রানা প্লাজা ধসের সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন বেশ কয়েকজন গর্ভবতী শ্রমিক। এদের মধ্যে অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে আহত হলেও কয়েকজন প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। এরপর স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। উদরে থেকে মায়ের সাথে এই শিশুগুলোও সাক্ষী হয়ে আছে ভয়াল
সেই দুর্ঘটনার।
আশা বেগম। রানা প্লাজা ধসের সময় ছিলেন গর্ভবতী। সেদিন তার স্বামী নিহত হলেও সুস্থভাবে ফিরেছেন আশা বেগম । পরে গত ২ ডিসেম্বর একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
আহত অপর শ্রমিক রুলি। তিনিও সেদিন প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। গত ৫ ডিসেম্বর রুলির গর্ভে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। একই দিন আরেক আহত শ্রমিক নাজমা বেগমের গর্ভেও জন্ম নেয় কন্যা সন্তান।
জানা গেছে, গর্ভবতী হলেও তারা কারখানায় কাজে অংশগ্রহণ করতেন। কয়েক মাস পর ছুটি নেয়ার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু এর আগেই ঘটে যায় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক কারখানা দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। সন্তান সম্ভবা অনেক নারী শ্রমিক হারিয়ে গেছেন সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে। তবে যারা ফিরেছেন তারা সাক্ষী হয়ে আছেন ভয়ানক সেই ঘটনার। আর সেদিন কর্মরত গর্ভবতী নারীদের শিশুরাও যেন সেই ঘটনার সাক্ষী।
আহত শ্রমিক সোমা বেগম গত ৮ ডিসেম্বর, রোজিনা আক্তার ৯ ডিসেম্বর এবং রানী বেগম ২৮ ডিসেম্বর জন্ম দেন পুত্র সন্তান। এভাবে আরও কয়েকজন নারী শ্রমিক পরবর্তীতে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু অনেকেই সে সুযোগ পাননি। মা হওয়ার আগেই রানা প্লাজার সাথে তারাও স্বপ্নসমেত মৃত্যুবরণ করেছেন।
এসব নারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা সন্তান জন্ম দিতে পেরে অনেক খুশি। মা হওয়ার স্বাদ তারা নিতে পেরেছেন। তবে এখনও সেদিনের কথা মনে হলেই আঁেক ওঠেন ।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, যেসব গর্ভবতী শ্রমিক সেদিন কর্মস্থলে ছিলেন তাদেরকে পরবর্তীতে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। চিকিত্সা সেবাসহ যাবতীয় সেবায় এগিয়ে এসেছে এসব প্রতিষ্ঠান। তবে সবাই সমানভাবে সুযোগ-সুবিধা পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
