ক্লে কোর্টে দীর্ঘদিনের অপ্রতিরোধ্য রূপটি হঠাত্ হারিয়ে ফেললেও এনিয়ে মোটেই চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন রাফায়েল নাদাল। বরং, আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগেই ঘুরে দাঁড়াবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পুরুষ টেনিসের বিশ্বসেরা তারকাটি। তবে, মন্টে কার্লো মাস্টার্সের কোয়ার্টার ফাইনালে গত শুক্রবার ডেভিড ফেরারের কাছে হেরে হতাশা লুকানোর কোন চেষ্টাই করেননি নাদাল।
মন্টে কার্লোর রেকর্ড টানা আটবারের শিরোপাজয়ী নাদাল শুক্রবার রাতে স্বদেশী স্প্যানিয়ার্ড ডেভিড ফেরারের কাছে হার মানেন ৭-৬ (৭-১), ৬-৪ গেমে। এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যেটি ছিল নাদালের মাত্র তৃতীয় পরাজয়। প্রায় এক যুগ আগে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে খেলতে নেমেই এখানে প্রথমবার পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। আর দ্বিতীয় হারটি আসে এর দশ বছর পরে, গতবছরের ফাইনালে নোভাক জোকোভিচের কাছে হেরে। মাঝে ২০০৫ থেকে ২০১২ পর্যন্ত জেতেন প্রতিটি ফাইনাল। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল তারকাটি এবারই প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিলেন।
মন্টে কার্লোতে এমন সমৃদ্ধ ইতিহাসের পাশাপাশি নাদাল ক্লে কোর্টেও প্রায় অপরাজেয়ই ছিলেন ফেরারের বিরুদ্ধে। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে রজার ফেদেরারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক নাদালের বিরুদ্ধে ক্লে কোর্টে এটি ছিল গত দশ বছরে ফেরারের প্রথম জয়। স্টুটগার্টে ২০০৪ সালের জয়ের পর প্রথমবারের নাদাল বধের উল্লাস মাতোয়ারা ফেরার একটি স্প্যানিশ টিভি চ্যানেলকে বলেন, ’ক্লেতে তাকে হারানোর জন্য আমার দশটি বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এটি দীর্ঘ একটি প্রতিক্ষা কিন্তু আমি জয়টি নিয়ে খুশি এবং খেলার ধরন নিয়েও। আমি কোচের সাথে কথা বলেছিলাম এবং আমাদের একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রাফা সবসময়ই কঠিন কারণ সে কাউকে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দেয় না। তার আক্রমণকে সামাল দেয়াটা ছিল খেলায় আমার ভাল দিক এবং পুরোটা খেলায় শারীরিকভাবে সবল থাকাটাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে, এই হারে হতাশ হলেও দ্রুতই হারের ধাক্কা সামলে উঠতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী নাদাল। আগামী মাসে রেকর্ড নবম শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে প্যারিস যাত্রা করার আগেই ফর্মে ফেরার আশাবাদ জানিয়ে এই বাহাতি বলেন, ‘দোহায় আমার বছরটা ভালভাবেই শুরু হয়েছিল এবং অস্ট্রেলিয়ায়ও ব্যাপারটা ঠিকই ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ায় শেষে (ফাইনালে স্ট্যানিস্ল্যাস ওয়াওরিঙ্কার কাছে হার প্রসঙ্গে) যেটা হলো তারপর আবার তীব্রতা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াটা ছিল আমার জন্য কঠিন। যদিও আমি রিওতে জিতেছি। তাছাড়া মায়ামিতেও ফাইনাল খেলেছি। তবে আমার মনে হয় নিজেকে আমি পুরোপুরি ফিরে পাইনি। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো এবং অচীরেই একটা সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো।’
এদিকে এই হারের পেছনে পিঠের চোটের কোন প্রভাব নেই বলেও জানিয়েছেন নাদাল, ‘আমার পিঠের অবস্থা ভাল। পুরো শরীরই ঠিকভাবে সাড়া দিচ্ছে।’
পরবর্তী টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আগামী সপ্তাহেই বার্সেলোনা যাচ্ছেন নাদাল। মন্টে কার্লের মতো এখানেও নিশ্চিতভাবে দারুণ ফেভারিট থাকবেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকাই। এই টুর্নামেন্টে আটটি শিরোপার পাশাপাশি একটি মাত্র হারের বিপরীতে ৪০টি ম্যাচ জিতেছেন নাদাল। সেই একমাত্র হারটিও এসেছে দশ বছর আগে।
