চার ম্যাচ পর আবাহনীর জয়

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৩
আবাহনী ২ সকার ক্লাব ১ ভাগ্য ভালো আবাহনীর। ফেনীর সকার ক্লাব পিছিয়ে পড়েও গোল শোধ করে যেভাবে আবাহনীর উপর ঝাপিয়ে ছিল তাতে দলটি যে কোনো সময় হেরে যেতে পারতো। আবাহনীর ভালো ভাগ্যের বিপরীতে সকার ক্লাবের হলো উল্টোটা। তিনবার গোলের সুযোগ পেয়েও সকার ক্লাব ভাগ্যের কাছে পর্যুদস্ত হয়েছে। কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আবাহনী। তাই খেলার শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে আবাহনীর পাঁচ ছয় জন ফুটবলার মাঠেই বসে পড়লেন। মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন। আবাহনী চার ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখেলো। শেষ বার ম্যাচ জিতেছিল ২-০ গোলে উত্তর বারীধারার বিরুদ্ধে। এরপর শেখ রাসেল, চট্টগ্রাম আবাহনী এবং শেখ জামালের বিরুদ্ধে ড্র করেছে। আর ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে হেরেছে আত্মঘাতি গোলে। চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট হারিয়েছিল, তার ওপর স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে মোহামেডানের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার কথা তো এখনও ভুলতে পারেনি আবাহনী। সঙ্গত কারণেই কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী ২-১ গোলে ফেনীর সকার ক্লাবকে হারিয়ে স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলছে। ১১ ম্যাচে ছয় জয়ে ২২ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে থাকা শেখ জামালের পয়েন্ট ২৭। মোহামেডান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনীর পেছনে দাঁড়িয়ে। ফেনীর ফুটবল দলটি এখন অনেক ক্লাবের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকার ক্লাবের বিরুদ্ধে বড় কোনো দলের খেলা হলে সেদিকে বাড়তি নজর দিচ্ছেন ফুটবল দর্শকরা। মাঠে এসেই ম্যাচ জিতে বেরিয়ে যাবার মতো পরিস্থিতি নেই ক্লাব কর্মকর্তা কিংবা কোচ খেলোয়াড়দের। কারণ দেশিয় ফুটবলারদের সাথে আছে বিদেশি খেলোয়াড়দের শক্তি। আক্রমন ভাগে চুকা চার্লস, কাব্বা জোয়ে, ম্যাথিউ ম্যান্ডি এবং ল্যান্ডিং যে কোনো দলের জন্য বিপদ সংকেত। তারপরও এদিন আবাহনী ২২ মিনিটে জামাল হোসেনের গোলে এগিয়ে যায় (১-০)। গোল করার পর আবাহনীরই তেড়ে ফুড়ে উঠার কথা। কিন্তু তা হয়নি। গোল হজম করে ফুসে উঠলো সকার ক্লাব। ৪২ মিনিটে সমতা আনল ফেনীর দলটি। আক্রমনের চাপ সামাল দিতে গিয়ে আবাহনী তাদের বক্সের সামনে ফাউল করে। সকার ক্লাব ফ্রিকিক পায়। ল্যান্ডিংকে বল বসাতে দেখে আবাহনীর সব খেলোয়াড় ফ্রিকিকের সামনে দেয়াল দাঁড় করায়। তারপরও ল্যান্ডিংয়ের জোরালো নিচু শট সবাইকে ফাঁকি দিয়ে আবাহনীর জালে ঢুকে যায় (১-১)। এমন ফ্রিকিক দেখে আবাহনীর খেলোয়াড়রা হতবাক। সকার ক্লাব দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীকে চেপে ধরেছিল। তিনবার গোলের সুযোগ খুঁজে বের করেছিল সকার। ম্যাথিউ, ল্যান্ডিংরা দুর্দান্ত সব শট করলেন। কিন্তু কোনো ভাবেই জালে বল রাখতে পালেন না। আবাহনীর রক্ষভাগে অধিনায়ক সুজন ছিলেন না ইনজুরির কারণে। আর স্ট্রাইকিং পজিশনে ঘানাইয়ান মরিসনকে দলের ইরানী কোচ আলী আকবর নামাননি। সিয়েরা লিয়নের ফরোয়ার্ড উমরাও মোস্তফাকে দিয়েছিলেন মরিসনের বদলে। কিন্তু কেন কোচ বলেছেন মরিসন গোল পাচ্ছিলেন না। মোস্তফা দলকে টেনে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছেন। তিনি সফল হয়েছে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে। একটা নিখুঁত বল ফেলেছেন সকার ক্লাবের বক্সে। আবাহনীর প্রথম গোলদাতা জামালের বদলে স্ট্রাইকিং পজিশনে মাঠে নামা তৌহিদুল জয় সুচক গোলটি করেন (২-১)। বেঁচে যায় আবাহনী। অপরদিকে ১১ খেলায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে সকার ক্লাব ১০ দলের মধ্যে অষ্টম স্থানে আছে। আজকের খেলা ঃ মুক্তিযোদ্ধা ও বিজেএমসি এবং মোহামেডান ও উত্তর বারীধারা (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৫টা ৩০ ও ৭টা ৩০)।