তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো সচিবদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট প্রণয়নের কথা বলেছেন। সচিবরা জেলা পরিষদ ও নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিদ্যমান আইনের কার্যকর ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে অধিকতর শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবরা যে খুবই আন্তরিক এ বিষয়টি উক্ত বৈঠকে পরিষ্কার হয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একাধিক ধাপ রয়েছে, যা ইউপি থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট মেম্বর নির্বাচন পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্যই হয়েছে। অথচ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এক চোখা নীতির ফলে ব্যবস্থাটি দৃঢ় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এগুতে পারে না। বিরোধীদল থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা নিতে পারেন না। যার ফলে নির্বাচক জনগণ নাগরিক অধিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। উপরন্তু একাধিক ধাপের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকট হওয়ায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাও ইমেজ সঙ্কটে উপনীত হয়। এ কারণে আমরা মনে করি এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানদের আইনী সীমাকে কার্যকর করতে আইনের শাসনকে আরো কার্যকর করতে হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জনসেবকের কোন বিকল্প নেই। আপামর জনগণকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে, কোন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা যায় না।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী,
ঝিকরগাছা, যশোর।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক দেশের মূল ভিত্তি। সাধারণত বৈধ নির্বাচিত সরকারের লক্ষ্য থাকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও শক্তিশালীকরণে। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন, অবৈধ ও জবর-দখলকারী এবং তথাকথিত বিপ্লবী সরকারগুলোর চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে আবহমান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই ভুঁইফোঁড় রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের শরণাপন্ন হয়ে হাইব্রিড পদ্ধতির তথাকথিত বিডি মেম্বারতন্ত্র, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র, গভর্ণরতন্ত্র, গ্রাম সরকারতন্ত্র, পথকলি তন্ত্র, উপজেলাতন্ত্র (আজও উপজেলা পদ্ধতির সুষ্ঠু ও সার্বজনীন নীতিমালা তৈরি হয়নি), মাইনাস টু তন্ত্র, মাইনাস ওয়ান তন্ত্রসহ ইত্যাকার নানাবিধ তন্ত্রের বেড়াজালে আমরা জড়িয়ে পড়ি। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোসহ কেন্দ্রীয় সরকার পর্যন্ত অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে সত্য কিন্তু আখেরে সেই আবহমান পদ্ধতিতেই ফিরে আসতে হয়। কিন্তু ততদিনে দেশ ও জাতির যে ক্ষতি হওয়ার তা থেকে কোনক্রমেই রক্ষা পাওয়া যায় না। তাই প্রকৃত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং অর্থনীতিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই যে কোন নতুন তন্ত্রের চর্চা বাঞ্ছনীয়। কার্যকর ও শক্তিশালী (অহেতুক খবরদারী মুক্ত) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর এ সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে সত্বর বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বহুল আলোচিত টক-শো, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পাণ্ডিত্যপূর্ণ প্রবন্ধ লিখে বা পড়ে দায়ভার এড়িয়ে গেলে জাতিকে এ উদ্ভূত সমস্যার কবল থেকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি
৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩।
দেশে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করা না হলে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কি সম্ভব হয়, হবে? দেশের অতীত ও বর্তমান অবস্থা তো তা সমর্থন করে না।
স্থানীয় মানুষের সেবা, দুঃখ-দুর্দশা ও উন্নয়নের জন্য দেশের প্রতিটি স্থানীয় স্তরের প্রতিটি স্থানীয় ইউনিটে গণতন্ত্রের ভিত হিসেবে যে স্বাবলম্বী ও স্বশাসিত সরকার ব্যবস্থা থাকে তাকেই গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বলে। সে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার নিজস্ব আয় দ্বারা প্রথমে একশ’ ভাগ সিস্টেম কষ্ট তথা দাপ্তরিক খরচ, নির্বাচিত ও অনির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা, বিদ্যুত্ বিল, টেলিফোন বিল, ইন্টারনেট বিলসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করবে এবং বাড়তি আয়ে উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ পরিচালিত করবে। আর এ জন্যই বলা হয়ে থাকে যে, স্থানীয় সরকার স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া মানে গোটা দেশ আর্থিক উন্নতিসহ সকল বিষয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজও স্থানীয় সরকার স্বাধীন এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত হিসেবে কোনও স্বাবলম্ভী ও স্বশাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নেই। তাই এটি প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর উদ্যোগ অবশ্যই নিতে হবে। আর এ জন্যই স্থানীয় সরকারকে সঠিকভাবে স্থানীয়বাসীর কল্যাণকামী প্রতিষ্ঠানরূপে গড়ে তোলার জন্য সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক লোকাল গভর্নেন্স (সিডিএলজি) গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা নিয়ে লাগাতার ক্যাম্পেইন করে আসছে।
