বোর্ডে ফেরা হচ্ছে না শ্রীনিবাসনের

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০২
ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বোর্ড অব ক্রিকেট কন্ট্রোল ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সভাপতির আসনে ফেরার রাস্তাটা কঠিন হয়ে উঠছে এন শ্রীনিবাসনের। সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে গিয়ে এবার উল্টো বিপদেই পড়ে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পদচ্যুত সাবেক এই সভাপতি। আপিল নাকোচ করে দেয়ার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত যে ১৩ জনের নাম বিচারপতি মুডগাল কমিটির রিপোর্টে এসেছে তাদের একজন হলেন চেয়ারচ্যুত এই বিসিসিআই সভাপতি। গতকাল বুধবার ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এন শ্রীনিবাসনকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রধান থেকে সরে দাঁড়াতে বলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বলবত্ থাকবে। অর্থাত্ অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার ও আইপিএলের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকবেন সুন্দর রতন। এর আগে, গত ২৮ মার্চ আদালতের নির্দেশে বিসিসিআইয়ের সভাপতির পদ থেকে সরে যেতে হয় শ্রীনিবাসনকে। গত মঙ্গলবার তিনি রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করেন। বুধবার আদালত বলে, শ্রীনিবাসন তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন না। বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ালেও দুবাইয়ে গত ৯ ও ১০ এপ্রিল আইসিসির সভায় বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন শ্রীনিবাসন। আর আগামী জুলাইয়ে ‘তিন মোড়ল’ ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবে চলে যাওয়া আইসিসির সর্বক্ষমতাসম্পন্ন চেয়ারম্যান হওয়ার কথা তার। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সমপ্রতি এক আদেশে শ্রীনিবাসনকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে বোর্ডের দায়িত্ব সুনীল গাভাস্কার (আইপিএল বিষয়ক) ও শিবলাল যাদবকে (অন্যান্য সব বিষয়ে) ভাগ করে দেয়। শ্রীনিবাসনের জামাই গুরুনাথ মুয়াপ্পানের বিরুদ্ধেই বাজি ধরা ও বাজিকরদের কাছে তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাই আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই শ্রীনিবাসনের সরে দাঁড়ানোটা প্রয়োজন বলে সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের একটি বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে বলা হয়। এছাড়া বিসিসিআই বা আইপিএলের সঙ্গে শ্রীনিবাসনের কোম্পানি ইন্ডিয়া সিমেন্টসকে জড়িত করতে নিষেধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০০৮ সাল থেকে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন শ্রীনিবাসন। এছাড়া আইপিএলের দল চেন্নাই কিংস দলের মালিকও এই ইন্ডিয়ান সিমেন্ট। এর আগে চেন্নাই সুপার কিংসের গুরুনাথ মায়াপ্পনের বিরুদ্ধে আইপিএলে বাজি ধরা এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রমাণ পায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন। সাবেক বিচারপতি মুকুল মুডগালের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন এর আগে তাদের যে প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয়, তার ওপরই এই শুনানি চলছে। ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীশান্তসহ রাজস্থান রয়্যালসের তিন ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর থেকে এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত অনেকের পরিচয় ফাঁস হতে থাকে, গ্রেফতার হন আরো কয়েকজন। তারই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার হন চেন্নাই সুপার কিংসের ‘প্রিন্সিপাল’ ও শ্রীনিবাসনের জামাই গুরুনাথ মায়াপ্পন। এরপর শ্রীনিবাসনের পদত্যাগের দাবি ওঠার পর বিসিসিআইয়ের এক জরুরি সভায় তাকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অবশ্য কিছুদিন পরই জামিনে মুক্তি পান মুয়াপ্পান। শ্রীনিবাসনও বোর্ড প্রধানের দায়িত্বে ফেরেন। তবে পরে আদালতের রায়ে আবার দায়িত্ব ছাড়তে হয় তাকে। এখন আপিল করেও ফিরতে পারলেন না তিনি।