শেখ জামাল ২
১ চট্টগ্রাম আবাহনী
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বেঁচে যাওয়ার প্রশ্ন উঠছে কারণ আরেকটু হলে ডুবতে যাচ্ছিল দলটি। চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হারতে হারতে অভিজাত পাড়ার এ দলটি শুধু রক্ষাই পায়নি, শেষ পর্যন্ত ২-১ এ জিতেছেও।
অথচ খেলার ৭৩ মিনিট পর্যন্ত সোহেল মিয়ার গোলে চট্টগ্রাম আবাহনী ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ৭৪ ও ৮৯ মিনিটে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাসিরের গোল দুটি শেখ জামালকে উদ্ধার করল। ১৪ মিনিটে দুই গোল হজম করে চট্টগ্রাম আবাহনী। এ যাত্রায় রক্ষা পেলো শেখ জামাল। বড় দলের বিরুদ্ধে গোল করে ৭৩ মিনিট এগিয়ে থেকে ম্যাচ হারা আক্ষেপের বিষয়। এমন সুযোগ পেয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী শেষ দিকে মুুখ থুবড়ে পড়ল। চট্টগ্রাম আবাহনীর রক্ষণভাগ হয়ে পড়লো ভাঙ্গাহাটের মতোই।
সেই সুযোগে শেখ জামালের আক্রমণভাগে উঠে এসে স্ট্রাইকার বনে গেলেন ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরী। দুই দুটি গোল করলেন দলের মহাবিপদের সময়। ম্যাচ শেষে নাসির বললেন, ‘আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। দলের প্রয়োজনে যা করা দরকার সেটা করতে পেরেছি আমি। তাতেই সন্তুষ্ট।’
কিন্তু ডিফেন্ডার নাসিরের তো গোল করার দায়িত্ব না। আক্রমণভাগে হাইতির ওয়েডসন জামালের প্রথম গোলের উত্স হলেও তিনি পুরো খেলায় বিপক্ষের রক্ষণভাগে কিছুই করতে পারেননি। আক্রমণ ভাগে ছিলেন না হাইতির সনি নরদে। তিনি ছুটি নিয়ে বেলজিয়াম গিয়েছেন। আজ কালের মধ্যে তার ঢাকায় ফেরার কথা। সনি নেই অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ছিলেন না, ডার্লিংটন নেই। এসব খেলোয়াড়কে ছাড়াই শেখ জামালের জিততে কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নাভিশ্বাস উঠেছিল। তারপরও অবশ্য দলের নাইজেরিয়ান কোচের মুখে অন্য কথা, ‘কয়েকজন প্লেয়ার ছাড়া আমরা আগেও জিতেছি।’
পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা শেখ জামাল লিগের ফিরতি পর্বে কালই প্রথম খেলতে নামলো। ১০ খেলায় ২৪ পয়েন্ট। দ্বিতীয় পর্বে শেখ জামালের বিদেশি খেলোয়াড় কোটায় নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল এবং গাম্বিয়ান জাট্টা মোস্তফা খেলেছে। কিন্তু তারা সনি বা ডার্লিংটনদের মতো নয়। স্বাধীনতা কাপে খেলেছে। কিন্তু এখনো তারা নিজেদের সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। ম্যাচের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেননি বলেই জাতীয় দলের ডিফেন্ডার নাসির হয়ে উঠলেন স্ট্রাইকিং জোনের বড় অস্ত্র। নাসির ৭৪ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল করেন হেড করে ১-১। ৮৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন দারুণ এক ভলিতে ২-১। চট্টগ্রামের গোলকিপার কোচ আবু তাহের বলেন, ‘নাসিরকে মার্ক করতে পারেনি বলেই গোল হয়েছে।’
গ্যালারি শূন্য মাঠে আবাহনীর হার
ব্রাদার্স ১ আবাহনী ০
স্পোর্টস রিপোর্টার
আত্মঘাতী গোলে পেশাদার লিগে আবাহনীর প্রথম হারকেও ছাপিয়ে গেল দলটির গ্যালারিতে সমর্থকদের অনুপস্থিতি।
ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে আবাহনীর খেলা অথচ দলটির সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত পশ্চিম গ্যালারিতে দর্শক নেই। এমন দৃশ্য বিরল। সমর্থকরা মাঠে ঢুকতে পারেননি। যারা খেলা দেখতে এসেছিলেন তারা অনেকই ফিরে গেছেন আবার কেউ অন্য গ্যালারিতে ঠাঁই নিয়েছেন। আবাহনীর গ্যালারিতে প্রবেশ মুখে সমর্থকরা লোক বসিয়েছিল। যেন কেউ ঢুকতে না পারে। তারা জানিয়েছেন স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে মোহামেডানের কাছে আবাহনীর হারের পর দর্শকদের একাংশ উত্তেজিত হয়ে খেলোয়াড়দের উপর চড়াও হলে খেলোয়াড়রা একজন সমর্থককে প্রহার করে। এজন্য সমর্থকরা আবাহনী কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার ও ম্যানেজার সত্যজিত দাস রূপুর পদত্যাগ দাবি করেন। সেদিনের ঘটনায় আবাহনী দীর্ঘ সময় মাঠে আটকেও ছিল। কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে খেলতে নামল কিন্তু তাদের পেছনে সমর্থক ছিল না। আবাহনী হেরেছে আত্মঘাতী গোলে। ৩৮ মিনিটে আবাহনী নিজেদের ভুলে গোল হজম করে। ডিফেন্সে ছিলেন না আবাহনীর অধিনায়ক সুজন। বদলী খেলতে নামা ডিফেন্ডার নাসিরুল ইসলাম নাসির গোলকিপার সোহেলকে ব্যাকপাস করেন। সেই বল ধরতে পারেননি সোহেল। বল যায় আবাহনীর জালে। আবাহনীর প্যাটট্রিক ব্রাদার্সের গোলকিপার সুজনকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। নিটল টাটা ফুটবল লিগে এটি আবাহনীর প্রথম হার। লিগের প্রথম পর্বে আবাহনী ১-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাদার্সকে। আজকের খেলা : বিজেএমসি-সকার ক্লাব, ৫-৩০ |
