প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৪, ২০:৩১
ইংরেজরা তাঁত শিল্পকে ধ্বংস করে দেয় বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় হিমন এডওয়ার্ড গমেজ শিক্ষক সেন্ট গ্রেগরী’জ হাই স্কুল, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের রচনামূলক প্রশ্ন দেয়া হলো। মনোযোগ দিয়ে পড়বে এখানের অনেক তথ্যও তোমার কাজে আসতে পারে যোগ্যতাভিত্তিক অনেক প্রশ্নের উত্তরের বেলায় ইংরেজ শাসন ক. পলাশীর যুদ্ধ কেন হয়েছিল? এ যুদ্ধের ফলাফল কী ছিল? নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার নবাব হতে হয়। কিন্তু সিংহাসনে আরোহন করেই তরুণ নবাব নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হন। এই ষড়যন্ত্রের চূড়ান্তরূপ হচ্ছে পলাশীর যুদ্ধ। পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান হয়। এই যুদ্ধের কারণসমূহ নিম্নরূপ: নবাব সিরাজউদ্দৌলার বড় খালা ঘসেটি বেগম ও পরিবারের কতিপয় সদস্যদের বিরোধীতা। প্রধান সেনাপতি মীরজাফর আলী খানের মতো ঘনিষ্ঠ জনদের ষড়যন্ত্র। ইংরেজ বণিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান শক্তি বৃদ্ধি। নবাবের নিজের দেশের প্রভাবশালী বণিক গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে যোগদান। নবাবের সাথে ইংরেজ বাহিনীর বিরোধীতা। উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন ইংরেজ শক্তির সাথে নবাবের সৈন্যদের পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজয় বরণ করেন এবং বাংলায় ইংরেজ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। পলাশী যুদ্ধের ফলাফল: পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের ফলাফল নিচে উপস্থাপন করা হলো:- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এ যুুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রায় দুশ বছরের জন্য অস্তমিত হয়। মীরজাফর নামমাত্র নবাবী লাভ করেন কিন্তু বাংলা শাসন ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা জয়ের মধ্য দিয়ে ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়। ইংরেজদের শাসনের নামে শোষণের সূচনা হয়। উপমহাদেশের সাধারণ মানুষ, দুঃখ ও দুর্দশার মাঝে নিপতিত হয়। ব্যবসায় বাণিজ্যে ইংরেজদের একচেটিয়া অধিকার লাভ ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হয়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে শুধু নবাবে পরাজয় হয়নি বরং পরাজিত হয়েছিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সর্বস্তরের জনগণ। তাই বাংলা যেন আর কোন দিন এইভাবে মীরজাফরদের মত বিশ্বাসঘাতক ও ইংরেজ বাহিনীর মত আর কোন বাহিনীর হাতে স্বাধীনতা না হারায় সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। খ. বাংলার শিক্ষা ও অর্থনীতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব কী ছিল? বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব: ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ছিল কৃষক ও দরিদ্র। অন্যদিকে, অল্পসংখ্যক জমিদার শ্রেণি ছিল ধনী। এবং তারা বিশেষ সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো। দরিদ্র মানুষ বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। যেমন ইংরেজদের মাধ্যমে এদেশে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন হয়। শিক্ষা বিস্তারে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ছাপাখানার বিকাশে জ্ঞান- বিজ্ঞানের সুযোগ বাড়ে। আধুনিক শিক্ষা এদেশের মানুষের মধ্যে ক্রমে ক্রমে বিস্তার লাভ করে। এদেশের শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে কুসংস্কার ও কুপ্রথা সম্পর্কে সকলে সচেতন হয়ে উঠেন। অর্থনীতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব: প্রায় দু’শ বছরের শাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শোষণ ও নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার। অর্থনীতিতে ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব নিম্নে উপস্থাপন করা হলো: ব্রিটিশ শাসন আমলে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ এদেশ থেকে পাচার হয়ে যায়। বাংলার প্রধান কৃষি অর্থাত্ অর্থনীতির মেরুদণ্ড ধবংস করে দেয়। বাংলার নিজস্ব শিল্প যেমন: তাঁত শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়। এদেশের সাধারণ মানুষ বেকার জীবন যাপন করতে থাকে।