বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলা কঠিন হয়ে গেলো

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৪
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) মহাদেশটির ফুটবলে আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের নেয়া এক নতুন সিদ্ধান্তে সামনে বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ নতুন নিয়মে বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ে খেলতে হলে বাংলাদেশকে এশিয়ার সেরা ১২ দেশের মধ্যে উঠে আসতে হবে। সেখানে ঠাঁই পেলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বে খেলার টিকিট পাবে। এএফসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সদস্যভুক্ত ৪৭ দেশ নিয়ে আট গ্রুপে বাছাই টুর্নামেন্ট হবে। আট গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং সাথে সেরা রানার্সআপ চারটি দলসহ মোট ১২ দল খেলবে বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাই পর্বে। বাংলাদেশ যদি সেটা করতে না পারে তাহলে ব্রাজিল বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বটি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতায় শেষবারের মতো অংশগ্রহণ। বাছাই টুর্নামেন্টের শীর্ষ যে ১২টি দল বিশ্বকাপ বাছাই খেলবে, তারাই আবার ২০১৯ সালের এশিয়া কাপ ফুটবলও খেলবে। আর বাছাই থেকে যেসব দেশ বাদ পড়বে তাদের নিয়ে আরেকটি টুর্নামেন্ট হবে। নিচের দলগুলোকে ছয় গ্রুপে ভাগ করে এএফসি আরেকটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করবে। সেখানে ছয় গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ১২ দলের সাথে আগের ১২ দল যোগ হবে। ২৪ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্ব। এএফসির এই নিয়ম ফুটবল দেশগুলোর জন্য বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তবে বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই খেলতে পারবে কিনা তা বলা কঠিন। এশিয়ার সেরা ১২ দেশের মধ্যে প্রবেশ করতে হলে বাংলাদেশের ফুটবলেরও আমূল পরিবর্তন করতে হবে। কারণ এএফসি যে নিয়মের মধ্যে হাঁটতে শুরু করেছে তাতে ক্লাব ফুটবলের উপর জোর দিয়েছে তারা। র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে যেতে হলে ক্লাব ফুটবলের মান দেখবে। মান নির্ধারণের জন্য ১০০ পয়েন্ট নির্ধারণ করা করেছে এএফসি। এর মধ্যে ৭০ পয়েন্ট আসতে হবে ক্লাব ফুটবল থেকে বাকি ৩০ পয়েন্ট জাতীয় দলের পারফরম্যান্স। ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপ ফুটবল দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাই ফুটবলে খেলতে শুরু করে। এরপর প্রতিটি বাছাই প্রাক-বাছাই খেলেছে নিয়মিত। এএফসি তাদের প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবল এবং চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবল ক্যালেন্ডার থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। এখন যে টুর্নামেন্টগুলো চলছে এটাই তাদের শেষ টুর্নামেন্ট। নতুন টুর্নামেন্ট হবে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স কাপ ফুটবল।