খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে টালবাহানা, এরপর ম্যাচ ফিক্সিং বিতর্কের জেরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দৃশ্যত বন্ধ হয়েই গিয়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফেও সেরকম আভাস মিলেছিল। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে সেসব বিতর্ককে পেছনে ঠেলে এখনও বিপিএলের তৃতীয় আসর আয়োজনের চিন্তা করছে বিসিবি।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাঈল হায়দার মল্লিক ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে এমনটাই জানিয়েছেন।
বিপিএলের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ আসর আয়োজিত হয়েছিল ২০১৩ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে। বিসিবি কর্মকর্তারা এখন চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ে বিপিএল আয়োজনের চিন্তা করছেন। আইসিসির ফিউচার টুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী জিম্বাবুয়ে নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশে আসবে এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে খেলতে আসবে পাকিস্তান।
বিসিবির এই কর্মকর্তা জানান, বিপিএল আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিসিবি যথেষ্ট আন্তরিকভাবে বিপিএল আয়োজনের চেষ্টা করছে। আমরা টুর্নামেন্টটি আয়োজনের জন্য মোটামুটি একটা সময়ও নির্ধারণ করে ফেলেছি। আমরা ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাই। এর আগে অবশ্যই আমাদের আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের সময়সূচি দেখে নিতে হবে।’
টুর্নামেন্টের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা গেম অন তাদের বিপিএল দেনার ১৯ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলেও জানিয়েছেন মল্লিক। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গেম অন আমাদের ১০ কোটি টাকার চেক দিয়েছে। আমরা এরই মধ্যে আড়াই কোটি টাকা পেয়েছি। ২০ এপ্রিলের মধ্যে আরও আড়াই কোটি টাকা পেয়ে যাবো। বাকি পাঁচ কোটি টাকাও খুব দ্রুতই পাবো।’
এই টাকা দিয়েই খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হবে কি না সেটা খোলাসা করেননি বিসিবির এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা। বিপিএলের দুটি বড় সমস্যার একটি হল খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক। অনেক খেলোয়াড় এখনও পারিশ্রমিক পাননি। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক খবরে জানা যায় নেদারল্যান্ডের রায়ান টেন ডোশেট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেভন কুপার, জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর, ইংল্যান্ডের রবি বোপারা ও জেসন রয়রা জানিয়েছেন তারা এখনও চিটাগাং কিংস দলের কাছ থেকে পারিশ্রমিক বুঝে পাননি।
আরেকটি মূল সমস্যা হল বিপিএল দুর্নীতির তদন্ত। কিছুদিন আগেই ট্রাইবুন্যাল এই ব্যাপারে নিজেদের সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। পূর্ণাঙ্গ রায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দেয়ার কথা থাকলেও এখনও তা প্রকাশ করা হয়নি।
