তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪১
হতাশা কাটিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে তরুণরা দেশের অস্থির রাজনীতির প্রভাব পড়ছে তরুণ সমাজে। দেশে উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের দায়িত্বহীনতা তরুণ সমাজের হতাশার কারণ। শিক্ষাঙ্গনে যে ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটে সেগুলো যদিও তরুণরাই ঘটাচ্ছে কিন্তু যেসব তরুণরা এসবের বিরুদ্ধে তারা তো হতাশ। আমি আমার অবস্থান থেকে বলব দেশের সার্বিক পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয় তবে হতাশা ছাড়া আমাদের তরুণ সমাজের সামনে আর কিছুই থাকবে না। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনের অবহেলা আমাদের আরও বেশি হতাশ করে। এভাবে আর কতদিন চলবে? কতদিনই বা এ হতাশায় থাকব। তরুণদের রয়েছে অদম্য প্রাণশক্তি। হতাশা কাটিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আমরা তরুণরাই সুন্দর দেশ গড়ব। তাতিয়া বিশ্বাস স্মৃতি সম্মান ১ম বর্ষ, কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০০০০০ তরুণদের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু দিক-নির্দেশনা বর্তমানে অনেক বেকার তরুণ তাদের মেধার মূল্যায়ন পায় না। তাদের কাজ করার শক্তি আছে, দৃঢ় মনোবল রয়েছে কিন্তু প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণে তারা বেকার। ফলে তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে। তারা অনেক ক্ষেত্রে পূরণ করতে পারছে না তাদের মৌল মানবিক চাহিদাগুলোও। অপসংস্কৃতি এবং অপরাজনীতির কু-প্রভাবে তারা দূষিত হচ্ছে। এসব তরুণদের প্রয়োজন দক্ষ নেতা, কর্মসংস্থান, দেশি সুস্থ সংস্কৃতি, স্বকর্ম প্রকল্প, মেধার মূল্যায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট হ্রাস ইত্যাদি। তাদেরকে মাদকমুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা মুক্ত করতে হবে। তাদের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে যাতে কোন ছেদ না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের তরুণরা ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ করবে। খন্দকার আরাফাত আহমেদ ডিগ্রী প্রাইভেট (বিএসএস ২য় বর্ষ) সরকারি বাংলা কলেজ। ০০০০০০০০০০০ আর কত মায়ের বুক খালি হলে-সব বিশ্ববিদ্যালয়ের টনক নড়বে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে ও সেই সাথে ভালো মানুষ হতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঠিকই কাগজ-কলমে শিক্ষিত হচ্ছে, আদৌ ভালো মানুষ হতে পেরেছে কি? এ ব্যর্থতা শুধু কি বিশ্ববিদ্যালয়ের, না কি ছাত্রদেরও। শুধু কাগজ-কলমে শিক্ষিত না হয়ে ভালো মানুষ হতে যে শিক্ষার প্রয়োজন সেই শিক্ষা অর্জন করতে হবে। আর সর্বদাই স্মরণ রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার জায়গা; এটি মারামারি, কাটাকাটি বা খুনাখুনির জায়গা নয়। দিন যতই যাচ্ছে ততই মানুষের মধ্য হতে মানবিক মূল্যবোধ তথা মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। এর একটাই কারণ, অন্যায়কারীরা অন্যায় করে ছাড় পেয়ে যায়। অন্যায় ছোট হোক বড় হোক অন্যায় তো অন্যায়ই। সুতরাং, অন্যায়কারীকে কখনোই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। তাই সব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সব ছাত্র-ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যাতে পরবর্তিতে আর কোন মায়ের বুক খালি না হয় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মো: আউয়াল মিয়া শিক্ষার্থী; লেভেল-১, সেমিস্টার-১ ; কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ; বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সময় তার যৌবনকাল । ০০০০০০০০০০০ তরুণদের আলোর পথ দেখাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি এ সময় একজন মানুষ থাকে সবচেয়ে বেশি সাহসী, উদ্যমী, দুর্দম, প্রাণচঞ্চল, ভয়ডরহীন ও লক্ষ্যে অবিচল। সমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ হচ্ছে তরুণ সমাজ । তাদের হাত ধরেই সমাজ তথা দেশের যাবতীয় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে। তাই হতাশার অন্ধকার নয় বরং তরুণদের আলোর পথ দেখানোর জন্য সকলের মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। জাহিদ হাসান মাস্টার্সে অধ্যয়নরত, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০ তরুণ সমাজের অধিকাংশই হতাশার অতলতলে নিমজ্জিত অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সংস্কৃতির অপব্যবহার, ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, চাকরি না পাওয়া এবং প্রেমে ব্যর্থতা ইত্যাদি কারণেও তরুণ সমাজ প্রতিনিয়ত হতাশায় পতিত হয়ে মাদকদ্রব্য বেছে নিচ্ছে। মাদকদ্রব্যের করাল গ্রাসে ধ্বংস হচ্ছে জাতির শ্রেষ্ঠ মানব সম্পদ তরুণ সমাজ, উপনীত হচ্ছে বর্বর শ্রেণিতে। অতএব, সমাজের সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রতি আমার আকুল আবেদন—তারা যেন বেকারত্ব হ্রাসকরণে, অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে, সংস্কৃতির অপব্যবহার রোধে, নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে এবং মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বন্ধকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান তরুণ সমাজকে জাতির মহামূল্যবান সম্পদে পরিণত করেন। তবেই জাতি গর্বিত জাতিতে পরিণত হবেন। মো. শফিকুল ইসলাম সমাজকর্ম বিভাগ, সম্মান চতুর্থ বর্ষ, শিক্ষাবর্ষ ২০০৮-০৯, সরকারি বরিশাল কলেজ, বরিশাল

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন