তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২৩
তরুণ প্রজন্ম আজ চরম হতাশায় ভুগছে তরুণ প্রজন্ম আজ চরম হতাশায় ভুগছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স পাস করেও মামা-চাচা না থাকলে চাকরি হয় না। রাজনৈতিক নেতাদের পেছনে না ঘুরলে ভাল চাকরি পাওয়া যায় না। আবার অনেকে কোন রকম সিজিপিএ সি গ্রেড পেয়েও ভালো চাকরি পেয়ে যাচ্ছে। কারণ একটাই তাদের আছে রাজনৈতিক পরিচয়। আমরা তরুণরা চাই, মেধার মূল্যায়ন করা হোক। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে মেধার মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে আমি মনে করি। রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেয়া হোক। এটাই তরুণদের প্রত্যাশা। এদিকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তরুণ প্রজন্ম খুবই উদ্বিগ্ন। তরুণদের সত্যের চর্চা ও নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বলেই প্রচার করছি। যার ফলে আমরা তরুণরাও বিপথগামী হচ্ছি। আমিনুল ইসলাম খান মাস্টার্স শেষ সেমিস্টার, সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। তরুণদের প্রতি দেশ ও জাতির প্রত্যাশা রয়েছে, তাই তাদেরকে হতাশ হলে চলবে না তরুণদের দিকে জাতি তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে আছে সমাজ ও পরিবার। কিন্তু আমরা দেশ বা জাতির জন্য কি করছি, তা আমাদেরকে ভাবতে হবে। সমৃদ্ধ ও সোনার বাংলাদেশ গঠনে তরুণদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য দরকার তরুণদের সঠিক পথ ও নির্দেশনা। আর বর্তমান তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি হতাশায় নিমজ্জিত চাকরির ব্যাপারে। ভালো রেজাল্ট করেও ভালো একটা চাকরি পাওয়া যায় না। সে ব্যাপারে সরকারকে ভাবতে হবে। কিভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যায়। তরুণদের প্রতি দেশ ও জাতির যে প্রত্যাশা রয়েছে, সেভাবেই তরুণ সমাজকে চলতে হবে। মঞ্জুরুল ইসলাম মাস্টার্স, ইংরেজী বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। হতাশার চাদরে মোড়ানো শীত, দূর হবে কি তরুণদের গা থেকে ? বর্তমানে দেশে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েটধারী অসংখ্য তরুণ। যাদের অফুরন্ত জ্ঞান ভাণ্ডারকে বিকশিত করতে পারছে না পর্যাপ্ত চাকরির অভাবে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের মেয়াদ আরো দুই বছর বৃদ্ধি, বিভিন্ন কোটা পদ্ধতি থাকার কারণে অনেক শিক্ষিত তরুণরা বঞ্চিত হয় সরকারি চাকরি নামের স্বর্ণের হরিণ থেকে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সব সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে তরুণ সমাজ হতাশার কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কাজেই নতুন করে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩২ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।তা না হলে হতাশার চাদরে মোড়ানো শীত কখনো দূর হবে না তরুণদের গা থেকে। মোজাম্মেল হক বি,বি,এস (অনার্স), এম,বি,বি, এস (ব্যবস্থাপনা) আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ। তরুণ সমাজ হতাশ নয়, আশান্বিতও নয় হতাশ না হলেও তরুণরা কিন্তু আশান্বিতও নয়। কিন্তু তারা চিন্তা করে। প্রায় প্রত্যেকটা তরুণেরই দেশকে নিয়ে স্বপ্ন থাকে। দেশকে আগাতে চায়। কাজ করতে চায়। উন্নত বাংলাদেশ দেখে মরতে চায়। তার জন্য তরুণরা চায় উত্সাহ, চায় প্রেরণা । কিন্তু আজ প্রতিষ্ঠিত প্রাচীনপন্থী তথা প্রবীণ আর সিস্টেমের যাঁতাকলে তরুণদের সেই স্বপ্ন একটি নির্দিষ্ট সীমায় বদ্ধ । সুতরাং আমাদের এই সকল অকল্যাণকর ও ভ্রান্ত সিস্টেমের বিরুদ্ধে গাত্রোন্থান ঘটাতে হবে অতি শিগগিরই। তাহলেই তরুণ সমাজকে জাতি হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় দেখতে পাবে। হাস্যোজ্জ্বল হবে দেশের চেহারাও। আর আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রক তথা শোষক শ্রেণিরও জানা উচিত তারুণ্যকে কখনো আবদ্ধ করে রাখা যায় না। এটি পক্ষে ব্যবহূত না হলে বিপক্ষে ব্যবহূত হতে বাধ্য। আব্দুল্লাহ আল মামুন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ (তৃতীয় বর্ষ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। অপরাজনীতির কারণে তরুণ সমাজ আজ হতাশ আমি একজন ছাত্র হিসেবে দারুণভাবে হতাশাগ্রস্ত কারণ , যে দেশে ৪৭% স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার, ২০১৫ সালের মধ্যে বেকারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৬ কোটি বিশ্ববিখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনোমিস্টের (ইআইইউ)-এর বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী যে সরকারই আসুক তারা প্রতিযোগিতায় নামে পাসের হার বাড়ানোর জন্য। যখন পাসের হার ১০০% অতিক্রম করবে তখন তারা কিভাবে শিক্ষার হার বাড়াবে ? কিন্তু কোনো সরকার একবারের জন্যও কি চিন্তা করে দেখেছে যে, আমার দেশে প্রতি বছর কতজন লোক স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করল, আর কতজন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলাম। আমাদের দেশের জনগণই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বড় বড় শিল্প-কলকারখানা চালাচ্ছে । তাহলে এদেশে কেন নয় এই চিন্তাটা কারও মাথায় আসে ? আমি বলছি না যে সরকারই সবাইকে কাজের ব্যবস্থা করে দিবে, কিন্তু কাজের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার দায়িত্বটা তাদের । এসব কারণে যুব সমাজ যদি পুরোপুরি হতাশ নাও হয় তবে খুব খুশিও নয় । মো. জহিরুল ইসলাম শিকদার বি.বি.এস শেষবর্ষ ঢাকা কলেজ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন