগ্রিনির জন্য বড় সুসংবাদ হয়ে উঠেছে দলের প্রধান স্ট্রাইকার সার্জিও অ্যাগুয়েরোর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে পাঁচ ম্যাচ বাইরে থাকার পর এরাতেই হয়তো মাঠে ফিরছেন এই আর্জেন্টাইন। শুধু অ্যাগুয়েরো নয়, সেন্টার ব্যাক মাটিজা নাস্টসিক বাদে নিয়মিত একাদশের সবাইকেই পাচ্ছে সিটি।
অ্যাগুয়েরো যদি সিটির উদ্দীপক হয়ে থাকেন, তাহলে লিভারপুলের ভরসা লুইস সুয়ারেজ। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই উরুগুইয়ান আজ মাঠে নামছেন দারুণ এক রেকডের্র হাতছানি সামনে নিয়ে। আর মাত্র দুটি গোল করলেই প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়বেন সুয়ারেজ। ২৯ গোল নিয়ে এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। তবে নিজের জন্য নয়, দলের জন্যই আজ গোল পেতে চান বলে জানালেন সুয়ারেজ। তবে স্বীকার করলেন রেকর্ডের হাতছানির বিষয়টিও। সাতাশ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘অবশ্যই এটা (রেকর্ড) হবে বিশেষ কিছু। তবে আমি মনে করি, লিভারপুলকে একটা ভাল মুহূর্ত উপহার দেয়াটা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর আমি প্রতি ম্যাচেই চাই গোল করতে। কারণ, একজন স্ট্রাইকার হিসাবে আমার কাজই এটা।’
আজ লিভারপুলকে আশান্বিত করতে পারে ঘরের মাঠে চলতি মৌসুমে তাদের দুর্দান্ত রেকর্ডের বিষয়টিও। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ সাতে থাকা দলগুলোর বিরুদ্ধে অ্যানফিল্ডে চারটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা। এক্ষেত্রে, ১৪ গোল দেয়ার বিপরীতে তারা হজম করেছে মাত্র একটি।
এদিকে, লিভারপুল-সিটি এই দ্বৈরথে অনেকটাই চাপা পড়ে যাওয়া রাতের অন্য ম্যাচে সোয়ানসি সিটির মাঠে আতিথেয়তা নেবে চেলসি।
