তরুণ সমাজ কি হতাশ

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৮
তরুণ সমাজ হতাশাগ্রস্ত জাতির আশার আলো তরুণ সমাজ দেশ ও জাতির কাণ্ডারি, আগামী দিনের কর্ণধার। তরুণদের রক্ত ছাড়া দেশে কোন আন্দোলন-সংগ্রামের সফলতা আসেনি। আন্দোলন সংগ্রাম ও দেশপ্রেমে তরুণদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। তারুণ্য মানে নব উদ্যমে জেগে ওঠা, শত বাধা-বিপত্তি, চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে সামনে এগিয়ে চলা। তরুণরাই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে, পরাজয়কে জয় করতে। তরুণ সমাজ হল হতাশাগ্রস্ত জাতির আশার আলো। সেই আশার আলো বিকিয়ে তরুণ সমাজ জাতির ভাগ্য উন্নয়নে ও দেশ গঠনে অঙ্গীকারাবদ্ধ। শত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য তরুণ সমাজের আছে। জাতি তরুণদের নিয়ে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। তরুণদের ঘিরে দেশ ও জাতির চাওয়া-পাওয়া অনেক। কাজেই তরুণ সমাজ হতাশ নয়। বরং তারা হতাশাগ্রস্ত জাতির নেতৃত্বের হাল ধরতে প্রস্তুত। কারণ, তরুণ সমাজই যদি হতাশ হয়, তাহলে হতাশাগ্রস্ত জাতির নেতৃত্বের হাল ধরবে কারা? এম.ই. হোসেন বিএ (অনার্স), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া-৭০০৩ তরুণ সমাজই হলো জাতির ভবিষ্যত্ প্রবাদে বলে, তরুণ বা যুব সমাজই হলো জাতির ভবিষ্যত্। প্রবাদটা মুখে বলেই পার পেয়ে যাই সবাই। ঐ একটি প্রবাদ দিয়েই তরুণ সমাজকে খুশি রেখেছে এ দেশের উপরমহলের লোকজন। অথচ, তারাই দেশকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে তরুণ সমাজকে হতাশায় ফেলছে। দেশ পরিচালনার গুরু দায়িত্ব বহন করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। অথচ দলগুলোই নিজেদের নেতা-কর্মীদেরকে দেশ ও জাতীর কাছে বিশেষভাবে পরিচয় করে দিতে গিয়ে, দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাসকে, স্বাধীনতার মুক্তিযোদ্ধাকে বিকৃতি করে, তরুণ সমাজকে সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। অপসংস্কৃতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ইতিহাস বিকৃতি নানা কারণেই তরুণ সমাজ আজ চরমভাবে হতাশ। অনেক ক্ষেত্রেই অযোগ্য লোক দিয়ে প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে থাকা দরকার এদেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজ। এই তরুণ সমাজকে যতটুকু সুবিধা দেয়ার, যতটুকু কাজে লাগানোর দরকার, তার কোনটাই হচ্ছে না। ধরি, মাছ না ছুঁই পানি, এ নীতিতেই তরুণ সমাজকে দূরে সরিয়ে রাখছে। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রেই তরুণদের কোন ভূমিকাই নেই। তাহলে এই তরুণ সমাজ হতাশায় পড়বে না কেন? তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে টিকিয়ে রাখতে হলে, দেশ জাতিকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে হলে, হতাশার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে, অবশ্যই তাদের চাহিদা ও মেধাকে যথেষ্ট উপযোগী ও টেকসই করে তুলতে হবে। তাদের সঠিক মতামতের প্রাধান্য দিতে হবে। মো. নূরুল ইসলাম (নাহিদ) বি.এস.সি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ধানমণ্ডি, ঢাকা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তরুণরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে দেশে ক্রমবর্ধমান শিক্ষার হার বৃদ্ধির সাথে সাথে সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। প্রতিটি শিক্ষার্থী পড়াশুনা শেষ করে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছে না ফলে বেকার সমস্যায় ভুগছে। এছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য সারাদেশে সন্ত্রাস, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, চাকরি ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে অনেক মেধাবী তরুণ হতাশ হচ্ছে। এর ফলে তরুণরা নানাভাবে সন্ত্রাস ও অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তবে তরুণরা জানে কিভাবে হতাশাকে মোকাবিলা করতে হয়, কিন্তু তাদের হতাশাকে জয় করার ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা একান্ত কাম্য, সর্বোপরি সরকারকে তরুণদের প্রতি আরো দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে হবে। তরুণরাই দেশের প্রাণ। তাই তাদের প্রাপ্যটুকু সরকারকে দিতে হবে, তবেই তারা হতাশামুক্ত হবে। রাজীব কুন্ডু ইতিহাস বিভাগ, সম্মান তৃতীয় বর্ষ, ঢাকা কলেজ ঢাকা তরুণদেরকেই তাদের ভবিষ্যত্ ঠিক করে নিতে হবে তরুণ সমাজই একটি দেশের অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। একটি দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নির্ভর করে উন্নয়নশীল কাজে তরুণদের যথাযথ অংশগ্রহণের উপর। আমাদের দেশের সকল অর্জনেই তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম। ৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে এভারেস্ট সর্বোচ্চ চূড়ায় বিচরণ সব কিছুই তরুণদের জয় জয়কার ঘোষণা করে। কিন্তু বর্তমান সামগ্রিক পারিপার্শ্বিক অবস্থা তরুণ সমাজকে তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের পথ থেকে করছে। কোন এক রহস্যময় শক্তি আমাদের তরুণ সমাজকে গ্রাস করে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বেকারত্ব, মাদকের সহজপ্রাপ্ত, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, দুর্নীতি এসবকিছু প্রতিনিয়ত তরুণ সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সামাজিক ব্যাধিগুলো আমাদের সমাজের প্রাণ তরুণদের জীবনকে বিষাদময় করে তুলেছে। হতাশার কারণে দেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে, তরুণ সমাজকে হতাশার সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে। মো. মাসুম আব্দুল্লাহ শহীদ নাজমুল আহসান হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন