তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২২
সামনে বাধার প্রাচীর তবুও নবযাত্রার স্বপ্ন দেখি যুগে যুগে তরুণ সমাজ পৃথিবীর যে কোন ক্রান্তিলগ্নে কিংবা সংকট মুহূর্তে নিজেকে কান্ডারীরূপে মেলে ধরেছে। ব্রিটিশ সরকারের শোষণ ও জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষুদিরাম বসুর নজীরবিহীন প্রতিবাদ থেকে শুরু করে নূর হোসেনের স্বৈরাচার এরশাদের মসনদে কালো থাবা, অবহেলিত জনগণকে আশার আলো দেখিয়েছিল। ’৯০’র গণঅভ্যুত্থানেও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকাও প্রশংসার দাবিদার। ইদানিং অমুক কোটা, তমুক কোটা যেভাবে মহামারি আকার ধারণ করছে তাতে মনে হচ্ছে অনেকে বাধ্য হয়ে অসত্ পথ অবলম্বন করতে পারে। যাই হোক, কেউ কে্্উ আবার এর মাঝেই দুঃখ-হতাশাকে হজম করে, প্রেরণাকে ধারণ করে শুধুই সামনে যাওয়ার প্রহর গুনে। এই ধারা অব্যাহত থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মো. শরীফুল ইসলাম শরীফ বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি ৪র্থ বর্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা তরুণদের হতাশ হলে চলবে না, যত কঠিনই হোক, পাড়ি দিতে হবেই তারুণ্য হলো বন্ধুর পথ। এ ক্ষেত্রে তাকে ঝুঁকি নিতেই হবে। তরুণরা জাতির কর্ণধার। তরুণ সমাজ তাদের ধৈর্য এবং একতাবদ্ধ হয়ে অনেক কল্যাণকর অর্জন বয়ে এনেছে জাতির জন্য। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি দুঃসাহসিক কর্মে স্বাক্ষর রেখেছে তরুণ সমাজ। বিভিন্ন সময়ে ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছে। একটা জাতির আগামীদিনের মূল্যবান সম্পদ এই তরুণরা। তাদের পথভ্রষ্ট হলে চলবে না। দেশের বৃহত্ স্বার্থে তাদের কাজ করতে হবে। সকল বাধাবিপত্তি, অপসংস্কৃতি, দুর্নীতি, অপকর্ম পরিহার করতে হবে। তেমনিভাবে বর্তমানেও পরাজয়ের ভয় না করে যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতেই হবে। তাই তরুণদের হতাশ হওয়া যাবে না। কখনোই না। মসিউর রহমান মানবিক বিভাগ কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ বেকারত্বই তরুণ সমাজকে হতাশ করে এই বিশাল জনসমুদ্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল এদেশের শিক্ষিত মেধাবী তরুণ সমাজ। যেখানে এই শিক্ষিত মেধাবী তরুণদের দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করার কথা কিন্তু সেখানে তারা আজ কর্মসংস্থান ও সঠিক মেধার মূল্যায়নের অভাবে বেকারত্ব বরণ করে জাতির বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা তরুণ সমাজকে ভাবিয়ে তোলে। যদিও বর্তমান সরকার এ বিষয়ে অনেক উদ্যোগী, তারপরও এ বিষয়ে আরো সুনজরের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। মো. আরিফুল ইসলাম রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে দুঃখ, হতাশা পরিত্যাগ করতে হবে হ্যাঁ আমরা আমাদের চারপাশের নানা সমস্যার বেড়াজালে আটকে আছি। বিভিন্ন সমস্যা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারছি না এটা সত্য কিন্তু বাংলায় তো একটি প্রবাদ আছে: “মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে”। সঙ্কট, সমস্যা ইত্যাদি থাকবেই জীবনে চলার পথে, ঠিক তেমনি তার সমাধানও থাকবে। তরুণদের মনে রাখা উচিত দেশটা অন্য আর কারো নয়, আমাদেরই দেশ। আমাদের এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকল দুঃখ, হতাশা ইত্যাদি পরিত্যাগ করে দেশের উন্নয়নের জন্য সবাইকে এসব ভুলে কাজ করতে হবে । এনামুল হাসান নোমান ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এখন তরুণ সমাজের অপর নামই হতাশা এখনকার সময়ে একটা ছেলেকে এইচএসসি পাস করতে কতটা সময় পোহাতে হয় এবং কত কষ্ট করে ভাল একটা রেজাল্ট করতে হয় তারপরেও ভাল একটা যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরির সন্ধান খুঁজে পাওয়া যায় না। এখনকার সময়ে বিভিন্ন কোম্পানীগুলোতে এইচএসসি পাসে নিয়োগ দেয়া হয় এমএলএসএস পোস্টে। এর চেয়ে আর দুঃখ আমাদের জন্য কি হতে পারে? একটা ছেলে এইচএসসি পাস করার পর যদি সে কাপ ধোয়ার চাকরি করে তাহলে কি করার আছে আজ আমাদের? পড়াশুনা করে একদিন আমরা বড় হব এই আশাতেই বাবা-মা আমাদেরকে স্কুলে পাঠান, কষ্ট করে পড়াশুনা করান আর এগুলো দেখেই আজ আমরা হতাশায় ভুিগ। তাহলে বলতেই হয় আজ তরুণ সমাজের অপর নাম হতাশ। মো. ইয়াছিন বিএসএস ৩য় সেমিস্টার, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন