পুরো মৌসুমের অপ্রতিরোধ্য রূপটা মৌসুমের শেষ দিকে এসে যেন হারিয়ে ফেললো বায়ার্ন মিউনিখ। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে বুন্দেসলিগায় দ্বিতীয়বারের মতো হেরে গেছে দলটি। গত শনিবার রাতে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে ব্যাভারিয়ানরা। গত সপ্তাহে অগসবার্গের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল বায়ার্ন। লীগ শেষ হবার সাত ম্যাচ আগেই নিজেদের শিরোপা নিশ্চিত হবার পরেও পরপর দুই ম্যাচে হার স্বাভাবিক ভাবেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিব্রত করে তুলেছে। তবে হারের ধাক্কা সামলে দ্রুতই ছন্দে ফিরতে আত্মবিশ্বাসী বায়ার্ন কোচ পেপ গার্দিওলা।
মঙ্গলবার মাদ্রিদের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ২-০ গোলের জয়েও অবশ্য বরুসিয়ার ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে টিকে থাকা হয়নি। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে উঠেছে রিয়াল। পয়েন্ট টেবিল বিবেচনায় ঐ ম্যাচের মতোই এই জয়টিও হয়তো কোন কাজে আসবে না। তবে শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় বরুশিয়াকে অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলেই বিশ্বাস ডর্টমুন্ড কোচ জার্গেন ক্লপের।
এর আগে পুরো মৌসুমে কোন ম্যাচেই পরাজিত হয়নি বায়ার্ন। কিন্তু গত সপ্তাহে অগসবার্গের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারের পর এই হার; পরপর দুই ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় তিন সপ্তাহ আগেও যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুসিয়ার সাথে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান ছিল ২৫ এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭তে। ম্যাচ শেষে বরুসিয়া কোচ জার্গেন ক্লপ বলেছেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই নিজেদের পরিকল্পনা ঠিক করে খেলেছি, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গোলও আদায় করে নিয়েছি। আগের ম্যাচগুলোতেও তার প্রমাণ ছিল। কিন্তু যখন বায়ার্নকে ৩-০ গোলে হারাতে পেরেছি তখন মনে হচ্ছে সঠিক পথেই আমরা রয়েছি। এটা ছিল পুরো দলে দারুণ এক পারফরমেন্স।’
স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক কৌশলে বাদ দিয়ে গার্দিওলা এ রাতে বেছে নিয়েছিলেন রক্ষণাত্মক কৌশল। আর ম্যাচের প্রথম থেকেই এর সুবিধা নিতে থাকে সফরকারিরা। হেনরিখ খিটারিয়ান, মার্কো রেয়াস আর জোনাস হফম্যানের দূরন্ত গতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছিল বায়ার্ন ডিফেন্সকে। শেষ পর্যন্ত গোল পান এই তিনজনই।
পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত ফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারার তৃপ্তি ছিল রেয়াসের কণ্ঠেও, ‘আমরা শুরু থেকেই তাদের উপর আক্রমণ চালাই। তাদের বিরুদ্ধে এই একটি পথই আমাদের সামনে খোলা ছিল। একটু সময়ের জন্যও যদি আমরা ম্যাচ ছেড়ে দিতাম তবে তা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যেত। এটাই কালকের সাফল্যের গোপন রহস্য।’
কৌশল পাল্টালেও সম্ভাব্য সেরা একাদশটাই এদিন সাজিয়েছিলেন গার্দিওলা। তবে মৌসুমের সবচেয়ে বড় পরাজয় ঠেকাতে সেটা যথেষ্ট ছিল না। ২০১২ সালে জার্মান কাপের ফাইনালে বার্লিন অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বরুসিয়ার কাছে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হবার পরে এত বড় ব্যবধানে তারা কোন কোন ম্যাচে হারেনি। তবে সামনেই হয়তো এই হারের বদলা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে বায়ার্ন। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিএফবি পোকাল কাপের ফাইনালেই দেখা যেতে পারে দু’দলকে। অবশ্য তার আগে সোম ও মঙ্গলবার দুই সেমিফাইনালে উভয় দলকে জিততে হবে। সোমবার বায়ার্ন ঘরের মাঠে দ্বিতীয় সারির দল কেইসারস্টার্নকে এবং ডর্টমুন্ড উল্ফসবার্গকে আতিথেয়তা দিবে।
তবে রিয়ালের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগের আগেই বায়ার্ন এই হারের ধাক্কা সামলে উঠবে বলে আশাবাদী গার্দিওলা। শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর এ ধরনের দু’একটা হারকে খুব বড় কিছু ভাবতে নারাজ সাবেক বার্সেলোনা কোচ, ‘আপনি যখন শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলবেন, তখন কয়েকদিন হয়তো আপনার এমন দিন যাবে। বার্সেলোনায়ও আমার অভিজ্ঞতাটা এমনই ছিল। তবে এখন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে দ্রুতই (আগের ফর্মে) ফেরা।’
মৌসুমের শেষে ফ্রি ট্রান্সফার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পোলিশ তারকা রবার্ট লিওয়ানোদোস্কি বায়ার্নে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু তার আগে কাপ ফাইনালের শিরোপাটা নিজেদের করে নিতে চায় ডর্টমুন্ড, এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন লিওয়ানোদোস্কি। গত জুলাইতে জার্মান সুপার কাপে ৪-২ গোলে জয়ী হবার পরে এটা ছিল মৌসুমে বায়ার্নের বিপক্ষে ডর্টমুন্ডের দ্বিতীয় জয়। যদিও নভেম্বরে বুন্দেসলিগায় নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল বরুসিয়া।
