বের্টোল্ট ব্রেখট সেই ১৯৩১ সালে তাঁর ‘জোড়াতালির গান’-নাটকে যা দেখিয়েছিলেন; এই একুশ শতকেও তাঁর যে খুব হেরফের হয়েছে, বলা যাবে না। শীতে জর্জর ক্ষুধায় কাতর শ্রমজীবীদের ইউনিয়ন নেতারা প্রতিকারের জন্য মনিবদের কাছে ছুটে যায়। বিজয় গর্বে মাথা উঁচু করে ফিরে এসে দেখায়, শ্রমিকদের জন্য তারা ‘জয় করে’ এনেছে শতচ্ছিন্ন জামায় তাপ্পি দেয়ার উপকরণ আর খণ্ড টুকরো রুটি। অথচ শ্রমিকরা চায় একটি আস্ত জামা, একটি গোটা রুটি; চায় সমস্ত কল-কারখানা, কয়লা আর লোহার খনির মালিকানা। চায় রাষ্ট্রক্ষমতাও। কিন্তু তাদের নেতারা জোড়াতালি দেয়ার সরঞ্জাম নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে বলে।
দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিক শ্রেণি যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল, তার সুফল অবশ্যই বিশ্বের শ্রমিকদের কাছে পৌঁছেছে । শ্রমিকদের জীবন স্তরের উন্নতি—দেশ, জাতি ও সমাজের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সংগে সম্পর্কিত। তাই দেখা যায়, বিশ্বমন্দা পরিস্থিতির কারণে খোদ আমেরিকাতেই শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছে।অনেক কল-কারখানা তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করে এনেছে। শ্রমিকদের বেতনও হ্রাস পেয়েছে। ১৮৮৬ সালে মার্কিন শ্রমিকদের জীবনদানের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়েছিল। আর তা সম্ভব হয়েছিল বলেই শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন করাসহ বহু সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। উন্নত বিশ্বের শ্রমিকদের জীবনাযাত্রার মানও অনেক উন্নততর হয়েছে।
কাজের সময়সীমা আট ঘণ্টা করার দাবিতে বিশ্বের প্রথম শ্রমিক ধর্মঘট হয়েছিল বঙ্গদেশেই; ১৮৬২ সালের মে মাসে। অর্থাত্ শিকাগোর ঘটনার ২৪ বছর আগে রেলওয়ে শ্রমিকরা এই ধর্মঘটে অংশ নেয়। তাদের দাবি ছিল, একই প্রতিষ্ঠানের শ্রম ও কর্মঘণ্টা অভিন্ন করা। রেলওয়ের কোনো কোনো বিভাগের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা, আবার কোনো কোনো বিভাগ ১০ ঘণ্টা কাজ করতো। এই বৈষম্য দূর করার জন্য হাওড়া রেলস্টেশনের ১২০০ রেলশ্রমিক ধর্মঘট ডেকেছিল। তারা ১০ ঘণ্টার বদলে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে এই ধর্মঘট বেশ কয়েকদিন বহাল রেখেছিল। কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি মেনে নিয়েছিল। দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘সোম প্রকাশ’ পত্রিকার ২৩ বৈশাখ; ১২৬৯ বাংলা সন ও ৫ মে ১৮৫২ সালে প্রকাশিত সংখ্যার ৩০৫ পৃষ্ঠায় ‘বিবিধ সংবাদ’ শিরোনামে খবরটি ছাপা হয়েছিল। এতে লেখা হয় ‘সমপ্রতি হাবড়ার রেইলওয়ে স্টেশনে প্রায় ১২০০ মজুর কর্মত্যাগ করিয়াছে। তাহারা বলে লোকোমোটিব (গাড়ি) ডিপার্টমেন্টের মজুরেরা প্রত্যহ ৮ ঘণ্টা কাজ করে। কিন্তু তাহাদিগকে ১০ ঘণ্টা পরিশ্রম করিতে হয়। কয়েক দিবস অবধি কার্য স্থগিত রহিয়াছে। রেইলওয়ে কোম্পানি মজুরদিগের প্রার্থনা পরিপূর্ণ করুন। নচেত্ লোক পাইবেন না।’ অর্থাত্ শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে ছাঁটাই করা হলে নতুন দক্ষ লোক পাওয়া যে সহজ সাধ্য হবে না, তা শাসক বৃটিশ সরকার উপলব্ধি করেছিল। যে কারণে বঙ্গদেশে শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের অধিকার পায় রেলওয়েতে। সংগঠিত ক্ষেত্রে আধুনিক শিল্প শ্রমিকদের কাজের ঘণ্টা কমানোর দাবিতে আন্দোলনের এটাই প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা।
অবশ্য রেল ধর্মঘটের আগে বঙ্গদেশে আরো দুটি ধর্মঘট হয়েছিল। ১৮২৩ সালে বাংলাদেশের পালকি বেহারারা কর্মবিরতি পালন শুরু করে। সে সময় ইংরেজরাও পালকি ব্যবহার করতেন। তারাও কর্মঘণ্টা নির্ধারণের দাবি করে ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ এই ধর্মঘটের কোনো সংগঠিত রূপ ছিল না। ১৮৩৫ সালে এদেশে আরো একটি ধর্মঘট হয়। নদী পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত মালবাহকরা ধর্মঘট করেছিল। এটিরও ছিল না কোনো সংগঠিত রূপ। শুধু শ্রমিক ধর্মঘট নয়, বঙ্গদেশ থেকেই প্রথম শ্রমজীবী মানুষের জন্য বেরিয়েছিল পত্রিকা ‘ভারত শ্রমজীবী।’ ব্রাহ্ম সমাজ ছিল এর নেপথ্যে। শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মোচন, তাদের আত্মিক উন্নতি ঘটানো এবং তাদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৮৫৩ সালে শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায় মাসিকটির প্রকাশনা শুরু করেন। পত্রিকার পাশাপাশি চটকল শ্রমিকদের জন্য সেভিংস ব্যাংক চালু , শ্রমিক বস্তিতে নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করা ও চেতনা সঞ্চারের কাজটি মূলত বঙ্গদেশেই শুরু হয়েছিল বলা যায়।
১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিক সমাবেশে গুলি চালানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে পড়ে। এসময় সংবাদপত্রগুলো শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার চালায়। এমনকি তাদের গ্রেফতার ও শাস্তি দিতে নির্দেশও দেয়। শ্রমিক নির্যাতন, অসন্তোষ অব্যাহত থাকার মাঝে ৮ জন শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে এদের ৪ জনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। একশো তেইশ বছর আগের ঘটনা এটি।
৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন শুধু আমেরিকায় নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও হয়েছে। কেবল বাংলাদেশেই ছিল রক্তপাতহীন। আট ঘণ্টার আগে দশ ঘণ্টা কাজের দাবিতেও আন্দোলন হয়েছে। হয়েছে পারী কমিউন, চার্টিস্ট আন্দোলন, লুডাইট আন্দোলন। প্রকৃতপক্ষে ষোড়শ শতকে ইউরোপে ধনতন্ত্রের আবির্ভাব লগ্ন থেকেই শ্রমজীবী মানুষদের লড়াই করতে হয়েছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং নিজেদের অধিকারের ক্ষেত্র সমপ্রসারিত করতে। বাঁচা-মারার সেই লড়াইয়ের প্রক্রিয়ায় শ্রমিকরা সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে ধনতন্ত্রের বিজয়কেই সুনিশ্চিত করেছে। এবং বিশ্ব ইতিহাসে সূচনা করেছে সেই বুর্জোয়া গণতন্ত্রের’ যুগকে। যা প্রবর্তনে সবচে’ অনিচ্ছুক ছিল বুর্জোয়া সমপ্রদায় নিজেরাই। ষোড়শ শতকে জার্মানিতে আনাব্যাপাটস্টদের আন্দোলন, সপ্তদশ শতকে ব্রিটেনে লেভেলার ও ডিগারদের আন্দোলন এবং অষ্টাদশ শতকে ফ্রান্সে সাম্যের জন্য বেবুফপন্থিদের আন্দোলন সেই শ্রমজীবী মানুষদেরই প্রতিরোধ। যারা সংগঠিত শিল্পশ্রমিকদের পূর্বসূরী।
ফরাসি বিপ্লবের সময় অল্প কিছুদিনের জন্য শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ হওয়ার অধিকার রাষ্ট্রের অনুমোদন পেয়েছিল। প্রতিক্রিয়ার শক্তির সঙ্গে আপস করে নিতেই সে অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। উনিশ শতকের প্রথম পর্বে সমগ্র ইউরোপ ও আমেরিকায় ইচ্ছেমতো সংঘবদ্ধ হওয়ার স্বাধীনতার দাবিতেই শ্রমিক আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। ব্রিটেনের এই আন্দোলন এতো তীব্র আকার নেয় যে, ১৮২৪ সালে বৃটিশ পার্লামেন্ট এটা রুখতে আইন পাস করতে বাধ্য হয়। গড়ে উঠতে থাকে ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠন। মালিকদের শোষণ আর অত্যাচারের হাত থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করার কাজ শুরু হয়ে যায়।
বিশ্বের প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে ওঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ১৮২৮ সালে। মেকানিকরা এই সংগঠনের উদ্যোক্তা। ১৮৩০ সালের জুলাইয়ে ফ্রান্সে সামন্ততন্ত্রের সঙ্গে বুর্জোয়া শ্রেণির আর এক দফা ক্ষমতার লড়াই ঘটে। সার্বজনীন ভোটাধিকারের দাবিতে শ্রমিক শ্রেণি এ লড়াইতে ব্যাপক অংশ নেয়। কিন্তু শিল্প মালিকরা এবারও সামন্ততন্ত্রের সঙ্গে রফা করে নেয়। প্রতিবাদ প্রতিরোধ অভ্যুত্থান তবু গোটা দশক ধরেই চলতে থাকে। প্রায়শ তা ব্যারিকেড লড়াইয়ের রূপ নেয়। কিন্তু পিছু হঠতে হয় শ্রমিক শ্রেণিকে। ইংলিশ চ্যানেলের ওপারে আছড়ে পড়ে এই জুলাই বিপ্লবের ঢেউ। বৃটিশ শ্রমিকরা নিজেদের রাজনৈতিক দাবির সনদ বা চার্টার রচনা করে গণস্বাক্ষর চালাতে থাকে। দেশজুড়ে আয়োজিত হতে থাকে বিশাল বিশাল সমাবেশ। গাড়ি বোঝাই স্বাক্ষরিত দরখাস্ত নিয়ে আয়োজিত মিছিল রওনা হয় পার্লামেন্টের দিকে। নিরস্ত্র মিছিলের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। শ্রমিকরা খালি হাতে সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় এবং এবারও পিছু হটে। বৃটিশ শ্রমিকরা গঠন করে রাজনৈতিক সংগঠন পিপলস চার্টার অ্যাসোসিয়েশন। এদিকে ইউরোপের সব বড় বড় শহরে থেকে থেকেই রাজপথে মুখোমুখি হতে থাকে শ্রমিক শ্রেণি।
১৮৮৪ সালে আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার ঘোষণা দেয় ১৮৮৬ সালের ১ মে সারাদেশে সর্বত্র আটঘণ্টা কাজের দাবিতে অবিরাম ধর্মঘট শুরু হবে। অন্য শ্রমিক সংগঠন নাইটস অব লেবারও এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়। দিনটি যতো এগিয়ে আসতে থাকে, ততো মরিয়া হতে থাকে মালিক শ্রেণি। এপ্রিলের ৭ তারিখে মিসিসিপি নদী তীরে ৭ শ্রমিককে খুন করে ফেলে রাখা হয়। উদ্দেশ্য, আন্দোলনকারীদের মধ্যে ভীতি ও সংশয় তৈরি। তবু নিয়তির মতো অমোঘ সেই দিনটি এগিয়ে আসতে থাকে। মিছিলে শ্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে আমেরিকার আকাশ বাতাস। রাত্রির আকাশ চিরে অজস্র মশাল হাতে শ্রমিকরা গান গেয়ে চলে। আমেরিকার শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্র তখন শিকাগো।
১৮৮৬ সালের পয়লা মে, শনিবার। শ্রমিকরা কারখানায় না যেয়ে নেমে এলো রাজপথে। ‘আট ঘণ্টা জুতো’ পায়ে দিয়ে ‘আট ঘণ্টা চুরুট’ মুখে শ্রমিকরা চলেছে মিশিগান এভিনিউ’র মিছিলে যোগ দিতে। মিছিল গিয়ে শেষ হলো লেক ফ্রন্টে। শুরু হলো বক্তৃতা। কোথাও কোন হৈ চৈ গোলমাল নেই। পিনপতন নিস্তব্ধতার মধ্য দিয়ে বক্তৃতা শেষ হলো। পুলিশ বা ঠ্যাঙারে বাহিনী কেউ বাধা দেয়নি। ধর্মঘট অব্যাহত থাকে। তিন মে সোমবার ম্যাককর্মিক হার্ভেস্টার ওয়ার্কসের শ্রমিকরা ধর্মঘট ভাঙতে আসা ঠ্যাঙারে বাহিনীকে মোকাবেলা করতে গেলে পুলিশ গুলি চালিয়ে ৬ জন শ্রমিককে হত্যা করে। কাছাকাছি কাঠ চেরাই শ্রমিকদের সভায় বক্তৃতারত শ্রমিক নেতা অগাষ্ট প্রাইজ স্বচক্ষে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড দেখতে পান। সংগে সংগে পরদিন ৪ মে মঙ্গলবার প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেন হে-মার্কেট স্কোয়ারে। রাত দশটায় সভা চলাকালে পুলিশ সভা বন্ধের নির্দেশ দেয়। ভীড়ে আত্মগোপনকারী ঠ্যাঙারে বাহিনী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় সভাস্থালে। শুরু হয় পুলিশ শ্রমিক খণ্ড যুদ্ধ। নিহত হয় ৪ শ্রমিক ও ৭ পুলিশ। সংবাদপত্রগুলো শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার চালায় এবং দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসি দেবার পরামর্শ দেয়। গ্রেফতার করা হয় ৭ জন শ্রমিক নেতাকে। ১৮৮৬ সালের ২১ জুন শুরু হয় বিচার। রায় ঘোষণা হয় মৃত্যুদণ্ড। কার্যকরের তারিখ ১১ নভেম্বর ১৮৮৭ সাল। বিশ্বের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী, রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিক ফাঁসির আদেশ মওকুফের জন্য শিকাগোর গভর্ণরের কাছে অনুরোধ জানালেও কাজ হয়নি। কেবল ফাঁসির আগের দিন মাইকেল স্কোয়াব ও ফিলডেনের মৃত্যুদণ্ড রদ করা হয়। অস্কার নিবের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল থাকে। বাইশ বছরের শ্রমিক লুই লিংগকে পাওয়া গেল সেলে মৃত অবস্থায়। আর ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হলো অগাস্ট স্পাইজ, আলবার্ট পারসন্স, জর্জ এনজেল ও এডলফ ফিশারকে। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে এলবার্ট পারসন্স বলতে শুরু করেন ‘হে আমেরিকার মানুষ, আমাকে বলতে দাও/মহামান্য শেরিফ, আমাকে বলতে দিন, জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা হোক.................’। কিন্তু ততক্ষণে সরে গেছে পাটাতন।
১৮৮৮ সালের ডিসেম্বরে আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার প্রতিবছর পয়লা মে মার্কিন শ্রমিক শ্রেণির মিছিল সমাবেশের দিন হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়। পরের বছর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের শতবার্ষিকী দিবসে প্যারিসে সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পয়লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক বিক্ষোভের দিন হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। শিল্প শ্রমিকরা আজ সর্বত্রই ট্রেড ইউনিয়নে সংগঠিত। সেখানেও আছে দ্বেষ, হিংসা, রেষারেষি, সংঘর্ষ। আন্তর্জাতিক সংহতিবোধ তো দুরস্থান, একটি কারখানার, এমন কি একই ওয়ার্কশপের শ্রমিকও পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করা প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়নভুক্ত শ্রমিকটির জন্য কোনও সহমর্মিতা বোধ করে না- এমনটি দেখা যায়।
দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়েছে শ্রমিক শ্রেণি। বৈষম্যমূলক বিশ্বব্যবস্থায় অন্য মানুষদের জীবনে যে দুর্গতি , তা থেকে শ্রমিক শ্রেণি বিচ্ছিন্ন নয়। উনিশ শতক, বিশ শতক পেরিয়ে শ্রমিক শ্রেণি তার অধিকার পেয়েছে। কিন্তু সংহত করতে পেরেছে কিনা, তা অবশ্যই পর্যবেক্ষণলব্ধ। ‘মে দিনের কবিতা’য় কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় আহবান জানিয়েছিলেন, “প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য/ ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,/ চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য/ কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।”
লেখক : কবি ও সাহিত্যিক
[email protected]
