“আল্লাহ্ মেঘ দে পানি দে ছায়া দেরে তুই
আসমান হইল টুটা টুটা জমিন হইল ফাডা
মেঘরাজা ঘুমাইয়া রইছে মেঘ দিবো তোর কেডা”
আব্বাসউদ্দিনের শতবর্ষ আগে গীত গানটি কণ্ঠে নিয়ে এখনো কাঁদছে তোরষা নদীর তীরের বগাবগি। এই ক্রন্দন ধ্বনিত হচ্ছে চাতকের কণ্ঠে, ডাহুকের কণ্ঠে, রোদে বিবর্ণ হওয়া বৃক্ষরাজির হাজার পাতার কণ্ঠে। এবং এদেশের কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠে।
চৈত্র শেষের ঝড় এবার এলো না, এলো না দমকা হাওয়া, এলো না অঝোরে ঝরে পড়া শিলারাশি। প্রকৃতির রূপ কেমন করে যেন পাল্টে যাচ্ছে।
‘দারুণ অগ্নিবাণে রে, হূদয় তৃষ্ণায় হানে রে’, আমাদের অবস্থা ডাহুক চাতক বা বৃষ্টিকাতর পাখির মতোই। যতই ঘটা করে বর্ষ বন্দনা হলো, যতই রূপালি ইলিশের উত্সব হলো, কাঁচা আম, পান্তাভাত, ভর্তা, ভাজি, মন্ডা, মিঠাই, জিলাপী, ক্ষীর, পায়েস, হাতে মেন্দী, কপালে লাল-সবুজের পতাকা, মাঠে নাগরদোলা, ঢোলের শব্দ, ডুগডুগি, বাঁদর নাচ, সবকিছুই কেন যেন ফিকে হয়ে গেলো পরেরদিন থেকেই।
আসলে আমাদের শস্য বপন জীবন-যাপন সবই প্রকৃতিনির্ভর। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরত্-হেমন্ত-বসন্তের ঋতুচক্রে আমরা জীবনকে সাজাই। সেই মতই চলে পাঠশালা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় অফিস আদালত। এ বছর প্রচণ্ড গরমে যখন তাপমাত্রা চল্লিশ বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে চল্লিশ ডিগ্রীতে পৌঁছেছে, তখনো স্কুলগুলো গ্রীষ্মের ছুটি, যাকে বলে ‘সামার ভেকেশন’ দিল না। পাঁচ বছরের শিশু গলদঘর্ম হয়ে স্কুল করছে, তার ধমনীতে তখন অস্থিরতা, মস্তিষ্ক বা ব্রেইন কঠিন অংক, গ্রামার কিছুই নিতে সক্ষম নয়।
গতকাল বিকেলে একটি মিলাদ উত্সবে খুব সুন্দর করে ওয়াজ করছিলেন মাওলানা মুরাদউল্লাহ। তিনি নবীর উদ্ধৃতি দিয়ে বললেন, আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করলে তা কখনো বিফল হয় না। যত বড় পাপই হোক না কেন, খালিস দিলে চোখের পানিতে ক্ষমা চাইলে তিনি নামঞ্জুর করেন না। এ তো দুনিয়ার আদালত নয়। এখানে উকিলের যুক্তিতর্ক খাটে না, রাহমানুর রাহিম তাঁর সেরা সৃষ্টি মানুষের প্রতি সবসময়ই অত্যন্ত কোমল, সেজন্য আমাদের প্রতিটি সিজ্দা হতে হবে আন্তরিক, মুনাজাতের হাত হতে হবে বিশুদ্ধ। যখন কেউ কঠিন রোগে আক্রান্ত হন, চিকিত্সার বাইরে চলে যান, তখনো নিরাশ হলে চলবে না। মনে রাখা দরকার জগতের সকল রোগ আরোগ্য করার ক্ষমতা আছে একজনেরই, তিনিই আমার সৃষ্টিকর্তা, আমার রব, আমার প্রভু, যাঁর অন্যতম সিফাত হলো দয়া।
পথ চলতে ভিক্ষুকের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। একজনকে কিছু দিতে না দিতেই দশজন এগিয়ে আসে, এক্ষেত্রে কি করণীয়। রাগ করব, বকুনি দিব, গালি দিব, না কি মৃদুস্বরে বলব আজকে মাফ করে দেন, আরেকদিন আপনি পাবেন অথবা অন্য কেউ আপনাকে দিবে। কুরআন শরিফে প্রভু বলেছেন- ভিক্ষুককে ভর্ত্সনা করো না, এতিমকে বঞ্চিত করো না।
ইস্টার সানডে উপলক্ষে দক্ষিণ ফ্রান্সের বেসিন শহরে সহস্রাধিক ডিম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি ওমলেট। ফ্রান্সের ব্রাদারহুড অব বেসিনে সদস্যা বিরাট কড়াইয়ে হাজার খানেক ডিম ঢেলে এই দৈত্যকার ওমলেটটি তৈরি করেন, এতে অংশ নেন তরুণ, মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধরা। খবরটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, দুঃখ এই যে—কতোজন খেলেন, আমরাই বা কেন ভাগ পেলাম না, জানা হলো না।
লেখক :শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক
[email protected]
