শিক্ষা পরামর্শ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:১৮
মো. ফয়জুল হক অধ্যক্ষ, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় যে আমুল পরিবর্তন এসেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও সর্বমহলের নজরদারীতে চলে আসছে। পূর্বে প্রাথমিক পর্যায় যেভাবে অবহেলিত হতো বর্তমানে তা আর হচ্ছে না। শিক্ষা জীবনের শুরুতেই পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা দেয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পরীক্ষা ভীতি কেটে যাচ্ছে। এছাড়া পূর্বে খুব সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য প্রস্তুত করা হতো কিন্তু বর্তমান অবস্থায় সকল শিক্ষার্থীই পিইসি ও জেএসসির মাধ্যমে মেধা অনুসারে বৃত্তির সুযোগ পাচ্ছে। তবে জেএসসি পরীক্ষার সীমিত সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য হতো। সময়ের দাবীতে বর্তমানে বছরের প্রথম দিনই বই বিতরণ হওয়ায় বছরের প্রথম দিক থেকেই শিক্ষার্থীরা পাঠে মনোযোগী হতে পারছে এটা সত্যিই চমকপ্রদ। তবে প্রশাসনের আরও সচেতন ও যত্নবান হওয়া উচিত। কারণ পাঠ্য বইসমূহের ভুলগুলো যতটা সম্ভব সংশোধিত হলে ভালো হয়। এছাড়া কোনো শ্রেণিতে নতুন কোন বিষয় নির্বাচনের পূর্বে উক্ত বিষয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়ে বিবেচনা করলে শিক্ষার্থীরা বেশ উপকৃত হবে। আমি আস্থার সাথে বলতে পারি বর্তমান সৃজনশীলতার যুগে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল হয়ে বেড়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ লাভ করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাজারের প্রচলিত নোট বই পরিহার করে পাঠ্যবই নিয়মিত অনুশীলন বাঞ্ছনীয়। আর শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করে তোলা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে অবশ্য ডিজিটাল ক্লাসরুমগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমার ধারণা। সর্বোপরি শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। প্রত্যেক শিক্ষকের উচিত এ পেশাকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে পেশা হিসেবে মূল্যায়ন করে জ্ঞানদানের পাথেয় হিসেবে বেছে নেয়া। শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিক্ষকগণের ভূমিকা অগ্রগণ্য। একজন শিক্ষকই পারেন শিক্ষার্থীদের সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে। আর একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগতমান বাড়াতে হবে তা না হলে জাতি অচিরেই মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। বর্তমান ছাত্রসমাজকে সঠিক পথে চালনা করতে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয়া উচিত নৈতিক শিক্ষার প্রতি। আর এ শিক্ষা তারা পেতে পারে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। এজন্য পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় ও পারস্পরিক সহানুভূতি একান্ত আবশ্যক। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সকল নেতিবাচক শিক্ষা থেকে দূরে রাখতে বর্তমানে জালের মতো ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক প্রযুক্তিকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা উচিত।