দেশের মানুষ বাস করে গ্রামাঞ্চল ও নগরাঞ্চলে। গ্রামীণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ইউনিয়ন আর নগরীয় এলাকায় গড়ে উঠেছে পৌরসভা ও নগর কর্পোরেশন। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাম আর নগরের মানুষের সবচেয়ে কাছের সরকার। এসব পর্যায় স্থানীয় সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে এলে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের প্রাপ্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হতে পারে।
মো.শফিকুল ইসলাম খোকন
গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ে গবেষক
[email protected]
বাস্তবে ইউ পি বা পৌর প্রধানদের সালিশ-দরবার ও সামান্য কিছু উন্নয়ন কাজে দর্শকের মতো তদারকি ছাড়া তেমন কোনো ‘শক্তি’ই বর্তমান নেই। যদিও দাপট, প্রচার ইত্যাদিতে তারা অনেক কিছু ! ‘এক ঘর মে দো-পীর’র স্থলে বর্তমান উপজেলা ব্যবস্থায় ‘এক এলাকায় পাঁচ বাবা’ হাজির করা হয়েছে !! যাদের চারজনই একই এলাকার একই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও তাদের যোগ্যতা, দৃষ্টিভঙ্গি, দলীয় আনুগত্য বিভিন্ন এবং তারা কোনো ব্যাপারেই যে একমত হবেন না এ ব্যাপারে স্থির ও ঐক্যবদ্ধ থাকেন। এখানে প্রশাসনিক সমন্বয়কারী ইউ. এন. ও. একজন মেধাবী আমলা হিসেবে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা ও বাস্তবতার খাতিরে থাকেন শুধুই আন্তরিক। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ হয়ে উঠেন সামগ্রিক বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দু। অথচ স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করবার জন্য প্রয়োজন স্থানীয় সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারের আদলে স্থানীয়ভাবে পূর্ণ কর্তৃত্বশালী করে দেয়া।
অধ্যাপক মোঃ আলী এরশাদ হোসেন আজাদ,
বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ,
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে প্রত্যেক সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। এলাকার সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে করালে তাদের গ্রহণযোগ্যতা যেমন বাড়বে তেমনি স্থানীয় সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাও বাড়বে। স্থানীয় এমপি মহোদয়ের হাত থেকে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকারকে মুক্ত করতে হবে। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধির সাথে বিশেষ করে উপজেলা পরিষদের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব হতে পারে এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানরা ভবিষ্যতে এমপি সাহেবের জন্য হুমকি বিধায় এম পি সাহেবরা স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চায়। তাই আইন করা যেতে পারে যে, আগামী ন্যূনতম ২ টার্ম উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা ভাইস চেয়ারম্যানরা এমপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকরি উপজেলা চেয়ারম্যানের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে। তাহলে স্থানীয় সরকার অধিকতর শক্তিশালী ও দৃঢ় হবে।
শাহ্ আলম খান সরল, বাঁশখালী চট্টগ্রাম
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। আর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী থাকেন প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন ও দলের সাধারণ সম্পাদক মহাসচিবগণ রাষ্ট্রের যে কোন নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক সব সময় খুব পাশাপাশি অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের মন্ত্রণালয় শক্তিশালী করা দরকার একথা যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করেন তাহলে ধরে নিতে হবে স্থানীয় সরকার কতটা দুর্বল। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগটি আমরা স্বাগত জানাই। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো স্থানীয় সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন উপজেলা নির্বাচন। গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। বিগত উপজেলা নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ যেভাবে নিধিরাম সর্দারের মতো চেয়ারে বসেছিলেন বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে সেভাবে বসিয়ে রাখলে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে না। উপজেলা নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরকে সংসদে প্রয়োজনীয় আইন পাশের ভূমিকা রেখে তা বাস্তবায়নে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহবস্থানে থাকতে হবে। সর্বোপরি মাননীয় সংসদ সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে সর্ব অবস্থায় স্বঅবস্থানে থেকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করণের উদ্যোগ নিতে হবে।
মহিরুল রহমান চৌধুরী ওয়ারেছ
মাধবপুর, হবিগঞ্জ
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কথা এদেশের অনেক বুদ্ধিজীবীরাই বলে থাকেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সচিবরাও এ দাবি করেছেন। কিন্তু এসব কথা বেশিদিন টিকে না। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মুখে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়ে থাকলেও তাদের অন্তরে থাকে ভিন্ন কথা। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
বারিধারা, গুলশান, ঢাকা
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা সরকারের জন্য অপরিহার্য কারণ উপজেলা চেয়ারম্যানদের যে অবস্থা গত সময় হয়েছিল তা দেশবাসী দেখেছে। এবারও যদি একই অবস্থা হয় তাহলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। তাই স্থানীয় সরকারকে অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে।
জসিম উদ্দিন
পুরান থানা, কিশোরগঞ্জ
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ প্রক্রিয়ার নীতিমালা থাকলেও তা যথাযথ পালন করা হয় না বলেই স্থানীয় সরকারকে নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। তাই মুহূর্তে স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করা আবশ্যক। গ্রাম বাংলার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে নিয়ে যেতে হলে আগের নীতিমালাকে যদি সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে তাও করা হবে। কেন না ডিজিটাল যুগের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে নাজুক পর্যায়ে রাখা যাবে না। সেই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে রাজনীতিক বনাম সরকার পদ্ধতিতে গবেষণামূলক মনোভাব তৈরি করা প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে গ্রাম-বাংলাই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রাণ। ১৬ কোটি মানুষের দেশে একমাত্র স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাই হচ্ছে জনগণ ও সরকারের সেতুবন্ধন। সুতরাং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা নিয়ে সরকার বনাম রাজনীতিকদের একমত হওয়া বাঞ্ছনীয় ও আবশ্যক।
শাহ্ মো. হেলালউদ্দিন হিরু
কালিহাতী, টাঙ্গাইল
বিশ্বের সকল দেশেই স্থানীয় সরকারের ব্যবস্থা করেছে। যেহেতু বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকার হচ্ছে এই দেশের জন্য সুষ্ঠু ও শান্তি-শৃঙ্খলার বিষয়। এই স্থানীয় বিষয় পদ্ধতিটি যদি সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা যায় তাহলে দেশের আপামর উন্নতি সম্ভব।
মো. ইফতেখার হোসাইন
হাইমচর, ৬নং চরভৈরবী, ইউনিয়ন
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আরম্ভ করে জেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করা প্রয়োজন। অন্যদিকে প্রত্যেকের কার্যক্রম নির্ধারণসহ ইউপি চেয়ারম্যান/উপজেলা চেয়ারম্যান/এমপি এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের কার্যক্রমের সমন্বয় করা প্রয়োজন। প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত সৃষ্টির সুযোগ থাকলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তাই এ দিকটায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন আশা করি।
নাছির উদ্দিন সিদ্দিকী, ৩৬১, খন্দকার রোড
পশ্চিম জুরাইন মাজার শরীফ এলাকা ঢাকা-১২০৪
গত সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সচিবদের নিয়ে বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। এটা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বিষয়। তাই আমরা মনে করি স্থানীয় সরকারই হচ্ছে দেশের উন্নয়নের মূলকাণ্ড। এটাকে যত সম্ভব এগিয়ে নেয়া। তাহলে দেশের মানুষ শান্তি ও স্বস্তিতে বসবাস করতে সক্ষম হবে।
এম,কে আকন্দ, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
টাইমস ২৪ ডট নেট মতিঝিল, ঢাকা
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবদের প্রথম বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের বিষয় গুরুত্ব দিয়েছেন। স্থানীয় সরকারই হচ্ছে সকল কিছুর অংশ। এটা ছাড়া কোন কিছুই সম্ভব নয়। এটাকে শক্তিশালীকরণ অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি।
মোঃ খায়রুল ইসলাম (চয়ন)
কুতুবখালি যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী এবং আরো অধিকতর কার্যকরী ভূমিকায় দেখতে চাইলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যদের অবশ্যই তাদের কার্যাবলী পালনের সুযোগ দিতে হবে। কোন কাজ কে করবে কোন পদের মানুষটি কতটুকু দায়িত্ব এ বিষয়টি লিখিত আকারে থাকা উচিত। উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে একজন মাননীয় সংসদ সদস্যের কোন ক্রমেই দ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়। একজন সংসদ সদস্য দেশের আইন প্রণেতা হিসেবে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি। মাননীয় সংসদ সদস্যদের সাথে উপজেলা ইউএনরা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টি যেমন উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেন তেমনি জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থেও নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়।
আমরা মনে করি উপজেলা ও ইউনিয়ন কাউন্সিল দেশের সবচেয়ে নিম্নস্তরের উন্নয়নের ধাপ। সুতরাং যেখানে রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। এ অবস্থা থেকে উত্তরোণের জন্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের ক্ষমতার সীমারেখা সুনিশ্চিত করতে হবে।
ওয়াহিদ মুরাদ
নিউ ইস্কাটন, ঢাকা
সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সাথে বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের বিষয়ে যে কথা বলেছেন, তা যথার্থ ঠিক বলেছেন। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে না পারলে কোন কিছু সম্ভব নয়। তাই প্রধানমন্ত্রীর উক্তিটি যথার্থ সময়োপযোগী।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
ভোলা ড্রাগ হাউজ
পূর্ব ইব্রাহিমপুর, শেওড়াপাড়া, ঢাকা
স্থানীয় সরকার কি ধরনের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে কতটুকু ক্ষমতার অধিকারী তা আমার জানা নেই। তবে তা জানা না থাকলেও এতটুকু বলতে পারি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা শক্তি ও ক্ষমতাধর না হলে স্থানীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়/হবে। সাথে সাথে এই বলবো অসত্ রাজনীতি পরিত্যাগ করতে না পারলে যে কোন প্রতি প্রাণকে যতই শক্তিশালী করা হোক না কেন অসত্ রাজনীতি সুবলে আর আমলাতন্ত্র কবলে পড়ে তা বিষাক্ত হয়ে যাবেই। এই যেমন ভেজাল খাদ্য ও নকল ঔষুধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও আজ পর্যন্ত এ শাস্তি কাউকে দেয়া হয়নি। তাই স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইন কার্যকর ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী শুধু আনলেই হবে না তা সুচারুরূপে কার্যকর করার সুযোগ রাখতে হবে।
মো. লুত্ফর রহমান বাদল
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
এমপি, চেয়ারম্যান, ইউএনও, এসিল্যান্ড, থানার প্রধানগণকে নিয়েই স্থানীয় সরকার বলা যায়। আওয়ামী লীগ তৃতীয় বার সরকার গঠনের পর গত সোমবার সচিবদের নিয়ে প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন। স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম শক্তিশালী অতিব জরুরি। গ্রামের উন্নয়ন হলেই শহরের উন্নয়ন সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রধানগণ একমত হয়ে এক পথে চললে ন্যায্যতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। তখন শাহরের মানুষ গ্রামে থাকতে আগ্রহী হবে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন করা সহজ হবে। কথায় আছে “দশে মিলে করিস কাজ, হারি-জিতি নাহি লাজ” সুতরাং এ বক্তব্যটি প্রধানমন্ত্রীর আরো জোরদার করা উচিত।
আশা এলিজাবেথ গোমেজ
প্রধান শিক্ষিকা, সেন্টমার্টিন কিন্ডার গার্ডেন
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা
শুধু স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করলেই চলবে না। পুরো প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। তবে এটা অবশ্যই সত্য- স্থানীয় সরকারকে যদি ঠিক না করা যায়, তাহলে কোন কিছুই সম্ভব নয়।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ মিরপুর, ঢাকা
স্থানীয় ও জাতীয় উভয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানতম একটি সমস্যা হচ্ছে স্থানীয় সরকার। এই স্থানীয় সরকারকে যদি মূল্যায়ন করা যায়। তবে দেশে প্রতিটি স্থানে উন্নতি সম্ভব।
হোসনে আরা করিম নীলা
এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবদের প্রথম বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের বিষয়টি অত্যন্তটি জোরালো বলে মনে করি। যেহেতু দেশের আপামর উন্নতির কর্মকাণ্ড- সবই স্থানীয় সরকারের উপর নির্ভরশীল। তাই আশা করি, এ ব্যাপারে সরকার আরো বেশি আন্তরিক হবেন।
মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা
স্থানীয় সরকার ব্যতীত কোন দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের সরকার ব্যবস্থাও অনেক উন্নত ও দেশ সমৃদ্ধশালী। সুতরাং আমাদের দেশের এই স্থানীয় সরকারকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে।
জাহাঙ্গীর হোসাইন, পীরেরবাগ, ঢাকা
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবদের যে বৈঠক হয়েছে, তাতে আমরা অনেকটা আশার সঞ্চার দেখতে পাই। তবে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার একমাত্র পথ হলো সত্ ও যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে না।
ফারুক আলম, মালিবাগ, ঢাকা
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় প্রতিনিধিদের হাতে তৃণমূলের ক্ষমতা ঠিকভাবে দিতে হবে। গত সময়ের মতো না হয় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।
আলমগীর হোসেন
ভালুকা বাজার, ভালুকা, ময়মনসিংহ
