[ শি ক্ষা ]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় :আমাদের প্রত্যাশা

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪২
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছু শুভ ও আনন্দ সংবাদ পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজটিকে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করবার। এই লক্ষ্য অর্জনে বেশ ক’বছর আগে রাজশাহীতে ‘মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠিত হয়েছিল। আমি নিজেও উক্ত কমিটির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। সেই কমিটির ব্যানারে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম আমরা করেছি। মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া পেশ করেছি। আমাদের বক্তব্য ছিল রাজশাহী মহানগরটি শিক্ষানগরী বলে পরিচিত হলেও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমান রাজশাহী মহানগর বেশ খানিকটা উপেক্ষিত। সেই বৃটিশ আমলে সমগ্র পূর্ববঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র একটি, সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হবার পর ১৯৫৩ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ হয় একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেটি প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহীতে। এর ফলে রাজশাহী মহানগর শিক্ষানগরী হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর দীর্ঘ ৪৩ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দিকে রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চল তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। ঢাকা মহানগরে বর্তমানে সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা যখন ৫৫টি, পাশাপাশি রাজশাহী মহানগরে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মাত্র ৪টি । তবে আনন্দের কথা, ২০১৩-১৪ সালটি মনে হচ্ছে রাজশাহী তথা সমগ্র উত্তরাঞ্চলের জন্য কিছু স্মরণীয় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। গত ১৯ এপ্রিল রবিবারে রাজশাহীতে এসেছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শোনা যাচ্ছিল মোহাম্মদ নাসিম রাজশাহীর মানুষের জন্য একটি আনন্দ বার্তা বয়ে নিয়ে আসছেন। ঘটনা সত্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গত ১৯ এপ্রিল রাজশাহীতে এসে ঘোষণা দিয়েই ফেলেছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজটি এক বছরের মধ্যে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে। শুধু তাই নয় রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলে দিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতার অন্যতম নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের নামে এ বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ হবে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ মিলনায়তনে হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতার সামনে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মুখ থেকে যখন ঘোষণাটি বেরিয়ে আসে, হলভর্তি দর্শক-শ্রোতা দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে মাননীয় মন্ত্রীর ঘোষণাটিকে স্বাগত জানান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাজশাহী তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমাদের জাতীয় চার নেতার অন্যতম নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের লাশ রাজশাহীর মাটিতে সমাহিত করা হয়েছে। এ কারণে রাজশাহীর মানুষ শহীদ কামারুজ্জামানের প্রতি অত্যন্ত আবেগ প্রবণ। শহীদ কামারুজ্জামানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ হবে জেনে রাজশাহীর মানুষ গভীর স্বস্তি অনুভব করছে এবং এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এরপর উত্তরবঙ্গের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রসঙ্গ। রবীন্দ্রনাথ আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের কবি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যেরসমৃদ্ধি সাধনে, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ব্যাপক উন্নয়নে, বাঙালি জাতির মানস গঠনে রবীন্দ্রনাথের অবদান চির স্মরণীয়। ১৯৭১ সালে সমগ্র বাঙালি জাতি যখন স্বাধীনতা যুদ্ধে লিপ্ত, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান, কথা ও বাণী জাতিকে সাহস জুগিয়েছে, পথ দেখিয়েছে। আমরা বাংলা ভাষা-ভাষী প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন রবীন্দ্র সংগীতে স্নাত হই। রবীন্দ্র সাহিত্যকে দেশ-কাল, ধর্ম-গোত্র-বর্ণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোন সুযোগ নেই। তিনি এখন থেকে শতবর্ষ আগে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সম্মান নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। এ জন্য আমাদের গর্বের সীমা নেই। রবীন্দ্র সাহিত্যের আবেদন চিরন্তন। ধারণা করা যায়, যতদিন বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতি থাকবে ততদিন রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু নেই, তিনি চিরঞ্জীব। বাইরের বিশ্বে রবীন্দ্রনাথের নামেই মূলত বাঙালির পরিচিতি। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি । তার নামে শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক মহান জাতীয় দায়িত্ব পালন করলেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে আমাদের ঋণের শেষ নেই। নোবেল বিজয়ী এই কবির জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে পূর্ববঙ্গের শাহজাদপুর, শিলাইদহ এবং প্রতিসরে। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নানা দিক বিবেচনায় এনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়টি শাহজাদপুরেই প্রতিষ্ঠিত হবে। পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে ক’দিন আগে একনেকের এক সভায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ হয়ে গেছে। বাংলা ভাষা-ভাষী প্রতিটি মানুষের জন্য এটি সুসংবাদ। সামনে ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন। একনেকের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অর্থ বরাদ্দ যখন হয়ে গেছে, সে ক্ষেত্রে ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা যেতেই পারে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর এ.কে. আজাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে স্থান নির্ধারণ কমিটি ইতোপূর্বে শাহজাদপুর এসে সম্ভাব্য ৩টি স্থান পরিদর্শন করেছেন। স্থানের ব্যাপারে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন রকম সমস্যা নেই। নানা কারণে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করতে বেশ বিলম্ব ঘটে গেছে। আর বিলম্ব করা সমীচীন হবে না। সামনের ২৫শে বৈশাখ তারিখে শাহজাদপুরে এসে রবীন্দ্র্র কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো যেতে পারে। ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্র জন্ম-জয়ন্তী। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য এ দিনটিকে বেছে নেয়া যেতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৫শে বৈশাখের অনুষ্ঠান ঢাকাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করে থাকেন। এবার রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটিকে শাহজাদপুরে স্থানান্তরিত করা যেতে পারে। এতে দুটো লক্ষ্য পূরণ হবে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ২৫শে বৈশাখ রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন। বিষয়টি ভেবে দেখবার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শাহজাদপুরে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে যে অবকাঠামো আছে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার মত জায়গা-জমি আছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রসঙ্গঃ প্রশাসন ভবন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমঃ- রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রশাসন ভবনটি রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতেই স্থাপন করা বাঞ্ছনীয়। কুঠিবাড়িতে যে পরিমাণ জায়গা-জমি আছে, তাতে সেখানে বহুতলবিশিষ্ট প্রশাসন ভবন নির্মাণ সম্ভব। রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির অডিটোরিয়ামের চার পাশে যে সমস্ত কক্ষ রয়েছে জরুরিভিত্তিতে সে সমস্ত কক্ষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে কোন রকম অসুবিধে হবার কথা নয়। রবীন্দ্র কুঠিবাড়িটি সম্ভবত বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের অধীনে ন্যস্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠনে প্রত্নতত্ত্ব একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । সে বিবেচনায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থাকতেই পারে। রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে একটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ স্থাপন করতে পারলে তা বেশ মানানসই হবে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম প্রসঙ্গঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির সেশন শুরু হতে পারে জুলাই ২০১৪-২০১৫ সাল থেকে। তার আগে ক্লাস ভবনের ব্যবস্থা করতে হবে । এটি দু’ভাবে হতে পারে। ১. সাময়িকভাবে কয়েকটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে। ২. শাহজাদপুর শহর এলাকায় যে সমস্ত কলেজ আছে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের কিছু শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেয়া। শাহজাদপুর ডিগ্রি কলেজে সমপ্রতি যে বিজ্ঞান ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, সাময়িকভাবে সে বিজ্ঞান ভবনটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা লগ্নে এ রকম ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস চালু করা হয়েছিল পদ্মাপাড়ের বড়কুঠিতে। আর ক্লাস নেয়া হতো রাজশাহী সরকারি কলেজে। রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির আধ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে মযহারুল ইসলাম ফোকলোর ইনস্টিটিউট। সম্ভবত ৪/৫ বিঘা জমির উপর নির্মিত হয়েছে মযহারুল ইসলাম ফোকলোর ইনস্টিটিউট। বর্তমানে এর বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। প্রফেসর মযহারুল ইসলাম ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফোকলোর বিশারদ। বাংলাদেশে ফোকলোর ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ছিল তার আজীবনের সাধনা। বাংলাদেশে ফোকলোর চর্চায় রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ড. মযহারুল ইসলামের পথিকৃত্। মযহারুল ইসলামের পরিবার বর্গের যদি সম্মতি থাকে, সেক্ষেত্রে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বিধিসম্মতভাবেই মযহারুল ইসলাম ফোকলোর ইনস্টিটিউটকে আত্মীকরণ করে নিতে পারে। এতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত চালু করবার পথ সুগম হবে। মযহারুল ইসলাম ফোকলোর ইনস্টিটিউট ভবনে ফোকলোর ছাড়াও আরও দু’একটি বিভাগের ক্লাস চলতে পারবে। ফোকলোর ইনস্টিটিউটের আশেপাশে যে ফাঁকা জায়গা-জমি রয়েছে, সেখানে এখনই ফোকলোর ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণের কাজ শুরু করা যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ শাহজাদপুরের যে কুঠিবাড়িতে বসে সাহিত্য চর্চা করতেন, সে বাড়ি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ তার ছিন্নপত্রে উল্লেখ করেছেন— “অনেক কাল বোটের মধ্যে বাস করে হঠাত্ শাহজাদপুরের বাড়িতে এসে উত্তীর্ণ হলে বড়ো ভালো লাগে। বড়ো বড়ো দরজা জানালা, চারদিক থেকে আলো-বাতাস আসছে, যেদিক চেয়ে দেখি সেই দিকেই গাছের সবুজ ডালপালা চোখে পড়ে এবং পাখির ডাক শুনতে পাই, দক্ষিণের বারান্দায় কেবলমাত্র কামিনী ফুলের গন্ধে মস্তিষ্ক ও সমস্ত রন্ধ্রপূর্ণ হয়ে ওঠে। হঠাত্ বুঝতে পারি, এতদিন বৃহত্ আকাশের জন্যে ভেতরে একটি ক্ষুধা ছিল, সেটা এখানে এসে পেট ভরে পূর্ণ করে নেয়া গেলো। আমি চারটি বৃহত্ ঘরের একলা মালিক, সমস্ত দরজাগুলো খুলে বসে থাকি। এখানে যেমন আমার মনে লেখবার ভাব ও ইচ্ছা আসে এমন কোথাও না।” শাহজাদপুরের যে বাড়িটি কবির এত ভাল লেগেছিল, সেইবাড়িতে যদি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেটাই হবে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। লেখক :সাবেক ভিসি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়