রাজনীতির গতিপথ বদলাতে হবে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৩
বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতি পুনরুজ্জীবনের পর গত দু’দশকের বেশি সময় কেটে গেলেও গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে পারেনি। বিগত সময়সহ বর্তমানেও বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র একের পর এক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। আর এ জন্য মূলত দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে দায়ী করা যায়। এমনকি সংসদীয় গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ ব্যর্থতার মূলে ছিল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্ষমভাবে টিকিয়ে রাখার অপারগতা এবং ক্ষমতাসীনদের অনাগ্রহ। আমরা লক্ষ্য করেছি, প্রায়ই সংসদীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ তার সাংবিধানিক নির্দিষ্ট ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়াও বিরোধী দলের সংসদ বর্জন, সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের টালবাহানা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সুনির্দিষ্টভাবে সংসদীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বাধাগ্রস্ত করেছে যা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে চরম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত হয়। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন থেকেই কার্যকর গণতন্ত্রের প্রত্যাশী। সংসদীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতা জনগণের কাছে থাকবে এবং তা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি কার্যকর সংসদের মধ্য দিয়ে তার প্রয়োগ ঘটাবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও তার চর্চা রাজনীতি থেকে ক্রমেই মুছে যাচ্ছে। এক দল আরেক দলকে দোষারোপের রাজনীতি থেকে কোনোভাবেই বের হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের গণতান্ত্রিক চর্চা চরম অনীহা পোষণ করছে। দলের প্রধানের নির্দেশনায় দলীয় সকল স্তরে নেতা নির্বাচিত কিংবা মনোনীত হচ্ছে। এসব অবস্থার প্রেক্ষিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জীবন এবং পাঁচটি সাধারণ নির্বাচন (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৪) হওয়া সত্ত্বেও কার্যকর গণতন্ত্রের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট ফাঁক থেকে যাচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে মোটা দাগে রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়াকেই দায়ী করা যায়। এখন দেশের রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমেই নিজেদেরকে ক্ষমতার বাইরে ভাবতে চায় না। ক্ষমতাকে আঁঁকড়ে ধরার একটি প্রবণতা আমাদের রাজনৈতিক কৃষ্টিতে খুবই দৃশ্যমান। ইতিমধ্যেই বর্তমান সরকারের ১০০ দিন অতিবাহিত। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিগত সরকারের ধারাবাহিকতাতেই বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়। স্বাভাবিক বিবেচনাতে পূর্বের সরকারের চলমান প্রক্রিয়া হিসেবেই এই সরকারকে ধরা যায়। কারণ সরকার প্রধানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ দু’একটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন ছাড়া সবকিছুই পূর্ববর্তী সরকারের প্রতিস্থাপন মাত্র। ফলে সরকারের চলমান ইতিবাচক রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডগুলো ক্রমেই গতিশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়। অবশ্য এক্ষেত্রে দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা কোনো কোনো বিষয়ে সরকারের ধীরগতিও দেখতে পেয়েছি। বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক কৃষ্টিকে আমরা একটু আলাদাভাবেই দেখতে চাই। কারণ বাংলাদেশে বিগত প্রায় দুই যুগের রাজনৈতিক পরিক্রমায় একই সরকার পরপর দু’বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার নজির এটিই প্রথম। উন্নত বিশ্বে বেশিরভাগ সময়েই সরকারের পুনরাবৃত্তি ঘটে। বলা যায়, এমন ঘটনা অহরহই ঘটে থাকে। এবারের দশম সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ না করে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পথকে সুগম করে দেয়। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে এই পথটি খুব বেশি মসৃণ হতো কিনা সেটি অবশ্যই সন্দেহসাপেক্ষ। তবে আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী দল হিসেবে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়াই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছিল। কারণ বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না, এমন ঘোষণাকেই চূড়ান্ত হিসেবে ধরে নিয়েছিল। এম ধারাবাহিকতাতেই আওয়ামী লীগকে অনেকটা বিরোধী শক্তির মোকাবিলা ছাড়াই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কৃষ্টিতে নির্বাচন ছাড়া যেমন বিকল্প নেই। ঠিক তেমনি বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা যায় না। কারণ, বিরোধী দল গণতন্ত্রের অন্যতম অতন্দ্র প্রহরী। আর বিরোধী দলের গঠনমূলক শক্তিশালী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। অবশ্য বর্তমান সংসদে বিরোধী দল সংসদকে কার্যকর রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে মজার বিষয় হলো, এবারের বিরোধী দলেও মন্ত্রিসভার সদস্য রয়েছে। অবশ্য এ পর্যন্ত রাজনৈতিক মাঠে কিংবা সংসদের ভেতরে বিরোধী দলকে সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে সংসদের বাইরে বিএনপিকে বিরোধী দলের ভূমিকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে, দীর্ঘদিন থেকেই বাংলাদেশে পরস্পর বিরোধী দুটি রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব হয়েছে। একপক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার পদ্ধতি খুঁজতে সর্বদা ব্যস্ত। কোনেভাবেই এসব দলের রাজনীতিবিদরা সহনশীল কিংবা ভাতৃত্ববোধের রাজনীতিকে শ্রদ্ধা করে না। এটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য নেতিবাচক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সাম্প্রতিক সময়ে যা প্রতীয়মান হচ্ছে তা আপাতদৃষ্টিতে সমাধানযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বর্তমানে সুস্পষ্ট কিছু জটিলতা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে ঘায়েল করে নিয়েছে। দেশের মানুষ রাজনৈতিক সমঝোতা আশা করে। নির্বাচন নিয়ে ক্রমেই দেশের মানুষের মধ্যে যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে, তা আর বাড়তে দেয়া ঠিক হবে না। এমতাবস্থায় ত্যাগ এবং সহনশীলতা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নেই, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনের অনিয়ম আরো দূরে ঠেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষ দলকে। জাতীয় পার্টির বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই মনে করে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বৈধতা পেলেও দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনেকটা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। বিএনপি দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্দলীয় সরকারের যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে, তা এখনও বহাল রয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরস্পর বিরোধী শক্তি কেউ ছাড় না দেয়া পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক বোঝাপড়ার চূড়ান্ত রূপ পাওয়া সম্ভব নয়, এটি অনেকটা নিশ্চত করেই বলে দেয়া যায়। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে উভয় রাজনৈতিক দলের অনড় অবস্থা বিদ্যমান থাকলে আবারও ৫ জানুয়ারির অনুরূপ পরিবেশ তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যেও রয়েছে যথেষ্ট টানাপড়েনের মাত্রা। এক্ষেত্রে একটি বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোর সতর্ক থাকতে হবে, কোনো আন্তর্জাতিক ইন্ধনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কৃষ্টি চূড়ান্তভাবে বাধাপ্রাপ্ত না হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রে সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রয়োগ, রাজনৈতিক সংগঠন, সমাবেশ, প্রচারণা ইত্যাদি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রধান হাতিয়ার। বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে এসব অধিকার স্বীকৃত। কিন্তু কার্যত সে অধিকারের নিশ্চয়তা রাজনৈতিক দলগুলোর টানাপড়েনে প্রায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক সরকারের সময়েই বাধাগ্রস্ত। স্বাধীনতা-পরবর্তী এ যাবত্ অনুষ্ঠিত বেশিরভাগ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনই বিভিন্ন দোষে দুষ্ট। নির্বাচন-পদ্ধতি, নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে বড় দলগুলোর টানাপড়েন, অপপ্রচার, কালো টাকা ও পেশী শক্তির ব্যবহার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এতটাই কলুষিত করেছে যে, সেগুলোতে জনমতের প্রতিফলন কতটুকু ঘটেছে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। নির্বাচন-পরবর্তীতে পরাজিত শক্তির নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের সংস্কৃতিও বাংলাদেশে নতুন নয়। এমন পরিস্থিতিতে পাঁচ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত নির্বাচন ভোটারদের নিকট শাসকদের জবাবদিহিতা কার্যকর প্রতিষ্ঠানরূপে গড়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান মতে নির্বাহী বিভাগ সংসদের নিকট দায়বদ্ধ। কিন্তু এই দায়বদ্ধতাও প্রহসনে পরিণত হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সরকার দলীয় সংসদ-সদস্যদেরকে প্রধানমন্ত্রীর বশংবদে পরিণত করেছে। স্পিকার সরকারের অঙ্গুলি হেলনে বিরোধী দলীয় সদস্যদের কথা বলার পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হয় না। এমনকি তিনি ‘ব্যর্থ সরকার’, ‘সরকারের পদত্যাগ দাবি’ ইত্যাদি রাজনৈতিক কথাকে অসংসদীয় বলে ‘এক্সপাঞ্জ’ করে দিতে দেখা গেছে। আবার বিরোধী দল নানা অভিযোগ তুলে বছরের পর বছর সংসদ বর্জন করে সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ করে দেয়। নির্বাচিত সরকার হয়ে ওঠে স্বৈরাচারী। সংবাদ মাধ্যমে সংসদ হয়ে পড়ে গুরুত্বহীন। দশম সংসদের পুরো মেয়াদে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে কিনা তা অবশ্য দেখার বিষয়। এক সময়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো সংসদের নিয়মিত কার্যবাহের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করতো। বিগত কয়েকটি সংসদ যেমন নিয়ম রক্ষার জন্য অধিবেশনে বসেছে তেমনি সংবাদপত্রগুলো মাঝে মধ্যে চমক সৃষ্টিকারী কিছু ঘটনা প্রকাশ করে সংসদের অস্তিত্ব জানান দেয়। যদিও বর্তমানে সরাসরি টেলিভিশনে সংসদ অধিবেশন প্রচার করা হয়। সংসদের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন সাধারণত হরতাল, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, মিছিল, ঘেরাও, অবরোধ ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া ও অভিযোগ তুলে ধরে। এমনকি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষকরাও বিভিন্ন ধরনের দাবি-দাওয়া নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু এমন কর্মসূচিগুলো বর্তমানে অতিমাত্রায় সহিংস হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য অনেকক্ষেত্রে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও সরকার তা সহজে মেনে নিতে চায় না। সরকার অনেক ক্ষেত্রেই দমন-পীড়ন চালায়। যত দিন যাচ্ছে তত প্রতিহিংসামূলক কিংবা প্রতিশোধমূলক দমন-পীড়নের মাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির মাত্রাও অধিক হারে বেড়ে যাচ্ছে দিনে দিনে। এই প্রতিহিংসার রাজনীতির শেষ কোথায়? অতএব বর্তমানের যে প্রতিহিংসামূলক ও প্রতিশোধমূলক রাজনীতির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তা নিরসনের দায়িত্বটি রাজনীতিবিদদের ওপরই বর্তায়। এ জন্য রাজনীতিবিদদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রাজনীতির প্রতি ক্রমইে শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠা বাঞ্ছনীয়। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির যে আদর্শ ক্রমেই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে, সেখান থেকে ফিরে আসতে না পারলে আগামীদিনের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে গভীর শঙ্কা এবং উত্কণ্ঠা ছাড়া আর কিছু থাকবে না। কাজেই সমস্যা সমাধানের চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে রাজনীতিবিদদের নেতিবাচক রাজনৈতিক কৃষ্টি পরিহার করে সহনশীল ও সহযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টিতে এগিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল: [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন