তরুণের ধর্মে
হতাশার স্থান
নেই
বাংলাদেশে আজ চলছে রাজনীতির নামে অপরাজনীতি, সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি। ধর্ষণ, হত্যা, গুম, ঘুষ যেন এদেশে দৈনন্দিন ব্যাপার। দেশের বৃহত্ দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলছে নানাবিধ কোন্দল। নানা কুপ্রথার উপর ভর করে আমরা তলিয়ে যাচ্ছি অতল গহ্বরে। জাতির এই ক্লান্তিলগ্নে তরুণ সমাজ হতাশ হলে জাতি পথভ্রষ্ট হবে, তাই তরুণদের হতাশ হলে চলবে না। তরুণ সমাজকে সকল সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে আসতে হবে, বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হবে এই সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে।
মো: মোমিনুল ইসলাম
অর্থনীতি বিভাগ
সেশন: ২০১২-২০১৩
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
====
সবারই উচিত
দেশের জন্য
কাজ করা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যা ছাত্র সমাজে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিরাজ করছে নিরাপত্তাহীনতা। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার হচ্ছে নানা ক্ষেত্রে। সরকারি কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন প্রবল আকার ধারণ করতে না পারে এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নোংরা রাজনীতি হতে দূরে রাখতে হবে। সর্বোপরি আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশকে ভালোবাসা, দেশের জন্য কাজ করা। তবেই দেশটা সঠিকভাবে পরিচালিত হবে।
আবু নাছের
ভেটেরিনারি মেডিসিন এন্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স অনুষদ (২য় বর্ষ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর- ১৭০৬।
====
তরুণরা হতাশ হলেও
দেশকে ভাল কিছু উপহার দিতে পারবে
আমরা পড়াশুনা করেই একদিন বড় হবো সেজন্যই আমাদের পিতামাতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান, আর সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখাপড়া করে আমরা নিজের জন্য, দেশের জন্য ও সমাজের জন্য কিছু করবো। ভালভাবে বেঁচে থাকবো, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবো, সুষ্ঠু দেশ, সুষ্ঠু সমাজ, সুষ্ঠু দেশের নীতি সকল কিছুই থাকবে নির্ভেজাল শিক্ষিত সমাজ তো আমাদের এই শিক্ষাই দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ সমাজের চাকরি নেই, বেকারের সংখ্যায় বেশি। তাই বেশিরভাগ ছেলেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই তরুণ সমাজও ধ্বংস হয়ে পড়ছে। প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সকল কিছুতেই যদি ভাল কিছু শিক্ষা পেয়ে থাকে তাহলে তরুণ সমাজের জন্য দেশকে ভাল কিছু দিতে পারবে এজন্য সরকারের আন্তরিকতায় তরুণরা হতাশ হতে পারে এবং সুন্দর সমাজ গঠন করে দেশকে ভাল কিছু উপহার দিতে পারবে বলে মনে হয়।
মো. মোশারফ হোসেন সোহাগ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।
====
তরুণদেরকে হতাশা হতে
মুক্ত করতে না পারলে দুর্যোগে হাল ধরা দায় হয়ে পড়বে
বর্তমানের অশুভ, অসুস্থ রাজনীতি আমাদের কাউকেই সুস্থ তথা আশাবাদী হতে দিচ্ছে না। সরকার ও বিরোধীদলেরা কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি; অসহিষ্ণু ছাত্র রাজনীতি; শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি তরুণদেরকে হতাশই করে। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। ফলে মেধাবীদের মধ্যে বাসা বাঁধছে হতাশা। ভার্সিটিতে অপর্যাপ্ত আসনের কারণে লাখো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না। তাছাড়া ঘুষ বা লবিং ছাড়া চাকরি পাওয়া, আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ারই সামিল। অর্থাত্ বর্তমান সামজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তরুণ সমাজ হতাশ বই আশাবাদী নয়। তাদেরকে আশাবাদী করতে হলে পুরো সমাজব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাদের জন্য একটি সুন্দর প্ল্যাট্ফরম তৈরি করতে হবে।
সব্যসাচী
এইচএসসি পরীক্ষার্থী
রামগঞ্জ মডেল কলেজ।
===
তারুণ্যের আরেক
নাম হতাশা— এটাই
বর্তমান বাস্তবতা
হতাশার নাম যদি হয় গ্রাজুয়েশন শেষ করার পরও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি না পাওয়া, অর্জিত বিদ্যাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে না পারা, মামার অভাবে মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া, টাকার অভাব ভাইভা বোর্ডে গিয়েও চাকরি না পাওয়া। তাহলে আজ বলতেই হয় তরুণ সমাজ সত্যিই হতাশ। এ হতাশা শুধু তরুণ সমাজের নয় বরং গোটা জাতির। কেননা যে সমাজে মেধার মূল্যায়ন হয় টাকা দিয়ে সে সমাজ থেকে আর যা-ই হোক ভাল কিছু আশা করা যায় না। আর যদি ভাল কিছু পেতে হয় তবে তরুণ সমাজের হতাশা দূর করতে হবে। কারণ জাতির হতাশা দূর করতে করতে জীবন শেষ হয়ে যাবে, সমাজের জন্য, জাতির জন্য কিছুই করতে পারবে না।
এস,টি,আই তুহিন
বি,ইউ,এম,এস (২৩তম ব্যাচ)
সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ, মিরপুর-১৩, ঢাকা।
