সকার ক্লাব ২ বিজেএমসি ১
স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের পারফরম্যান্সই বদলে দিয়েছে ফেনীর সকার ক্লাবকে। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও রানার্সআপেই সন্তুষ্ট ক্লাবটি যে এরপর পেশাদার ফুটবল লিগে যে কোনো দলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তা আগেই ধারণা করা হয়েছি। গতকাল লিগের ফিরতি পর্বে দর্শকরা দেখলো বদলে যাওয়া সকার ক্লাব ২-১ গোলে হারিয়ে দিল বিজেএমসিকে।
সকার ক্লাব বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে ২-১ গোলে বিজেএমসিকে হারিয়ে চমক দেয়। তাও আবার গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জিতে নেয় সকার ক্লাব। গোল দুটি করেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড চুকা চার্লস। বিজেএমসির গোলটি সাইফুলের।
ফেনীর ক্লাবটি প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের প্রথম পর্বে নয় ম্যাচ খেললেও কোনো জয় ছিল না। পাঁচ হারের সাথে ৪ ম্যাচ ড্র, পয়েন্ট ছিল ৪। ১০ দলের মধ্যে সকার ক্লাবের স্থান ছিল সবার শেষে। স্বাধীনতা কাপের ফাইনাল খেলা সেই দলটি এদিন দ্বিতীয় পর্বে খেলতে নেমে প্রথম জয়ের মুখ দেখলো। আর তাতেই সকার ক্লাব চট্টগ্রাম আবাহনী আর উত্তর বারিধারা ক্লাবকে পেছনে ফেলে টপকে উঠে এলো সাত নম্বরে।
পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ উপরে উঠে গেলো। বিজেএমসিকে হারিয়ে কাল আনন্দটা দমিয়ে রাখতে পারলো না। খেলার শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরলো, গাম্বিয়ান কোচ ওমর সিসেকে জড়িয়ে ধরলেন কেউ। ম্যাচের দুই গোলদাতা চুকা চার্লস তো মাঠে অ্যাক্রোবেটিক কায়দায় উল্লাস করলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার একটি জয় সকার ক্লাবকে যেন অনেকদিন পর বৃষ্টি নামার আনন্দ এনে দেয়। অথচ ২১ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল সকার ক্লাব। বিজেএমসির সাইফুল গোল করে (১-০) অফিস দলটিকে ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের বিরতিতে ডাগআউটে বিজেএমসির খেলোয়াড়দের ব্রিফিং দেয়া হলো, গোলটা ঠেকিয়ে কিভাবে সংখ্যা বাড়ানো যায়। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের সাথে খাপ খাওয়াতে পারেনি বিজেএমসির খেলোয়াড়রা। দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে আট মিনিটেই গোল হজম বিজেএমসি। ৫৮ মিনিটে ফরোয়ার্ড চুকা চালর্স সমতা সূচক গোল করেন ১-১। শুরু হয় দুই দলের মধ্যে লড়াই। ম্যাচটা শেষ হওয়ার মিনিট দুই আগে বিজেএমসির আত্মসমর্পণ। ৮৮ মিনিটে গোল হজম করে বিজেএমসি। এবারও সেই চুকা চালর্স। গোল করলেন, ম্যাচ জেতালেন ২-১। ম্যাচের হিরো বনে গেলেন। তাকে নিয়ে তো বাড়তি উচ্ছ্বাস থাকবেই।
আজকের খেলা
মোহামেডান ঃ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ
(বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৫টা ৩০)
