তরুণ সমাজ হতাশায় থাকলে দেশে উন্নতি হবে না কখনো
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই তরুণ সমাজ কি পরিমাণ হতাশার অতল গহ্বরে হাবুডুবু খাচ্ছে। আমার দেশের সম্মান শ্রেণীর একটা বিরাট অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে কিন্তু তাদের সেশন জট অর্থাত্ “আঠার মাসে বছরের” কারণে তারা ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয় জীবনের খেই হারিয়ে ফেলে। আবার তরুণরা যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে যায় সেখানেও তারা ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয় কারণ বর্তমানে চাকরির ক্ষেত্রে যে পরিমাণ ঘুষ ও স্বজনপ্রীতি চলছে সেখানে ঘুষ ও মামা, খালু ছাড়া চাকরি পাওয়া অলৌকিক ঘটনা। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উচিত উপরোক্ত বিষয়ের প্রতি একটু সুনজর দেয়া। কারণ আমার দেশের তরুন সমাজের উন্নতি না হলে আমাদের দেশটারও উন্নতি সম্ভব নয়।
আব্দুল্লাহ আর মামুন
সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্টটিটিউট
স্নতক ১ম বর্ষ ৯ম সেমিষ্টার, ক্লস রোল- ৪৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আশাবাদী যুবসমাজকে করেছে হতাশ
দেশকে এগিয়ে নেয়ার মূল কারিগর যুবসমাজ। তারা দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা করে। কিন্তু চারপাশের পরিবেশ তাদের পথচলাকে থমকে দেয়। দেশের চলমান পরিস্থিতি মোটেই সন্তোষজনক নয়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ চলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে, পানির অভাবে নদীগুলো শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে সরকারের ন্যূনতম মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছে না। এসব কারণে দেশের যুবসমাজ বর্তমান শাসন ব্যবস্থার প্রতি হতাশ। তবে আশার কথা হচ্ছে, যুবসমাজ দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের লক্ষ্যে এসব সমস্যাকে চিন্তার খোরাক হিসেবে নিচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাভার, ঢাকা-১৩৪২।
হতাশার দোলাচলে
তরুণ সমাজ
তরুণ সমাজ আজ মূলত দু’টি কারণে হতাশ, তা হল- রাজনীতির কালো হাত ও বেকারত্ব। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাজনীতি না করলে ঠিকমত পড়ালেখাও করা দায় এ দেশে। তবুও পড়ালেখা শেষে যখন চাকরির বাজারে প্রবেশ করে মূলত তখনই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তরুণ সমাজ। একটি চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে যখন একটি চাকরি জোগাড় করতে পারে না ঠিক তখনই হতাশাগ্রস্ত হয় তরুণ সমাজ, পা বাড়ায় নেশার পথে। নেশাগ্রস্ত তরুণ সমাজ আলোর দিশারীর পরিবর্তে হয়ে ওঠে অন্ধকার পথের কাণ্ডারি। তাই দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বলা যায়- “হতাশার দোলাচলে বর্তমান তরুণ সমাজ”।
আফরোজা পারভীন
ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ, ১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
তরুণরাই জানে সংকটের
বেড়াজাল ছিন্ন করে
আলোর সন্ধান করতে
জাতির কাণ্ডারি তরুণরাই। একটি দেশ বা জাতির ভবিষ্যত্ রচিত হয় তরুণদের দ্বারাই। আমাদের দেশের সকল বৃহত্ স্বার্থে, বৃহত্ কর্মে সর্বক্ষণ এগিয়ে এসেছে তরুণরাই। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত তরুণদের অবদান ছিল অসামান্য এবং প্রশংসনীয়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের মেধার মূল্যায়ন না হওয়ায় তারা আজ বেকারত্বকে হজম করে ঝুঁকে পড়ছে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতি। তবে এই পরাজয়ের খাঁচা বেশিদিন টিকে থাকবে না। কারণ তরুণরাই পারে সকল দুর্নীতি, অপসংস্কৃতির মোকাবিলা করতে। তরুণরাই জানে সংকটের বেড়াজাল ছিন্ন করে আলোর সন্ধান করতে। এবং ভবিষ্যতেও তারুণ্যের এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে। তাই হতাশার প্রাচীর পিছনে ফেলে প্রেরণাকে ধারণ করে তরুণরা এগিয়ে যাবে জয়ের সান্নিধ্যে। সেইসাথে সরকার এবং দেশের সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তরুণদের নিয়ে ভাবা উচিত।
নিখিলেশ দেবনাথ
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ, প্রথম সেমিস্টার,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
এত কিছুর পরও
তরুণ সমাজ
পথভ্রষ্ট হয়নি
আমার কাছে আমাদের এই বর্তমান প্রজন্মকে মোটেই হতাশ মনে হয় না। অথচ আমাদের কিন্তু হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সন্ত্রাস, সর্বোপরি শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা চলছে। কিন্তু অবাক লাগে যে এতকিছুর পরও তরুণ সমাজ পথভ্রষ্ট হয়নি। তারা নিজেদের সম্পর্কে এবং নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। অন্যায়ের প্রতিবাদে তাদের কণ্ঠই সবার আগে সোচ্চার হয়। তারা বিদেশের মাটিতে গিয়ে দেশকে নতুনভাবে চিনিয়ে আনে। এখন আর কেউ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে শুধুমাত্র দুর্নীতির জন্য কিংবা দুর্যোগকবলিত দেশ হিসেবে চেনে না। বাংলাদেশের তরুণরাই পৃথিবীর স্মার্ট কিশোরের তালিকায় নাম লেখায়, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনে, তারাই ক্রিকেটের পরাশক্তিকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে আনে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এক হয়। দেশকে ভালোবেসে শপথ নেয় ন্যায়ের পাশে থাকার।
পৃষুতি চাকমা
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
