আবারও মোহামেডানে উল্লাস

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩১
মোহামেডান ০ (৫) সকার ক্লাব ০ (৪) দুপুর থেকে মতিঝিলে ব্যান্ড বাদ্য বাজিয়ে উত্সবের আমেজ তৈরি করছিল মোহামেডান সমর্থকরা। পটকা ফুটিয়ে আশেপাশে জানান দিচ্ছিলেন উত্সবের জন্য তৈরি সাদাকালো দলটি। ফেনীর সকার ক্লাবকে কী ব্যবধানে হারাবে তা নিয়েও আলোচনা চলেছে সমর্থকদের মধ্যে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেটা প্রমাণ করতে পারেনি জাহিদ হোসেন এমিলির দল। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঠিকই, তবে সেটা টাইব্রেকার শেষে। টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে ফেনীর সকার ক্লাবকে হারিয়ে মধুমতি ব্যাংক স্বাধীনতা দিবস ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো মোহামেডান। ফেনী সকার ক্লাবের সান্ত্বনা হলো তারা মোহামেডানকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। মোহামেডানের মতো দলকে এতটা সময় গোল করতে না দেয়ার সাহসটা তারা দেখিয়েছে। নামের ভার কিংবা তাদের দলের তারকা ফুটবলারদের পদচারণা - সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে হিসাব করলে কালকের ফাইনালে ৯০ মিনিটেই ম্যাচ জেতা উচিত ছিল মোহামেডানের। কিন্তু দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি সেটা পারেনি। মোহামেডান অনেক গোল মিস করেছে। এমিলি, বুরকিনা ফাসোর স্ট্রাইকার জঙ্গো গোল মিস করেছেন। সকার ক্লাবের বিদ্যুত্, ল্যান্ডিংও গোল মিস করেছেন। মোহামেডানের সামনে বাধা হয়েছিলেন সকার ক্লাবের গোলকিপার নেহাল। দারুণ খেলে মোহামেডানকে ঠেকানোর জন্য যা করা দরকার তা করেছেন। সর্বনাশটা ঘটেছে টাইব্রেকারে গিয়ে। ৫টা করে শট মারতে গিয়ে সকার ক্লাবের প্রথম শটটি গোল হয়নি। ফেনীর গাম্বিয়ান ম্যাথউ ম্যান্ডি, যাকে নিয়ে দলটির যত উচ্ছ্বাস, টাইব্রেকারে শট নিলেও তা ঠেকালেন মোহামেডানের গোলকিপার মামুন খান। ম্যাথিউর শটটা যেন ফেনীর অসংখ্য ফুটবল সমর্থকের মন ভেঙ্গে দিয়েছে। তেমনি তার শট ঠেকিয়ে মামুন খান মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন করার পথ করে দিয়েছেন। অথচ মামুন খান পুরস্কার পাননি, পেয়েছেন সকারের নেহাল। টুর্নামেন্টের ফাইনালে যদি মোহামেডান আবাহনী খেলতো এতোটা উত্তোজনা পূর্ণ হতো না এই ফাইনাল। এটা গত কয়েক বছরের ফুটবল মৌসুমের মোহামেডান আবাহনী ম্যাচের ইতিহাস বলে দেয়। আশাই করেনি কেউ ফেনীর দলটির সাথে মোহামেডানের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। মোহামেডানের মাথা ব্যথা ছিলেন ফেনীর তিন গাম্বিয়ান ল্যান্ডিং, ম্যাথিউ এবং কাব্বা জোয়ে। তাদের সাথে নাইজেরিয়ান চুকা চার্লস, দেশিয় ফুটবলারদের মধ্যে বিদ্যুত্, জাহিদ, শাহিন, রিদন হাঁড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মোহামেডানকে প্রতিহত করেছেন। মোহামেডান ভালো খেলেছে, তবে তারা আক্রমণে উঠে সেসবের পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারেনি। শুরুতেই মাঠে থেকেও জাহিদ ছিলেন সুপার ফ্লপ। তাকে এমিলি একটা নিশ্চিত গোলের বল বানিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু জাহিদ আকাশে মারলেন। অরূপ বল ভাসিয়ে দিয়েছিলেন বাতাসে। কিন্তু হেড করতে পারলেন না এমিলি। সকারের আক্রমণভাগে তিন গাম্বিয়ান ফুটবলার ল্যান্ডিং, ম্যাথিউ, কাব্বা জোয়েকে আটকানো সহজ কাজ ছিল না। তারপরও গোল করতে পারেনি। ল্যান্ডিং কয়েকবার আচমকা শট নিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্য ভালো বলে বেঁচে গিয়েছিল মোহামেডান। ম্যাচের শেষ ৩০ মিনিট মোহামেডান পুরোপুরি চাপে রেখে সকার ক্লাবকে গুঁড়িয়ে দেয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। কিন্তু জালে বল রাখতে পারেনি। মোহামেডানের জঙ্গো সকারের গোলকিপার নেহালকে একা পেয়েও বল বাইরে মারলেন। ম্যাচ গেলো টাইব্রেকিংয়ে। তাতে ভাগ্যের উপর ভর করে ট্রফি জিতল মোহামেডান। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হলো মোহামেডান। আবার উল্লাস করল মোহামেডান। চ্যাম্পিয়ন না হতে পারলেও সকার ক্লাবের আফসোস থাকবে না। কষ্ট থাকবে না ফেনীর ফুটবল দর্শকদের। কারণ তাদের দলটি দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। এর আগে ব্রাদার্সকে হারিয়েছে্, শেখ রাসেলকে হারিয়েছে। মোহামেডানকে ১২০ মিনিট গোল করতে দেয়নি। যে দলটি পেশাদার লিগে রেলিগেশন ঠেকানোর জন্য লড়াই করছিল, সেই দলটি এই টুর্নামেন্টে দর্শকদের মন জয় করেছে। ইতিহাস গড়তে না পারুক ফাইনাল পর্যন্ত উঠাই ছিল তাদের জন্য অনেক বড় সাফল্য। লিগে এখন সকার ক্লাবকে সমীহ করেই নামতে হবে অন্য দলগুলোকে। মোহামেডান মামুন খান, নাহিদুল, বাইবেক, হেনরী, অরূপ বৈদ্য, হেমন্ত (সোহাগ), ড্যামিয়েন, জাহিদ (ওয়াহেদ), সবুজ (সিফাত) জঙ্গো এবং এমিলি। সকার ক্লাব নেহাল, জাহিদ, শাহিন, লিটন, রমজান মোল্লা, বিদ্যুত্ (শাহরান), চুকা চার্লস, ল্যান্ডিং, কাব্বা জোয়ে, ম্যাথিউ ম্যান্ডি এবং রিদন (আব্দুল্লাহ আল মামুন)। রেফারি ঃ জালাল উদ্দিন।