ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অরবিন্দ ডি সিলভার খ্যাপাটে ব্যাটিং দেখে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম লিখেছিল—দ্য নিউ ম্যাড ম্যাক্স!
মেল গিবসনের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘ম্যাড ম্যাক্স’-এর সঙ্গে এই তুলনার কথা উঠলেই ডি সিলভা হাসতেন। বলতেন, ব্যাট করে কী আর ম্যাড ম্যাক্স হওয়া যায়! এবার নিশ্চয়ই কথাটা ফিরিয়ে নিতে চাইবেন অরবিন্দ ডি সিলভা। ব্যাট হাতেই যে একজন ‘ম্যাক্স’ এই দুনিয়ায় সত্যিকারের ‘ম্যাড’ হয়ে উঠেছেন। মেল গিবসন, অরবিন্দ ডি সিলভাকে ভুলিয়ে দিতে চলেছেন একালের ম্যাড ম্যাক্স—গ্লেন জেমস ম্যাক্সওয়েল।
ক্রিস গেইল থেকে শুরু করে ম্যাককালাম, ফিঞ্চ, হেলস; খ্যাপাটে ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কম দেখা যায়নি। টি-টোয়েন্টি মানেই ব্যাটসম্যানদের যাচ্ছেতাই মারপিট। বিশেষ করে আইপিএলের উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে সেটা সবসময়ই লাগামছাড়া আকার ধারণ করে। ফলে আইপিএলে কোনো ব্যাটসম্যানের দানবীয় কীর্তি এখন আর সহজে শিরোনাম হয় না। কিন্তু এই সপ্তম আইপিএলে ম্যাক্সওয়েল যা করছেন, তা নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় না তুলে আর উপায় নেই।
যারা খেলা-টেলা দেখছেন না; তারাও রাত পোহালে স্রেফ ম্যাক্সওয়েলের পরিসংখ্যানটা দেখলে তাজ্জব হয়ে যাওয়ার কথা। এবারের আইপিএলে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই তরুণ। ৩ ম্যাচে ১৩১টা বল খেলেছেন; তাতে রান করেছেন ২৭৯! এই ৩ ম্যাচে গুণে গুণে ২৮টি চার ও ১৭টি ছক্কা মেরেছেন!
এই পরিসংখ্যানের পর আর কিছু জানা খুব জরুরি না। তারপরও ইনিংসগুলো আলাদা আলাদা করে দেখে নিতে পারেন—চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ৪৩ বলে ৯৫, জয়পুরের বিপক্ষে ৪৫ বলে ৮৯ এবং হায়দারাবাদের বিপক্ষে আবার ৪৩ বলে ৯৫!
তিনটি সেঞ্চুরি মিস করার আফসোস ম্যাক্সওয়েলের থাকতে পারে। কিন্তু যে বিনোদনটা দিচ্ছেন তিনি, তাতে ক্রিকেট দর্শকদের আফসোস বলে কিছু আর অবশিষ্ট থাকার কথা নয়। ক্রিকেট খেলাটাকে যারা চার-ছক্কার বিনোদন বলেই মেনে নিয়েছেন, তারা অন্তত দু’হাত তুলে বলতে পারেন—হ্যাঁ আমরা পেয়ে গেছি নতুন ম্যাড ম্যাক্সকে।
অথচ ‘ম্যাক্স’ হতে পারতেন নিরীহ দর্শন এখন অলরাউন্ডার। সেভাবেই ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। কিন্তু এমনই এক দানবীয় ইনিংস তাকে বদলে দিয়েছিল। শেফিল্ড শিল্ড অভিষেকেই অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ১৯ বলে ফিফটি করে ফেলেছিলেন। এরপর থেকে ব্যাটিং দানব হিসেবে নাম ছড়িয়ে পড়ে ম্যাক্সওয়েলের। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং অর্ডারে তিন দানব ওয়াটসন, ওয়ার্নার ও ফিঞ্চের উপস্থিতির পরও ম্যাক্সওয়েলকে দলে নিতে বাধ্য হন নির্বাচকরা। গত বছর ভারত সফরে ওয়ানডেতে ৭৭ বলে ৯২ ও ২৩ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে ‘ম্যাড ম্যাক্স’ নামটার সার্থকতা বুঝিয়ে দেন। ওয়ানডেতে কখনোই ২৫ রানের বড় ইনিংস ১০০ স্ট্রাইক রেটের নিচে খেলেননি।
এই দানবীয় রূপটা টি-টোয়েন্টিতে ঠিক ধরা পড়ছিল না। যদিও ষষ্ঠ আইপিএলের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হওয়া, পরে আইপিএল চমকানো, এরপর ফ্রেন্ডস লাইফ বা বিগ ব্যাশে তাণ্ডব করা চলছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ব্যাপারটা দেখা যাচ্ছিল না। দল ভালো করতে না পারলেও সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৩ বলে ৭৪ রান করে সেটাও ফিরে পেয়েছেন।
আর বিশ্বকাপটা যেখানে শেষ করেছিলেন তার চেয়ে এক কাঠি উপরে উঠে যেন শুরু করলেন সপ্তম আইপিএল।
এখন তাহলে মানতেই হচ্ছে যে সময়টা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের। ও না; ভুল বললাম, সময়টা ম্যাড ম্যাক্সের!
