বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দেখে তরুণরা আজ হতাশ
সাম্প্রতিককালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিংসতা, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) খুনাখুনি জাহাঙ্গীরনগরের টেন্ডারবাজি, মারধর আমাদের ভীষণভাবে মর্মাহত করে। যা আমরা কখনই প্রত্যাশা করি না। আপনারা কি কখনও ভেবে দেখেছেন, কেন আমাদের তরুণরা আজ এত বিশৃঙ্খল? অথচ আমাদের তরুণরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে ভাষার মান রক্ষা করেছেন। আমাদের তরুণরা বিশৃঙ্খল অধঃপতিত হওয়ার মূল কারণ আমাদের রাজনীতি। একমাত্র রাজনীতির কারণেই আমরা সকলে একত্রিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারছি না। সুতরাং আমাদের সোনার বাংলাকে পৃথিবীর বুকে একটি স্বার্থক রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে পাল্টাতে হবে। আমরা বিভিন্ন দল করতেই পারি তবে আমরা একে অন্যের শত্রু নই বরং সকলে ভাই ভাই এই মতাদর্শে বিশ্বাসী হতে হবে।
মো. হাবিবুল্লা
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
সকলকে সচেতন হয়ে তরুণদের পরিষ্কার চলার পথ দেখাতে হবে
হ্যাঁ, তরুণ সমাজ আজ হতাশ। আর হতাশ হবার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বেকারত্ব, মাদক অন্যতম কারণ। আমাদের দেশের তরুণরা বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে সেটা পারিবারিক চাপে হউক বা নিজের ইচ্ছাতে হউক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সীট সংখ্যা কম থাকায় ইচ্ছা অনুযায়ী ভর্তি হতে পারছে না। পড়াশোনা করে চাকরি পাচ্ছে না। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে চাকরির খোঁজে এসে পেট্রোল বোমায় মৃত্যু ঘটে। ডিজিটাল দেশ গড়তে সরকার যতই আশা করুক। যেখানে গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের বাইরে। তারা হয় সুযোগ পাচ্ছে না, নয় সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না। সেখানে ডিজিটাল দেশ গড়া কিভাবে সম্ভব?
আফিফী আক্তার (ঈশিতা)
৩য় বর্ষ ৫ম সেমিস্টার
ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট
তরুণ সমাজ আজ হতাশ, কারণ তারা অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে পারেনি
পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে উন্নয়নের জন্য তরুণ সমাজের ভূমিকা বেশি তাদের হাতের যাদুর ছোঁয়ায় দেশের উন্নয়ন বায়ুবেগে অগ্রসর হচ্ছে কিন্তু আমাদের দেশের তরুণরা দিন দিন অন্ধকারের গভীরে হারিয়ে যাচ্ছে। অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, মাদক, যৌন হয়রানি, খুন ও ছিনতাই বেশিরভাগ তরুণ সমাজ দ্বারা হয়ে থাকে এর মূল কারণ অভিভাবকের সচেতনতার অভাব, সুশিক্ষার অভাব, বেকারত্ব এবং সমাজের একশ্রেণীর স্বার্থবাদি ব্যক্তি নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য তরুণ সমাজকে তাদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। যার ফলে কলি থেকে ফুলে পরিণত হতে পারছে না।
মো. ইলিয়াছ আলম সুমন
বিএ, সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ,
সন্দ্বীপ
দুর্নীতি অনিয়ম ও বেকারত্বের কারণে হতাশ হচ্ছে তরুণ সমাজ
কিশোর কবি সুকান্ত তার ছাড়পত্র কবিতায় বিশ্বকে নবজাতকের বাসযোগ্য করার অঙ্গীকার করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তেমনি অঙ্গীকারে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনপণ যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছিল। প্রিয় বাংলাকে। তাদের স্বপ্ন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ হবে সুন্দর ও নিরাপদ। এখানে থাকবে না দুর্নীতি, শোষণ ও হতাশা। কিন্তু সেই স্বপ্নের বাংলা বাস্তবে পেলাম কই? বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে অস্ত্রের মহড়া। মেধাবী ছাত্রটি মায়ের কোলে ফিরে লাশ হয়ে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরিতে নিয়োগ বাণিজ্য, মেধার অবমূল্যায়ন ও বেকারত্বের কারণে হতাশ তরুণ সমাজ। কেউবা হচ্ছে বিপথগামী।
মাহদী হাসান লিখন
বি.বি.এস (সম্মান)
ব্যবস্থাপনা বিভাগ, শেষ বর্ষ,
শেরপুর সরকারি কলেজ
যুবসমাজের
হতাশ হওয়া
উচিত নয়
দেশ ও সমাজের করুণ দুর্দশা দেখে যুবসমাজের হতাশ হওয়া কখনই উচিত নয়। বরং স্বদেশ ও স্বজাতিকে ধ্বংসের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে তাদেরকে প্রাণপণ চেষ্টা চালাতে হবে। সমাজের অন্যায়-অবিচার ও অশ্লীলতা-বেহায়াপনা প্রতিরোধে যুবসমাজ এগিয়ে আসলে তাদেরকে বাধা দেয়ার কে আছে? যুবসমাজই একটি জাতির প্রাণশক্তি। তাই কোন জাতির জাতীয় জীবনে যুবসমাজের অবদানই অনেক বেশি। কোন দেশের যুবসমাজ যদি হতাশায় ভুগে অকর্মন্য হয়ে পড়ে তাহলে সে দেশ কখনই উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হবে না। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ব্যাপকহারে সংঘটিত হতে দেখে আমাদের দেশের অনেক যুবকই হতাশ। তাদের মতে, সমাজ থেকে এসব দূর করা সম্পূর্ণ অসম্ভব। কিন্তু আমার মতে, যদি দেশের সব যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা যায় তাহলে এসব অপরাধ সমূলে উত্পাটন করা অবশ্যই সম্ভব।
মুহাম্মদ আবু আখতার
আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
সেশন ২০১৩-২০১৪ইং
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ৭০০৩
