তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৬
তরুণ সমাজ হতাশ নয় বরং আশাবাদী তরুণরাই পারে একটি আদর্শ সমাজ গঠন করতে। তাদের সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার পেছনেই সমাজের উন্নয়ন অনেকাংশই নির্ভর করে। এই তরুণরা যখন তাদের চিন্তাধারা ও কাজ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয় তখন তাদের ব্যক্তি উন্নয়নে ও সমাজ গঠনে আসে এক বিরাট বাধা। বর্তমানে দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি একটু অস্বাভাবিক হলেও তরুণ সমাজ এ নিয়ে তেমন বেশি হতাশ নয়। তারপরেও এই সকল তরুণদের তারুণ্যের কথা বিবেচনা করে আমাদের দেশে দায়িত্বশীল লোকদের উচিত তাদেরকে হতাশার দিকে ঠেলে না দিয়ে আরো অধিক আশাবাদী করে গড়ে তোলা। তাহলেই এ দেশ নিয়ে তরুণদের মাঝে হতাশার চেয়ে আশার আলো বেশি ফুটে উঠবে। মেহেদী হাসান রিযাদ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ৭ম পর্ব, রহমতপুর, বরিশাল। === মেধাবীদের চাকরিলাভের ক্ষেত্রে সুযোগ দিয়ে তরুণদের হতাশা লাগবের ব্যবস্থা করা হোক বাংলাদেশে কর্মহীন বেকার যুবকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি একটি দৈনিক পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে দেশের উচ্চ শিক্ষিত বেকারের হার ৪৭%। যা দেশের বেকারত্বের সার্বিক চিত্র প্রকাশ করছে। বর্তমানে চাকরি ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোটা বিদ্যমান থাকায় এই বেকারত্বের তিব্রতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় বি,সি,এস-এ ৫৬% কোটা বিদ্যমান। এছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৫% কোটা এবং বিভিন্ন সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০% নারী কোটা ১০% থেকে ১৫% ও প্রতিবন্ধী কোটা, প্রভৃতি কোটা ব্যবস্থা বিদ্যমান। এসব কোটা ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকার কারণে প্রকৃত মেধাবীরা চাকরি লাভ হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে দেশে একদিকে যেমন দক্ষ প্রশাসনের অভাব দেখা দিচ্ছে অন্যদিকে মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, যা দেশের জন্য অশনি সংকেত। মো: নূরনবী স্নাতকোত্তর, পদার্থ বিজ্ঞান, আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ। ==== নেশামুক্ত দেশ গড়ে তুলতে পারলে তরুণদের জীবনটা ফুলের মত সুন্দর হতো আজকের তরুণ সমাজ নানা ভাবে হতশাগ্রস্ত। তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো নেশা। আমাদের দেশে তরুণ সমাজ নেশাগ্রস্ত হয়ে ভবিষ্যত্ জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের সমাজে আজকাল যেকোন নেশাদ্রব্য পথে-ঘাটে পাওয়া যাচ্ছে। অনেক সময়ে বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পরে অনেক তরুণ সমাজ নেশার দিকে ধাবিত হচ্ছে। নেশা এমন একটি জিনিস যা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। তরুণ সমাজ নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে রাস্তায় পকেটমার, চুরি , ডাকাতি প্রতিনিয়তই ঘটছে। নেশার কবলে পরে তরুণ সমাজ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মো: শাহিন মিয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, ময়মনসিংহ। === হতাশার দোলায় দুলছে তরুণ সমাজ আমরা তরুণ, আমরা নবীন, আমরাই গড়ব দেশ। এই কথার কোনো সুমর্যাদা আমরা দিতে পারিনি। বরং আমরা বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে হতাশার দোলায় দুলিতেছি বারংবার। আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগিতেছি। কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক? তা আমরা কিছুতেই বুঝিতে পারিতেছি না। বরং আমাদের রাজনীতিবিদরা আমাদের কাছে আমাদের সোনালী ইতিহাসসমূহকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। সেখানে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা সেটা জানাই আমাদের জন্য অনেক কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি একজন তরুণ হিসেবে সমগ্র তরুণ প্রজন্মের কথা তুলে ধরে বলতে চাই, আমাদের সামনে আপনারা, আমাদের সেই স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাসসমূহ তুলে ধরুন, যাতে আমরা জাতি হিসেবে আর বিব্রত না হই। আর এজন্যই আমি/আমরা হতাশার দোলায় দুলছি। সাইদুর রহমান, ফিন্যান্স বিভাগ, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা। === তরুণ সমাজ আজ সত্যিই হতাশ, আর এর নেপথ্যে নষ্ট রাজনীতিই মূলত দায়ী আজকের তরুণরা যারা কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে তারা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই দেখে আসছে মারামারি, হানাহানি এমনকি খুনও। যার ফলে তাদের মেধা হয়ে পড়ছে কলুষিত। আর এইসব অপকর্মের কোন বিচার না হওয়ায় তারা নিজেরাও এতে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের প্রতিভাকে অন্যদিকে ধাবিত করে। যার ফলে তারা দেশ, জাতি এবং তাদের মা-বাবার স্বপ্নকে স্বার্থক করতে পারে না। যে ছাত্র একদিন তার মা বাবার শুকনো মুখে হাসি ফুটাতে পারতো নষ্ট রাজনীতির কবলে পড়ে সে সেই হাসির বদৌলতে তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়। আর যতদিন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এই নষ্ট রাজনীতি দূর করা সম্ভব না হবে ততদিন পর্যন্ত তরুণ সমাজ তথা গোটা জাতিকে এরকম হতাশার মধ্য দিয়েই দিন কাটাতে হবে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে অস্ত্র দিয়ে নষ্ট রাজনীতি না হয় সে ব্যাপারে সুধী মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি। মো. রুবেল আশওয়ান বিবিএ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন