[ আ ন্ত র্জা তি ক ]

আফগানিস্তানে সামপ্রতিক নির্বাচন

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২১
প্রথমজন বলল, ‘ভাই পাঠানসব, এস আমরা সব উড়িয়ে দি, ডিমোক্রেসি, অটোক্রেসি, ব্যুরোক্রেসি, কম্যুনিজম, ডিকটেটরশিপ-সব সব’। এর উত্তরে আর একজন বলছেন: ‘তুই বুঝি অ্যানার্কিস্ট?’ এর প্রতি উত্তরে প্রথমজন বলল, ‘না, আমরা অ্যানার্কিও উড়িয়ে দেব।’ কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের একজন আফগান অধ্যাপকের বর্ণনার মাধ্যমে দুই পাঠানের কথাবার্তার এই চিত্র আমরা পাই বাংলা সাহিত্যের স্বনামখ্যাত ব্যক্তিত্ব সৈয়দ মুজতবা আলীর “দেশে বিদেশে” শীর্ষক ভ্রমণ কাহিনীতে। কোন কিছু না মানার এই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া একটি বিস্ময়কর ব্যাপারই বটে! নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য উপাদান। “নির্বাচন”-এর পরিবর্তে “আফগানিস্তান”-এর সাথে “তালেবান” শব্দটি যুক্ত হলে তা মানব সভ্যতার জন্য ধ্বংসের বার্তা বয়ে আনে। তালেবানদের হুমকির মুখে গত ৫ এপ্রিল ২০১৪ আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আফগান ও তালেবান মানেই এখন মানুষ বোঝে মোল্লা ওমরের মনগড়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী ধর্মীয় অনুশাসন এবং ওসামা বিন্ লাদেনের নেতৃত্বাধীন আল্-কায়েদার ভয়ঙ্কর ব্যক্তিবর্গের অভয়ারণ্য। ধর্মের নামে সুপরিকল্পিতভাবে সমগ্র বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও রক্তপাতের বিস্তার ঘটানো। আর তাই তালেবানের আশঙ্কায় মানব সভ্যতা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে! শুরুতে পাঠানদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আফগান ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাঠানদের বসবাস বলেই আমরা বাংলা মুলুকের অধিবাসীরা জানি। তবে আফগানিস্তানের বর্তমান সংবিধানে পাঠান বলে কিছু উল্লেখ নেই। তবে কি আমরা বাংলা মুলুকে যাদের পাঠান বলে জানি আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের পরিচিতি ভিন্ন? সংবিধান অনুযায়ী আফগানিস্তান একটি বহুজাতিভিত্তিক দেশ। ২০০৪ সালের ৩ জানুয়ারি তারিখে প্রকাশিত ৩৪ পৃষ্ঠা, ১৬২টি অনুচ্ছেদ ও ১২টি অধ্যায় বিশিষ্ট আফগানিস্তানের সংবিধান। এই সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাজিক, হাজারা, উজবেক, তুর্কমেন, বালুচ, পাচাইয়ে, নুরিস্তানী, আইমেক, আরব, কিরঘিজ, কিজিলবাশ, গুজুর, ব্রাহ্উই এবং অন্য উপজাতিদের সমন্বয়ে “আফগান” জাতি গঠিত। সমৃদ্ধি ও কৌশলগত দিক দিয়ে এই দেশটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রাচীনকাল থেকে বিশেষত ভারতীয়, ইরানী, চৈনিক ও ইউরোপীয় সভ্যতার মানুষেরা বাণিজ্য, দেশজয় কিংবা ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়ে আফগানিস্তানে পদার্পণ করেছে। আর স্বাভাবিকভাবেই এসব মানুষের প্রভাব আফগানিস্তানের স্থানীয় সংস্কৃতিতে পড়েছে। শতাব্দীব্যাপী এই দেশটি অনেক বহিরাগত, আক্রমণকারী ও বণিকদের আকৃষ্ট করেছে। আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট এই দেশটিকে দখল করেছিল ৩৩০ খ্রিস্ট-পূর্বাব্দের দিকে। আর নতুন সহস্রাব্দের শুরু থেকে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের উল্লেখযোগ্য সভ্যতাসমূহের মধ্যে বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্ম প্রচারের কাজে সিল্ক রুট ব্যবহূত হয়েছে। দেশটির জনগণ ও সংস্কৃতির উপর এসব সভ্যতা তাদের চিহ্ন রেখে গেছে। প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারতে গান্ধার রাজ্যের উল্লেখ আছে। সেটি বর্তমান আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের অংশবিশেষ নিয়ে গড়ে উঠেছিল। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের যে অঞ্চলে “তালেবান” সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় সেই অঞ্চলেই প্রাচীনকালে ছিল “গান্ধার” রাজ্য। সৈয়দ মুজতবা আলী বলছেন, ‘গান্ধার’ আর ‘কান্দাহার’ একই শব্দ। আরবী ভাষায় ‘গ’ অক্ষর নেই বলে আরব ভৌগোলিকেরা ‘ক’ ব্যবহার করেছেন।’ (পৃ. ২৬) গান্ধার রাজ্যের রাজপুত্র শকুনির চেতনা ও বিশ্বাসও ছিল তালেবানের মতই ধ্বংসাত্মক। শকুনি ছিল খুব ধুরন্ধর প্রকৃতির। “মহাভারত”-এর কুরুক্ষেত্র যুদ্ধটিও সেই সময়কার গান্ধার রাজ্যের রাজপুত্র শকুনির প্ররোচনায় সংঘটিত হয়েছিল। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে কৌরব ও পাণ্ডব পক্ষের প্রায় সবাই নিহত হয়েছিলেন। আঠারো দিন যাবত্ চলমান কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শেষে কৌরব পক্ষের মাত্র চারজন এবং পাণ্ডব পক্ষের মাত্র আটজন জীবিত ছিলেন। সমগ্র উপমহাদেশই শুধু নয়, সমগ্র বিশ্বব্যাপী এরকমই এক ধ্বংসযজ্ঞের নক্শা “তালেবান” ও তাদের সমর্থকগোষ্ঠী করেছিল। সেই হিসেবে তালেবানকে একবিংশ শতকের শকুনির গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করলে অত্যুক্তি হবে না। কাবুল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার নিদর্শন ২২ বছরব্যাপী যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সবশেষে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চলমান তালেবান শাসন পরিকল্পিতভাবে আফগানিস্তানের প্রাচীন সভ্যতার সব নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে এবং বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তিকে বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। কাবুল জাদুঘরে সংরক্ষিত বড় বড় আকৃতির বুদ্ধ ও হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তিগুলোকে লুণ্ঠন করতে না পেরে সেগুলোকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। বিবিসির সাংবাদিক ড্যান ক্রুইকশ্যাঙ্ক ২০০২ সালের শুরুর দিকে কাবুলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, “এটি স্পষ্ট যে তালেবানের শেষ দিনগুলোতে জীবন্ত জিনিসের মূর্তিগুলো ধ্বংসই শুধু করেনি—যে কাজটি পবিত্র কোরানের টেক্সটের অপব্যবহার—তারা ইতিহাস এবং স্মৃতিও আক্রমণ করেছে। তারা সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে আফগানিস্তানের সমৃদ্ধ অতীতকে মুছে দিতে চেয়েছিল এবং দেশটিকে ধারণাগত দিক দিয়ে একটি শূন্য বছরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, যেখানে আল্লাহকে উপাসনা করা হবে খুবই কড়াকড়িভাবে নির্দেশিত নিয়মে। সব শিল্পকলা এবং খেলাধুলা ধ্বংস করা হয়েছিল এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি ছিল সীমিত আর নারীদের অবদমিত করে রাখা হয়েছিল।” বর্তমান আফগানিস্তান মোট ৩৪টি প্রদেশ নিয়ে গঠিত। সংবিধানে উল্লেখিত ১৩টিরও বেশি উপজাতীয় গোষ্ঠীর সমন্বিত জাতীয়তার উপর আফগানিস্তানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব নির্ভরশীল। আর এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকে সরাসরি এবং এদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। সংবিধানের ৬১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাঁচ বছর পূর্ণ হবার পর মে মাসের ২২ তারিখে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল শেষ হবার ত্রিশ থেকে ষাটদিন পূর্বে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। আফগানিস্তানের সংবিধানের ৬২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি দুই মেয়াদের অধিক প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। সে অনুসারে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ২০০৪ সালে এবং ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই তিনি এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ৫ এপ্রিলের নির্বাচনে ১১ জন প্রার্থী প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা হলেন: পশ্তুন জাতিগোষ্ঠীর আশরাফ গনি, তাজিক জাতিগোষ্ঠীর ডা. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ এবং জালামি রসুল। আশরাফ গনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তার রানিং মেট উজবেক বংশোদ্ভূত আব্দুল রশিদ দোস্তাম। কারজাই সরকারের সময় গনি ছিলেন অর্থমন্ত্রী। আর একজন প্রার্থী হলেন ডা. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ। তিনি তাজিক জাতিগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত। তিনি হাজারা গোষ্ঠীর মোহাম্মদ মোহাকেক-এর সাথে অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া পশতুন বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ খানও তার সাথে আছেন। মোহাম্মদ খান একসময় তালেবানের একটি গ্রুপ হেজব-ই-ইসলামীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। আব্দুল্লাহ্ একজন চক্ষু চিকিত্সক। তিনি কারজাই সরকারের অধীনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। কারজাইয়ের বিরুদ্ধে তিনি ২০০৯ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কিন্তু নির্বাচনে জালিয়াতির প্রতিবাদে নির্বাচন থেকে সরে এসেছিলেন। এবারের নির্বাচনে কারজাই প্রকাশ্যে কোন প্রার্থীকে সমর্থন করেননি। তবে তৃতীয় শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী জালামি রসুলকে কারজাইয়ের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্টের ভাই কাইউম তাকে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছেন। আব্দুল্লাহর মতন জালামিও একজন চিকিত্সক। তার রানিং মেট হাবিবা সরাবি। তিনজন নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে হাবিবা একজন। এই নির্বাচনে পুরুষ ভোটার ছিল ২৪,৭৭,১৬৩ এবং নারী ভোটার ছিল ১৩,১৬,৯৩৩ জন। এছাড়াও আফগানিস্তানের যাযাবর হিসেবে পরিচিত কুচি পুরুষ ভোটার ২১,৩৬৬ এবং কুচি নারী ভোটার ৮,১৩১ জন। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩৮,২৩,৫৯৩ জন। আফগানিস্তানের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন পরিচালনা করেছে। তালেবান জঙ্গিরা এই নির্বাচন বানচাল করার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করে কিন্তু আফগান নিরাপত্তা বাহিনী তাদের এই চেষ্টা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল। এসোসিয়েটেড প্রেসের দু’জন সাংবাদিক পুরস্কারপ্রাপ্ত জার্মান ফটোগ্রাফার আঞ্জা নিয়েড্রিংঘাউস তালেবানের আক্রমণে নিহত হন আর একজন কানাডিয়ান রিপোর্টার ক্যাথি গ্যানন গুরুতর আহত হন। আফগান ইনটেরিয়র মন্ত্রণালয়ের প্রবেশদ্বারে আর এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ছয়জন আফগান পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। তালেবানরা একজন প্রাদেশিক কাউন্সিল প্রার্থী এবং তার নয়জন সমর্থককে হত্যা করে। এর আগে সুইডিশ রেডিও প্রতিনিধি নিলস হর্নারকে কাবুলের রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়। কয়েকজন নির্বাচন কর্মকর্তাও তালেবানের আক্রমণে নিহত হয়েছেন। এতদ্সত্ত্বেও নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেছেন- তালেবানের আক্রমণ তাদের নির্বাচনী কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না। কারজাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা চুক্তি নবায়নে রাজি হননি। তবে নির্বাচনের আক্রমণের পরে অন্তত দু’জন প্রার্থী চুক্তি নবায়নে আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। এ মুহূর্তে আফগানিস্তানে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এসিসট্যান্স ফোর্সে ৪৮টি দেশের প্রায় ৫১০০০ সৈন্য অবস্থান করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩৫০০ জন সৈন্য। নির্বাচনের সময় তালেবানের বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ সত্ত্বেও আফগানিস্তানে সহিংসতা এখন স্বল্পমাত্রায় পরিলক্ষিত হচ্ছে, এমন অভিমত ন্যাটো মহাসচিব অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেনের। আফগানিস্তানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘তালেবানরা ২০০৯ সালের নির্বাচন ভন্ডুল করতে চেয়েছিল কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে আর নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুরক্ষা দিতে নিরাপত্তা বাহিনী সেই অভিজ্ঞতা এবং সামপ্রতিক অপারেশনগুলো থেকে অনেক কিছু শিক্ষা লাভ করেছে। নির্বাচনের প্রচারাভিযান শুরু থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ৫০০টি রাজনৈতিক সমাবেশ পাহারা দিয়েছে। আর ৪,০০,০০০-এর বেশি রক্ষী নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত করতে দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছে। আফগান ন্যাশনাল পুলিশ (এএনপি) এর সহযোগিতায় নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সড়কপথে ও বিমানপথে ৩৪টি প্রদেশের ৩৬৮টি জেলায় নির্বাচন উপকরণ প্রেরণ করেছেন। নির্বাচনের সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ১৩০০০ নারী সদস্যও কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে সুরক্ষা দিতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর দৃশ্যমান শক্তি লক্ষ্য করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের আফগানিস্তান বিষয়ক উপ বিশেষ প্রতিনিধি এবং UN Assistance Mission in Afghanistan (UNAMA)-র ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিকোলাস হেইসন বলেন, “Afghans are in the lead on providing security for the elections process. The Afghan security forces have demonstrated their increased capabilities in the extensive preparations undertaken to give those Afghans who wish to vote the opportunity to do so.” আফগানিস্তানের স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের প্রধান মোহাম্মদ ইউসুফ নুরিস্তানী কাবুলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত যে ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়েছিল তাদের সুবিধার্থে ভোটদানের সময়সীমা একঘন্টা বৃদ্ধি করা হয়।’ কাবুলের একজন ভোটার বলেন, ‘আমার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বাছাই করার জন্য আজ ভোট দিতে এসেছি এবং আমি আশা করি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট যেই হোক...একজন ভালো মানুষ, যিনি লোকদের সাহায্য করবেন এবং আফগানিস্তানের একটি পরিবর্তন আনবেন।’ ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশন ফাউন্ডেশন অব আফগানিস্তানের পর্যবেক্ষণ অনুসারে সহিংসতার হুমকি সত্ত্বেও ৭৫%আফগান তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। লেখক:অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন