বর্তমান চালচিত্র
দেখে আসলে
তরুণরা হতাশ
বাংলাদেশের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি আর অর্থনৈতিক সঙ্কট, বিভিন্ন জায়গায় মেধার অবমূল্যায়ন, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই একজন তরুণের হতাশ হওয়ার কথা। যেখানে মেধা দিয়ে নয়, মামা-চাচা বা রাজনৈতিক আশ্রয়বলে চাকরি মিলে, যেখানে ডিগ্রীধারী সার্টিফিকেটকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়, যেখানে মেধার অবমূল্যায়ন মেরিট লিস্টে প্রথমদিকে থাকা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেয়া হয়, যেখানে সেশন জটের কবলে পড়ে পড়াশোনাকে আরও দীর্ঘ করতে হয় সেখানে স্বাভাবিকভাবেই তরুণরা একটু হতাশ হবেই।
সামিউল সায়েম সতেজ
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টার
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
হইও না হতাশ
ঘটাও প্রতিভার
বিকাশ
মানুষের দৃশ্যমান দু’টি হাত তথা ডান হাত এবং বাম হাত মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়। এ দু’টি হাত ছাড়াও মানুষের আরও একটি অদৃশ্য হাত আছে; যার হাতছানিতে মানুষ হতাশ হয়। তার নাম অজুহাত। তরুণ সমাজকে বলব- হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সমাজের যাবতীয় অসঙ্গতির অজুহাতে নিজেকে গুটিয়ে রেখো না। তুমি তোমার মধ্যকার গুপ্ত প্রতিভার সুপ্ত বিকাশ ঘটাও। তবেই তুমি সমাজের সকল অসঙ্গতির মূলে কুঠারাঘাত করতে পারবে। তুমি ঐশী (পথভ্রষ্ট মেয়ে) হয়ো না; তুমি নূরুজ্জামান (বাতাসচালিত মটর সাইকেলের উদ্ভাবক) হও।
মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমান
অনার্স শেষ বর্ষ, ইংরেজী বিভাগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
সত্য-মিথ্যার
বেড়াজালে তরুণরা
আবদ্ধ
আমরা সকলেই জানি ২০১০ সালে ২৩ মে প্রথম বাংলাদেশি মুসা ইব্রাহিম পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেষ্ট জয় করেন। বাংলাদেশের পতাকা এভারেষ্টের চূড়ায় ওড়ান। তার এই সাহসিকতার জন্য দেশের মানুষ নানা পুরস্কারে পুরস্কৃত করেন। ইতিহাসে তাহার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়। তার নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ২১ মে এম এ মুহিত এবং ২০১২ সালের ২১ মে প্রথম বাংলাদেশের নারী নিশাত মজুমদার এভারেষ্ট জয় করেন। দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনেন। তরুণ সমাজ তাদের সফলতাকে দৃষ্টান্ত হিসাবে মনে করেন। কোন কাজ অসম্ভব নয়, তারা তা প্রমাণ করেন। কিন্তু সম্প্রতি (৭১ চ্যানেলে) একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রকাশ করা হয় যে এম এ মুহিত প্রথম এভারেষ্ট জয়ী। এই খবর শুনে আমরা অবাক হই। এই যদি হয় আমাদের দেশের ইতিহাসের অবস্থা তাহলে আমরা হতাশ না হয়ে পারি ?
মো: ইব্রাহিম খলিল
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ
(সেশন ২০১১-১২)
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ।
হতাশা মোচনে রাষ্ট্রীয়
স্থিতিশীলতার
বিকল্প নেই
অস্থিতিশীলতা প্রত্যহ জনক-জননীকে কাঁদায়, ভাই হারানোর বেদনায় তরুণ-তরুণীদের আর্তচিত্কারে আকাশ-বাতাস ভারি। এ সকল লোককে সান্ত্বনা দেবে কে! রুস্তম সরকার দলীয় সংগঠনের নেতা হয়েও রক্ষা পেলেন না হায়নাদের হত্যাযজ্ঞ হতে। হত্যাকাণ্ডটিকে অন্য দলের উপর চাপাতে পুরো ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল। সা’দ হত্যাকারীদের বহিষ্কার করা হলেও রুস্তম হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হয়নি। বরাবরের মত অন্য দলের উপর চাপিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে। এসব হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিয়ে তরুণরা আজ শঙ্কিত। তাই হতাশার গ্লানি হতে তরুণ সমাজকে মুক্ত করতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে এসব হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
সিকদার রেদওয়ান আহমেদ
আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
তরুণদের জন্য
সুযোগ বৃদ্ধি
করতে হবে
তরুণরাই একটি দেশের প্রাণশক্তি। কিন্তু আমাদের দেশের তরুণ সমাজ আজ অনেকটাই হতাশ। তরুণদের জন্য সরকার অনেক কম ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। তাদের আয়-উপার্জনের যে চিন্তা-ভাবনা এই বয়সে জেগে ওঠে তা অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে। আবার, অন্যদিকে পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় তাদের পড়াশুনার ক্ষেত্রে নিরাশা দেখা যায়। এভাবেই তারা আর সত্য উপায়ে চাকরি পাওয়ার চিন্তা-ভাবনা থেকে সরে যাচ্ছে। বিষণ্নতা তাদের জুয়ার নেশার দিকে অগ্রসর করছে। চাকরির পদ সৃষ্টি করার দিকে দৃষ্টি দিলে তরুণ সমাজ আরো উজ্জীবিত হবে।
মো. মুসফিকুর রহমান
কৃষি অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
