লিওনেল মেসির গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-১ গোলে পরাজিত করে লা লিগায় শিরোপা ধরে রাখার মিশনে টিকে রইলো বার্সেলোনা। চার ম্যাচ বাকি থাকতে শীর্ষে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের চাইতে এখনও চার পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও এই জয়ের ফলে কাতালানদের শিরোপা স্বপ্ন বেঁচে রইলো বলেই মন্তব্য করেছেন জাভি।
গতকাল ন্যু ক্যাম্পে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার কারণে বিরতির পরে দু’দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এতে প্রথম সফল হয় সফরকারী বিলবাও। বিরতির পরে মাঠে ফিরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আরিজ আডুরিজের গোলে বিলবাও এগিয়ে গেলে বার্সেলোনা সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা চার ম্যাচ হারের লজ্জার আশঙ্কায় পড়ে। কিন্তু পেড্রো রডরিগুয়েজ এবং লিয়নেল মেসির দ্রুত দুই গোলে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে কাতালানরা। এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে হটিয়ে লীগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। যদিও একটি ম্যাচ কম খেলেছে রিয়াল। রিয়ালের থেকে দুই পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও শীর্ষে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের থেকে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান এখনো চার। এদিকে এই হারের পরও সেভিয়ার চাইতে তিন পয়েন্ট এগিয়ে এখনো চতুর্থ স্থান ধরে রেখেছে বিলবাও। এই দুই দল আগামী সপ্তাহে একে অপরের মুখোমুখি হবে। গুরুত্বপূর্ণ ঐ ম্যাচটির মাধ্যমেই মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যাবে আগামী মৌসুমে কোন দলটি চ্যাম্পিয়নস লীগের জন্য টিকে থাকবে।
চ্যাম্পিয়নস লীগ থেকে ছিটকে পড়া, কোপা ডেল রে ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা হারানো এবং গত সপ্তাহে গ্রানাডার কাছে পরাজিত হয়ে লা লিগায় শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়া- এসবই ছিল গত ১০ দিনে বার্সেলোনার দু:সহ স্মৃতি। কিন্তু এতকিছুর পরে বার্সা কোচ জেরার্ডে মার্টিনো মনে করেন সবকিছুকে পিছনে ফেলে তার দল ঠিকই ফিরে আসবে। যদিও গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর গত কদিনের চেনা আতঙ্ক ঘিরে ধরেছিল তাকেও। এই আর্জেন্টাইন বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমার মনে হয়েছিল আবারো বুঝি সেই দিনগুলো ফিরে আসছে। কারণ এত সুযোগ পাবার পরে যদি সেগুলো কাজে লাগানো না যায় তবে সেই দলের জন্য এটাই কাম্য। কিন্তু খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত তা কাটিয়ে উঠেছে এবং এ ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা আগেও হয়েছে। আর সবসময়ই তারা যথেষ্ট সাহস ও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।’
তবে এই জয়েই নিজেদের কাজ শেষ হয়ে গেল বলে ভাবছেন না দলের রক্ষণভাগের অন্যতম সদস্য জ্যাভিয়ের মাসচেরানো। শিরোপা স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে অ্যাটলেটিকো এবং রিয়ালের উপর চাপ বজায় রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল এবং লিগ কাপের ফাইনালে হারের পর এই জয়ের মাধ্যমে কাতালানরা আবার তাদের পুরনো ফর্মে ফিরবে বলেই আত্মবিশ্বাসী জাভি। বার্সেলোনা মিডফিল্ডের এই প্রাণভোমরা বলেন, ‘আমার মনে হয় আক্রমণ-রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই আমরা ভালো খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে হার এবং কোপা দেল রের ফাইনালে পরাজয়, দুটোই বড় আঘাত ছিল আমাদের জন্য। তবে সেটা হয়তো আমরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। আমাদের এই খেলাটাই চালিয়ে যেতে হবে এবং লড়াই করার এটাই একমাত্র উপায়।’
গতকাল পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার। যতগুলো সুযোগ তারা পেয়েছে সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে বড় ব্যবধানেই জিততে পারতো বার্সেলোনা। শুরুতেই পেড্রো এবং মেসি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক গোর্ক ইরাইজোজের খুব কাছ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। ৫০তম মিনিটে আডুরিজের গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭২ মিনিটে আর লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। সানচেজের পাস থেকে শেষ পর্যন্ত দলকে সমতায় ফেরান পেড্রো। এটি ছিল মৌসুমে তার ১৯তম গোল। দুই মিনিট পরে ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। ম্যাচের শেষের দিকে কাউন্টার এ্যাটাক থেকে মাসচেরানো এবং ক্রিস্টিয়ানো টেলো দুটি সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরো বাড়তে পারতো।
এই ম্যাচের মাধ্যমে সমালোচকদের একটা জবাবও মেসি দিলেন বলে মনে করছেন জাভি। তিনি বলেন, ‘আজ আবারও মেসি ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দিল। অনেক সময়ই মানুষ তার কাছ থেকে খুব বেশি প্রত্যাশা করে। আমাদের উচিত তাকে শান্তিতে থাকতে দেয়া এবং তাকে তার কাজটা করতে দেয়া।’
