প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হইবার লড়াইয়ের কালে অভ্যন্তরীণ বিষয়াদিতেই প্রধানত মনোসংযোগ করিতে হইলেও, দ্বিতীয় মেয়াদে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এই ক্ষেত্রে অনেকটাই ‘খোঁড়া পাতিহাঁস’ হিসাবেই পরিগণিত হইয়া থাকেন। ইহার বিবিধ কারণ রহিয়াছে। প্রথমত, তাহারা অভ্যন্তরীণ এমন কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করিতে চাহেন না যাহা একান্ত প্রয়োজনীয় হইলেও দীর্ঘ সময় দাবি করে কিংবা যাহাতে বিতর্কিত হইবার ঝুঁকি থাকে। দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্টের নিজের দলও সাধারণত এই ধরনের বিষয়াদিতে নূতন প্রার্থী লইয়া অগ্রসর হইতে পছন্দ করে। কিন্তু এইবার বারাক ওবামা কিছুটা নূতন পথে হাঁটিলেন বলিয়া মনে হইতেছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোট ব্যবস্থা লইয়া প্রতিদ্বন্দ্ব্বী রিপাবলিকান পার্টির কড়া সমালোচনার মাধ্যমে ইহার সূচনা ঘটাইলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মানুষজনকে ভোটদানে বিঘ্ন ঘটাইবার জন্য রিপাবলিকানদের দূষিলেন ওবামা। তিনি জানাইয়াছেন যে, নিত্য-নূতন নানা ধরনের প্রমাণপত্রের প্রয়োজনীয়তা যুক্ত করিয়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যেই ভোটদানের ব্যাপারে সাধারণ্যে নিরুত্সাহ বাড়াইয়া চলিয়াছে রিপাবলিকানরা। উল্লেখ্য, কেবলমাত্র গত বত্সরেই রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সাতটি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটদানের ব্যবস্থা বাতিল ও ভোটকেন্দ্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করিয়া আইন পাস হইয়াছে। আরও কিছু রাজ্যে এই ধরনের ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হইতেছে। রিপাবলিকানদের মতে, নির্বাচন ব্যবস্থার যথার্থতা রক্ষা এবং ভোট জালিয়াতি ঠেকাইবার জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের দুই-একটি নির্দেশনাকেও ব্যবহার করা হইতেছে। দৃশ্যত, রিপাবলিকান এহেন উদ্যোগে বলিবার কিছু নাই। কিন্তু বাস্তব ঘটনা ততখানি সরল নহে। মূলত উভয়পক্ষই অবগত আছে যে, সরকারি প্রমাণ-পত্রহীন অভিবাসী সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ ভোট ঐতিহাসিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের বাক্সেই বেশি যায়। আর এই দলটি অবৈধ অভিবাসীদিগের ব্যাপারে রিপাবলিকানদের তুলনায় নমনীয়ও বটে। রিপাবলিকানরা কোনোভাবেই এইসব লোকজন ভোটের অধিকার পাইয়া যাক তাহা চাহে না। এইদিকে ডেমোক্র্যাটরা আছে অন্য যন্ত্রণায়। তাহারা বর্তমানে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ বটে, কিন্তু নভেম্বর মাসের নির্বাচনের পরে তাহা অটুট থাকিবে কিনা সেই বিষয়ে সমূহ সন্দেহ রহিয়াছে।
দলের বিপদ বুঝিয়াই, ধারণা করা যায় যে, ভোট প্রদানের নিয়মাদি শিথিলের পক্ষে-বিপক্ষের আলোচনা উসকাইয়া দিলেন ওবামা। ডেমোক্র্যাটরা সম্ভবত আশা করিতেছে যে, নাগরিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিতর্ক তাহাদের শিবিরে নূতন করিয়া প্রাণের সঞ্চার করিবে এবং কর্মী-সমর্থকেরা গা ঝাড়া দিয়া উঠিয়া রিপাবলিকান বিজয় ঠেকাইতে উদ্যোগী হইবে। বস্তুত, ইহার কোন বিকল্প ডেমোক্র্যাটদের হাতে তেমন কিছুই নাই। সাধারণত এই ধরনের এক দফা নূতন মুখ আনয়নকারী সিনেট নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার বেশ নিম্নমাত্রাতে থাকে। এইদিকে ডেমোক্র্যাটরা আবার প্রথাগতভাবেই ভোট দিতে যাইবার ব্যাপারে রিপাবলিকানদের তুলনায় কম উত্সাহী। এইবার একই ঘটনা ঘটিলে সিনেট ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হইয়া যাইবে। অন্যদিকে, নিম্নকক্ষ, হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভস আগে হইতেই রিপাবলিকানদের হস্তগত থাকিবার কারণে, দ্বিতীয় মেয়াদে যেকোন ইচ্ছা পূরণেই বারাক ওবামাকে দুস্তর বেগ পাইতে হইবে। এই বাস্তবতা বুঝিয়াই সম্ভবত সিভিল রাইটস অ্যাক্ট পাস হইবার অর্ধশত বার্ষিকী উদযাপনের একদিনের মাথাতেই ভোটদানের জন্য প্রমাণ-পরিচয়ের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে সোচ্চার হইয়া ভোটাধিকারকে মানবাধিকার হিসাবে দেখাইবার প্রয়াস চালাইলেন ওবামা।
