বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র ৪৮ দিন বাকি। এর মধ্যেই রিও ডি জেনেরিওর পর্যটন এলাকা কোপাকাবানা সৈকতে ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় তা বিশ্বকাপের আয়োজনের উপর কালো ছায়া ফেলে। যুবকটিকে পুলিশ ভুলবশত মাদক ব্যবসায়ী চিহ্নিত করে হত্যা করেছে বলে দাবি তার বন্ধু। এছাড়াও অনেক আগ থেকেই ব্রাজিল বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে স্থবিরতা চলছে।
সর্বশেষ সহিংসতাটি ফুটবল বিশ্বে উদ্বেগ তৈরি করবে। কেননা ইংল্যান্ড জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে শহরটিতে অবস্থান করবে। তাছাড়া ইংলিশ সমর্থকরাও এখানে উঠবে। কাজেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আছে। এদিকে ফিফা শীর্ষ কর্মকর্তারা ১২ জুন আয়োজক দেশ (ব্রাজিল) ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার উদ্বোধনী খেলাটির জন্য নির্ধারিত সাও পাওলোর ইতাকোয়েরাও স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন।
ফিফার সাধারণ সম্পাদক জেরোম ভালচকে এ ব্যাপারে বলেন,’আমাদের হাতে নষ্ট করার মতো এক মিনিট সময়ও নেই। কারণ এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। আমরা সময়ের বিপরীতে চলছি। তবে এই স্টেডিয়ামেই উদ্বোধনী খেলা হবে। আমি বলব যে, উদ্বোধনী খেলার জন্য এটি প্রস্তুত করতে আগামী সপ্তাহগুলোতে কঠিন সূচির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরীক্ষা করে দেখার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।’
ভালচকের সাথে স্টেডিয়াম পরিদর্শনের গিয়েছিলেন ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তী রোনালদো। ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষম ইতাকোয়েরাও ভেন্যুটি প্রস্তুতির পর ফিফা একটি স্থানীয় লিগ ম্যাচ দিয়ে তা পরখ করবে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচটি হওয়ার কথা।
এদিকে সর্বশেষ সংঘর্ষের পর গত বুধবার থেকে জোরদার করা হয়েছে রিওডি জেনিরোর নিরাপত্তা। স্পেশাল ফোর্স ব্যাটলিয়ানের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কয়েক ডজন মিলিটারী পুলিশ ইপানেমা জেরার খুবই কাছে পাভাও-পাভাওজিনহো এলাকায় টহল দিচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।
সহিংস ওই ঘটনায় রিওর শহরটির ভাবমূর্তি আরো বেশী করে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। সর্বশেষ সহিংসতায় বুধবার এলাকাটিতে নীরবতা নেমে আসে। রিওতে দিনটি ছিল ছুটির দিন। দমকল বাহিনী এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সেখানে সহিংসতায় ভেঙ্গে পড়া কাঁচের টুকরো এবং টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেডের ফলে সৃষ্ট আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে যোগ দেয়। এর একটু দূরেই দেখা গেছে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সতর্ক প্রহরায় সার্ফাররা তাদের বোট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সাগরের প্রমত্তা ঢেউয়ে সাঁতার কাটতে।
আসন্ন বিশ্বকাপে ফাইনালসহ সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে রিওতে। কিন্তু সমপ্রতি বেশ কিছু শহরে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। সুপরিকল্পিত এসব সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে হিমসিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। বাসস/এএফপি
